ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম পটুয়াখালীতে পিকআপ ভ্যান থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার

পিরোজপুরে ১৭ বছর অনুপস্থিত থেকে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা,রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের সন্তান হওয়ার কারণে চাচ্ছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী হতে চাওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। মরজিয়া সুলতানা পনু নামের এই নারী পিরোজপুরের মেয়ে হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জেলার কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেননি, কোনো নেতা-কর্মীর খোঁজখবর রাখেননি। স্থানীয়দের দাবি, পিরোজপুরের অধিকাংশ মানুষই তাকে চেনেন না।

পটভূমি: স্বামীর রাজনীতি আর নিজের অনুপস্থিতি

মরজিয়া সুলতানা পনুর বাপের বাড়ি পিরোজপুর, তবে শশুর বাড়ি লালমনিরহাট। তার স্বামী মাহাবুবুল আলম মিঠু একজন দলবদলু নেতা—প্রথমে সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে লালমনিরহাট যুবদলের সভাপতি হন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি এই পদে ছিলেন। পরবর্তীতে হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন, তবে সেখানে হেরে যান। বর্তমানে মিঠু জাতীয় পার্টিতেই আছেন।

পণু একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এবং শামসুন্নাহার হলে থাকতেন। সূত্র জানায়, ঢাকা শহরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত তিনি এমএ পাস করতে পারেননি।

পিরোজপুরের মানুষ চেনেন না যাকে, তিনিই হবেন প্রার্থী?

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—যে নারী দীর্ঘ ১৭ বছর পিরোজপুরের কোনো সংগ্রামের মাঠে ছিলেন না, কোনো আন্দোলনে অংশ নেননি, কোনো কর্মীর খোঁজ নেননি, তাকে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ চেনে না—কীভাবে তিনি এ জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হতে চান? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনটি দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তির যোগ্যতা ও জনসংযোগ পরীক্ষা করা জরুরি। পনুর মতো অনুপস্থিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থানীয়দের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পনু বা তার স্বামীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই প্রার্থীতা ঘিরে পিরোজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ

পিরোজপুরে ১৭ বছর অনুপস্থিত থেকে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা,রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক

আপডেট টাইম : ১০:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের সন্তান হওয়ার কারণে চাচ্ছে সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থী হতে চাওয়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা সমালোচনা। মরজিয়া সুলতানা পনু নামের এই নারী পিরোজপুরের মেয়ে হলেও দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জেলার কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেননি, কোনো নেতা-কর্মীর খোঁজখবর রাখেননি। স্থানীয়দের দাবি, পিরোজপুরের অধিকাংশ মানুষই তাকে চেনেন না।

পটভূমি: স্বামীর রাজনীতি আর নিজের অনুপস্থিতি

মরজিয়া সুলতানা পনুর বাপের বাড়ি পিরোজপুর, তবে শশুর বাড়ি লালমনিরহাট। তার স্বামী মাহাবুবুল আলম মিঠু একজন দলবদলু নেতা—প্রথমে সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে লালমনিরহাট যুবদলের সভাপতি হন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি এই পদে ছিলেন। পরবর্তীতে হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন, তবে সেখানে হেরে যান। বর্তমানে মিঠু জাতীয় পার্টিতেই আছেন।

পণু একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এবং শামসুন্নাহার হলে থাকতেন। সূত্র জানায়, ঢাকা শহরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত তিনি এমএ পাস করতে পারেননি।

পিরোজপুরের মানুষ চেনেন না যাকে, তিনিই হবেন প্রার্থী?

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—যে নারী দীর্ঘ ১৭ বছর পিরোজপুরের কোনো সংগ্রামের মাঠে ছিলেন না, কোনো আন্দোলনে অংশ নেননি, কোনো কর্মীর খোঁজ নেননি, তাকে পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ চেনে না—কীভাবে তিনি এ জেলার সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী হতে চান? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংরক্ষিত আসনটি দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যক্তির যোগ্যতা ও জনসংযোগ পরীক্ষা করা জরুরি। পনুর মতো অনুপস্থিত প্রার্থীর মনোনয়ন স্থানীয়দের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পনু বা তার স্বামীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই প্রার্থীতা ঘিরে পিরোজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।


প্রিন্ট