ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আহত ৬; বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই

জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবারের এই ভূমিকম্পের পর সর্বোচ্চ ৮০ সেন্টিমিটার (৩১ ইঞ্চি) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সোমবার উত্তরাঞ্চলের ইওয়াতে প্রিফেকচার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পর জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ৮ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার মেগাকম্পনের ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্কবার্তা দেয়।

কম্পনটি এতটাই তীব্র ছিল যে উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে রাজধানী টোকিওর বহুতল ভবনগুলো পর্যন্তও কেঁপে ওঠে।

ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফডিএমএ) এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তবে কোনো অগ্নিকা- বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

জাপান সর্বোচ্চ তিন মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামির সতর্কবার্তা জারি করেছিল। তবে ইওয়াতের কুজি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। উত্তর জাপানের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ে।

জেএমএ জানায়, ‘নতুন করে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন তুলনামূলকভাবে বেশি।’

অন্যদিকে এফডিএমএ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পৌরসভাগুলো ১ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত।

প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সাধারণত বছরে প্রায় দেড় হাজার কম্পন অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ ঘটে জাপানে, যার বেশিরভাগই মৃদু মাত্রার। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে অবস্থান ও ভূগর্ভের কত গভীরে কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে তার ওপর।

২০১১ সালে ৯ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও জাপানিদের তাড়া করে বেড়ায়। সেসময় সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ঘটে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে আহত ৬; বড় ক্ষয়ক্ষতি নেই

আপডেট টাইম : ০২:৫৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জাপানের উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবারের এই ভূমিকম্পের পর সর্বোচ্চ ৮০ সেন্টিমিটার (৩১ ইঞ্চি) পর্যন্ত উচ্চতার সুনামি ঢেউ আছড়ে পড়ে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সোমবার উত্তরাঞ্চলের ইওয়াতে প্রিফেকচার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কয়েক ঘণ্টা পর জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ৮ বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার মেগাকম্পনের ঝুঁকি বেড়েছে বলে সতর্কবার্তা দেয়।

কম্পনটি এতটাই তীব্র ছিল যে উৎপত্তিস্থল থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরে রাজধানী টোকিওর বহুতল ভবনগুলো পর্যন্তও কেঁপে ওঠে।

ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (এফডিএমএ) এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তবে কোনো অগ্নিকা- বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

জাপান সর্বোচ্চ তিন মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামির সতর্কবার্তা জারি করেছিল। তবে ইওয়াতের কুজি বন্দরে ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। উত্তর জাপানের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট ঢেউ আছড়ে পড়ে।

জেএমএ জানায়, ‘নতুন করে বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন তুলনামূলকভাবে বেশি।’

অন্যদিকে এফডিএমএ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের পৌরসভাগুলো ১ লাখ ৮২ হাজারেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর পশ্চিম প্রান্তে চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের ওপর অবস্থিত।

প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সাধারণত বছরে প্রায় দেড় হাজার কম্পন অনুভূত হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ ঘটে জাপানে, যার বেশিরভাগই মৃদু মাত্রার। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে অবস্থান ও ভূগর্ভের কত গভীরে কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে তার ওপর।

২০১১ সালে ৯ মাত্রার এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের স্মৃতি এখনও জাপানিদের তাড়া করে বেড়ায়। সেসময় সৃষ্ট সুনামিতে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্রে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয় বিপর্যয় ঘটে।


প্রিন্ট