ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

ফুলবাড়ীতে প্রবাসীর একাধিক ‘মোবাইলে বিয়ে’ নিয়ে তোলপাড়, মানববন্ধন

রুহুল আমিন রুকু,

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোনে বিয়ে এবং একাধিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার (সকাল ১১টায়) অভিযুক্ত বরের বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বরের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন নিয়ে “বর তুমি কার?” স্লোগান দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়লই জকরিয়া টারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির দ্বিতীয় ছেলে বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে রয়েছেন। প্রবাসে অবস্থানকালে তিনি একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে জিম খাতুনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জিম খাতুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েটি কোনো কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি না হলেও, ভিডিও কলের মাধ্যমে বরের পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং দেশে ফিরে সংসার শুরু করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।

তবে এর মধ্যেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সামনে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবু মিয়া বিদেশে থাকা অবস্থায় পার্শ্ববর্তী নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও একইভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছেন। তিনিও একজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, “মোবাইল বিয়ের নামে প্রতারণা ও একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বড়লই গ্রামের ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুঃখজনক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের নামে একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ সত্য , বিষয়টি সামাজিক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পুরো এলাকায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

ফুলবাড়ীতে প্রবাসীর একাধিক ‘মোবাইলে বিয়ে’ নিয়ে তোলপাড়, মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ০৬:২৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রুহুল আমিন রুকু,

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় মোবাইল ফোনে বিয়ে এবং একাধিক সম্পর্কের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রোববার (সকাল ১১টায়) অভিযুক্ত বরের বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বরের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন নিয়ে “বর তুমি কার?” স্লোগান দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়লই জকরিয়া টারী গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির দ্বিতীয় ছেলে বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাই প্রবাসে রয়েছেন। প্রবাসে অবস্থানকালে তিনি একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে জিম খাতুনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জিম খাতুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েটি কোনো কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে রেজিস্ট্রি না হলেও, ভিডিও কলের মাধ্যমে বরের পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং দেশে ফিরে সংসার শুরু করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।

তবে এর মধ্যেই একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ সামনে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবু মিয়া বিদেশে থাকা অবস্থায় পার্শ্ববর্তী নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও একইভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছেন। তিনিও একজন শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।

এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, “মোবাইল বিয়ের নামে প্রতারণা ও একাধিক সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া জরুরি। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে বড়লই গ্রামের ইউপি সদস্য মাহবুল হক খন্দকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দুঃখজনক। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের নামে একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ সত্য , বিষয়টি সামাজিক ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি পুরো এলাকায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


প্রিন্ট