ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

মার্কিন অবরোধকে সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলল ইরান

 ইরানি বন্দর ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম হুমকির মুখে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সোমবার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি’র হাতে আসা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সমুদ্রপথে এই অবরোধ আরোপ করা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতার ওপর এক গুরুতর আঘাত।’

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরাভানি এই অবরোধকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে আরও বলেন, এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতিগুলোরও পরিপন্থী।

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দর ও উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধের নির্দেশ দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো ইরানি জাহাজ এই অবরোধ চ্যালেঞ্জ করলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

কয়েক দিন আগেই পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও জিএমটি সময় সোমবার ১৪টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনও যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।

এদিকে, ইরান এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সোমবার তিনি ‘সব পক্ষকে’ এই পথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় একে অপরের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টায় এই জলপথটি এখন সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে সতর্ক করেছেন, এই ‘অবৈধ’ অবরোধ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং এটি উত্তপ্ত এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অপর এক চিঠিতে ইরানি দূত মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এই ‘আন্তর্জাতিক বেআইনি’ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।

ইরাভানি বলেন, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানকে ইরানের সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

মার্কিন অবরোধকে সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলল ইরান

আপডেট টাইম : ১২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

 ইরানি বন্দর ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম হুমকির মুখে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সোমবার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি’র হাতে আসা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সমুদ্রপথে এই অবরোধ আরোপ করা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতার ওপর এক গুরুতর আঘাত।’

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরাভানি এই অবরোধকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে আরও বলেন, এটি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের মৌলিক নীতিগুলোরও পরিপন্থী।

শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দর ও উপসাগরীয় উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধের নির্দেশ দেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কোনো ইরানি জাহাজ এই অবরোধ চ্যালেঞ্জ করলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।

কয়েক দিন আগেই পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও জিএমটি সময় সোমবার ১৪টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এখনও যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।

এদিকে, ইরান এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। সোমবার তিনি ‘সব পক্ষকে’ এই পথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতির আলোচনায় একে অপরের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টায় এই জলপথটি এখন সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে সতর্ক করেছেন, এই ‘অবৈধ’ অবরোধ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি এবং এটি উত্তপ্ত এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অপর এক চিঠিতে ইরানি দূত মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এই ‘আন্তর্জাতিক বেআইনি’ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।

ইরাভানি বলেন, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানকে ইরানের সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।


প্রিন্ট