ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

বদলগাছীতে ছাগলকান্ডের ঘটনায় নতুন মোড়, নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ

 

মোহাম্মদ সুমন হোসাইনঃ
বদলগাছী,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি অসুস্থ ছাগলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাটকীয়তা, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ঘটনার নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ছাগল হত্যার অভিযোগ তুলে ধরলেও তদন্তে এর সত্যতা পায়নি পুলিশ। উল্টো অসুস্থ ছাগলের স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যাকান্ড হিসেবে প্রচার করে ওই কর্মচারীকে ফাঁসিয়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অভিযোগকারী গৃহবধূর বিরুদ্ধে।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বদলগাছী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় একটি মৃত ছাগল ও ছাগলের দুটি বাচ্চা নিয়ে এসে কান্নাকাটি করেন বিলাসবাড়ী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম।
তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুর রশিদ ছাগলটির পেটে লাথি মারায় সেটি মারা গেছে।
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বদলগাছী থানায় আব্দুর রশিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তার গরু ও ছাগল মারধর করেন। এতে একটি ছাগল গুরুতর আহত হয়ে পরের দিন মারা যায়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবী করেন তিনি।

তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে উল্লেখিত দুই সাক্ষীর একজন ইউপি সদস্য ও এক গ্রাম্য পশু চিকিৎসক ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। তাদের দাবি, ছাগলটি আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিলো এবং স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছে। থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পেলেও এনিয়ে কয়েক দফায় আব্দুর রশিদের সঙ্গে দফারফার চেষ্টা চালান ফাতেমা বেগম। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌক্তি এক সালিশে রায় দেওয়া হয় নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানার।

গ্রাম্য পশু চিকিৎসক রেজাউল করিম বলেন, ছাগলটি বাচ্চা দেওয়ার আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিল। ওইদিন ডাকার পর গিয়ে তিনি সেটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পান। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কেউ লাথি মারা অথবা অন্য কোন আঘাতের ঘটনায় মৃত্যু হলে অবশ্যই শরীরে আঘাতের চিহ্ন অথবা নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত থাকতো। অসুস্থতার কারণেই ছাগলটির মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালুজ্জামান বলেন, ভাইরাল ভিডিওতে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। লাথি মারার ঘটনায় ছাগলের মৃত্যু হওয়া অযৌক্তিক। দুইপক্ষই নিজেদের প্রতিবেশী হওয়ায় ৫ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে আপোষ মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরিমানার টাকা এখনো আদায় হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ইউএনও অফিসে এসে কান্নাকাটির ঘটনাটিও পরিকল্পিত ছিলো। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে প্রথমে তার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। যা পরে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকায় নামানো হয়। তবে তিনি কোনো অর্থ দেননি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাতেমা বেগম। তার দাবি, সুস্থ ছাগলটিকে লাথি মারায় সেটি মারা গেছে। পরে তিনি বিষয়টি জানাতে ইউএনও কার্যালয়ে যান এবং থানায় অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান বলেন, ছাগল হত্যার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছে বলে জানতে পেরেছি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

বদলগাছীতে ছাগলকান্ডের ঘটনায় নতুন মোড়, নেপথ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ

আপডেট টাইম : ০৯:২৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

 

মোহাম্মদ সুমন হোসাইনঃ
বদলগাছী,নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি অসুস্থ ছাগলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নাটকীয়তা, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক ঘটনার নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে ছাগল হত্যার অভিযোগ তুলে ধরলেও তদন্তে এর সত্যতা পায়নি পুলিশ। উল্টো অসুস্থ ছাগলের স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যাকান্ড হিসেবে প্রচার করে ওই কর্মচারীকে ফাঁসিয়ে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অভিযোগকারী গৃহবধূর বিরুদ্ধে।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে বদলগাছী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় একটি মৃত ছাগল ও ছাগলের দুটি বাচ্চা নিয়ে এসে কান্নাকাটি করেন বিলাসবাড়ী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম।
তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুর রশিদ ছাগলটির পেটে লাথি মারায় সেটি মারা গেছে।
ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বদলগাছী থানায় আব্দুর রশিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে তিনি দাবি করেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তার গরু ও ছাগল মারধর করেন। এতে একটি ছাগল গুরুতর আহত হয়ে পরের দিন মারা যায়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে দাবী করেন তিনি।

তবে সরেজমিনে অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে উল্লেখিত দুই সাক্ষীর একজন ইউপি সদস্য ও এক গ্রাম্য পশু চিকিৎসক ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। তাদের দাবি, ছাগলটি আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিলো এবং স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছে। থানা পুলিশ অভিযোগের সত্যতা না পেলেও এনিয়ে কয়েক দফায় আব্দুর রশিদের সঙ্গে দফারফার চেষ্টা চালান ফাতেমা বেগম। স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে নিয়ে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে অযৌক্তি এক সালিশে রায় দেওয়া হয় নগদ ৫ হাজার টাকা জরিমানার।

গ্রাম্য পশু চিকিৎসক রেজাউল করিম বলেন, ছাগলটি বাচ্চা দেওয়ার আগে থেকেই অসুস্থ্য ছিল। ওইদিন ডাকার পর গিয়ে তিনি সেটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পান। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না। কেউ লাথি মারা অথবা অন্য কোন আঘাতের ঘটনায় মৃত্যু হলে অবশ্যই শরীরে আঘাতের চিহ্ন অথবা নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার আলামত থাকতো। অসুস্থতার কারণেই ছাগলটির মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালুজ্জামান বলেন, ভাইরাল ভিডিওতে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। লাথি মারার ঘটনায় ছাগলের মৃত্যু হওয়া অযৌক্তিক। দুইপক্ষই নিজেদের প্রতিবেশী হওয়ায় ৫ হাজার টাকা জরিমানার মাধ্যমে আপোষ মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরিমানার টাকা এখনো আদায় হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ইউএনও অফিসে এসে কান্নাকাটির ঘটনাটিও পরিকল্পিত ছিলো। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে প্রথমে তার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। যা পরে কমিয়ে পাঁচ হাজার টাকায় নামানো হয়। তবে তিনি কোনো অর্থ দেননি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাতেমা বেগম। তার দাবি, সুস্থ ছাগলটিকে লাথি মারায় সেটি মারা গেছে। পরে তিনি বিষয়টি জানাতে ইউএনও কার্যালয়ে যান এবং থানায় অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লুৎফর রহমান বলেন, ছাগল হত্যার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে কারও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছে বলে জানতে পেরেছি।


প্রিন্ট