ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

কৃষকের ঝুঁকি কমাতে বিকল্প ফসল ব্যবস্থার পরামর্শ সার্ক কৃষি কেন্দ্রের

 কৃষকদের ঝুঁকি কমাতে জলবায়ু-সহনশীল বিকল্প ফসল ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে একটি ওয়েবিনার আয়োজন করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র।

আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দেড় শতাধিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনেরা অংশ নেন।

ওয়েবিনারের শুরুতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ক্রপস) ড. সিকান্দার খান তানভীর স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু ও বাড়তি অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষায় অভিযোজনযোগ্য ও টেকসই ফসল ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ এবং ভারতের আইসিএআর-আইআইএফএসআর’র সিনিয়র বিজ্ঞানী (এগ্রোনমি) ড. মেরাজ আলম আনসারি।

ড. মো. হারুনূর রশীদ তার বক্তব্যে ফসল ব্যবস্থার সঙ্গে মূল্য শৃঙ্খলের সংযোগ এবং খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দৈনিক, মাসিক ও মৌসুমি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কৃষকদের স্থানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

তিনি আরও জানান, জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি নির্ভুল কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে। ড্রোন ও বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে পানি ও সারের অপচয় কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আধুনিক কৃষিযান্ত্রিকীকরণ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহায়ক বলে তিনি মত দেন।

ড. মেরাজ আলম আনসারি কৃষকদের সামনে থাকা বহুমুখী ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে বলেন, খরা, অতিরিক্ত তাপ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও বন্যার মতো জলবায়ুগত ঝুঁকি ছাড়াও বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও বাধ্যতামূলক কম দামে বিক্রির সমস্যা রয়েছে। এছাড়া খ-িত জমি, স্বল্প যান্ত্রিকীকরণ, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পোকামাকড় ও রোগবালাই এবং পানি সংকট ও মাটির উর্বরতা হ্রাসও বড় চ্যালেঞ্জ।

ওয়েবিনারের শেষাংশে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী বক্তব্যে নেপালের সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কৃষি খাতে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাই কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধান উদ্ভাবনে যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নীতিগত সমন্বয় জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

কৃষকের ঝুঁকি কমাতে বিকল্প ফসল ব্যবস্থার পরামর্শ সার্ক কৃষি কেন্দ্রের

আপডেট টাইম : ০৫:০৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

 কৃষকদের ঝুঁকি কমাতে জলবায়ু-সহনশীল বিকল্প ফসল ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে একটি ওয়েবিনার আয়োজন করেছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র।

আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ওয়েবিনারে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের দেড় শতাধিক বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনেরা অংশ নেন।

ওয়েবিনারের শুরুতে সার্ক কৃষি কেন্দ্রের সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ক্রপস) ড. সিকান্দার খান তানভীর স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু ও বাড়তি অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে কৃষকদের জীবিকা সুরক্ষায় অভিযোজনযোগ্য ও টেকসই ফসল ব্যবস্থার বিকল্প নেই।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ এবং ভারতের আইসিএআর-আইআইএফএসআর’র সিনিয়র বিজ্ঞানী (এগ্রোনমি) ড. মেরাজ আলম আনসারি।

ড. মো. হারুনূর রশীদ তার বক্তব্যে ফসল ব্যবস্থার সঙ্গে মূল্য শৃঙ্খলের সংযোগ এবং খামার থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দৈনিক, মাসিক ও মৌসুমি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা কৃষকদের স্থানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে।

তিনি আরও জানান, জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি নির্ভুল কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে। ড্রোন ও বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহারের মাধ্যমে পানি ও সারের অপচয় কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আধুনিক কৃষিযান্ত্রিকীকরণ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহায়ক বলে তিনি মত দেন।

ড. মেরাজ আলম আনসারি কৃষকদের সামনে থাকা বহুমুখী ঝুঁকির চিত্র তুলে ধরে বলেন, খরা, অতিরিক্ত তাপ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও বন্যার মতো জলবায়ুগত ঝুঁকি ছাড়াও বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও বাধ্যতামূলক কম দামে বিক্রির সমস্যা রয়েছে। এছাড়া খ-িত জমি, স্বল্প যান্ত্রিকীকরণ, আর্থিক সীমাবদ্ধতা, পোকামাকড় ও রোগবালাই এবং পানি সংকট ও মাটির উর্বরতা হ্রাসও বড় চ্যালেঞ্জ।

ওয়েবিনারের শেষাংশে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী বক্তব্যে নেপালের সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কৃষি খাতে অভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাই কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধান উদ্ভাবনে যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন। জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং নীতিগত সমন্বয় জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।


প্রিন্ট