ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্ম উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী সুনামগঞ্জে জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে দোকানের গোডাউনের তালা ভেঙে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরির মামলায় এক যুবক আটক ‎ সাব্বাস ট্রাফিক পুলিশ নবীপ্রেমে আদাবর ১০ নম্বর এলাকায় মিলাদ মাহফিল, আয়োজনে বশির মাইজভান্ডারী শিবপুরে তৃনমুল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়ার চিহ্নিত করন, ও বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত জমি জালিয়াতি, বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ; পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন কালিয়াকৈরে শিয়ালের কামড়ে নারী- শিশুসহ আহত ২০ ময়মনসিংহে আয়কর ভ্যাট সেবা কেন্দ্রের শুভ উদ্বোধন সমাজ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে সর্তক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভূরুঙ্গামারীতে তহশিলদারে্র বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত কাজে ঘুষ ছাড়া কোনো আবেদন নিষ্পত্তি করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, তার একটি নামজারি আবেদন ঘুষ না দেওয়ায় নামঞ্জুর করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ৫ হাজার টাকা প্রদান ও বাকি টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল দলিল নিজের কাছে রেখে দেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে একই কর্মকর্তার কাছে তার মায়ের একটি জমির নামজারি করতে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘোরানোর পর কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া জমির খাজনা ২০২১ সাল পর্যন্ত পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও ৩৫ বছরের বকেয়া দেখিয়ে দাখিলা প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কলরেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে

সরেজমিনে গিয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই কর্মকর্তা নিয়মিত হয়রানি ও দুর্ব্যবহার করেন এবং ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। ফলে ভূমি সেবা নিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অভিযোগকারী আমার আত্মীয় (জামাই)। আমি তার কাছে টাকা চাইতে পারি না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তবে জমির খাজনা পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া দেখানোর বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা হোক।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্ম উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী

ভূরুঙ্গামারীতে তহশিলদারে্র বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৪:৫০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, হয়রানি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার নামজারি (খারিজ) সংক্রান্ত কাজে ঘুষ ছাড়া কোনো আবেদন নিষ্পত্তি করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী জানান, তার একটি নামজারি আবেদন ঘুষ না দেওয়ায় নামঞ্জুর করা হয়। পরে যোগাযোগ করলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ৫ হাজার টাকা প্রদান ও বাকি টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে আবেদনটি মঞ্জুর করা হয়, তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল দলিল নিজের কাছে রেখে দেন ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে একই কর্মকর্তার কাছে তার মায়ের একটি জমির নামজারি করতে ৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ঘোরানোর পর কাজটি সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া জমির খাজনা ২০২১ সাল পর্যন্ত পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও ৩৫ বছরের বকেয়া দেখিয়ে দাখিলা প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের কলরেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে

সরেজমিনে গিয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই কর্মকর্তা নিয়মিত হয়রানি ও দুর্ব্যবহার করেন এবং ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ করেন না। ফলে ভূমি সেবা নিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অভিযোগকারী আমার আত্মীয় (জামাই)। আমি তার কাছে টাকা চাইতে পারি না। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তবে জমির খাজনা পরিশোধিত থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া দেখানোর বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, স্থানীয়দের দাবি—দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভূমি সেবায় অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা হোক।


প্রিন্ট