ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ আয়োজন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার খাতকে পুঁজি করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কথিত ভুয়া সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভুয়া ও নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈধ কোনো অনুমোদন বা নিবন্ধন ছাড়াই সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই কৌশলে নতুন করে আবারও একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত “সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন” শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে নামাজ ও খাবারের বিরতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে একজন the daily star এর সাব-এডিটরের নাম এবং দ্বিতীয় প্রশিক্ষক হিসেবে একজন অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করা হলেও, তাদের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আয়োজক হিসেবে কয়েকটি কথিত প্রতিষ্ঠান—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল এবং একটি অনিবন্ধিত দৈনিক বাংলার সংবাদ পত্রিকার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই বৈধতা ও নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের নামে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো স্বীকৃত সনদ বা বাস্তব সুযোগ দেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে এত অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বৈধ নিবন্ধন ও অনুমোদন থাকতে হয়। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম প্রতারণার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাঁরা আরও বলেন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ আয়োজন করে অর্থ আদায় বা প্রতারণা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০, ৪০৬, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন বা সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করা উচিত এবং আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকতে হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ আয়োজন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট টাইম : ০৮:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার খাতকে পুঁজি করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে কথিত ভুয়া সাংবাদিক মোঃ আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভুয়া ও নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করে আসছেন তিনি।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৈধ কোনো অনুমোদন বা নিবন্ধন ছাড়াই সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রশিক্ষণের নামে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই কৌশলে নতুন করে আবারও একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৩ মে ২০২৬, শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত “সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন” শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে নামাজ ও খাবারের বিরতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে একজন the daily star এর সাব-এডিটরের নাম এবং দ্বিতীয় প্রশিক্ষক হিসেবে একজন অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করা হলেও, তাদের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আয়োজক হিসেবে কয়েকটি কথিত প্রতিষ্ঠান—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন কাউন্সিল এবং একটি অনিবন্ধিত দৈনিক বাংলার সংবাদ পত্রিকার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে অনুসন্ধানে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেরই বৈধতা ও নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের নামে অর্থ নেওয়া হলেও পরবর্তীতে কোনো স্বীকৃত সনদ বা বাস্তব সুযোগ দেওয়া হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া পরিচয়পত্র দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এদিকে এত অভিযোগ ওঠার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই বৈধ নিবন্ধন ও অনুমোদন থাকতে হয়। অন্যথায় এ ধরনের কার্যক্রম প্রতারণার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাঁরা আরও বলেন, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ আয়োজন করে অর্থ আদায় বা প্রতারণা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০, ৪০৬, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোম্পানি আইন বা সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো প্রশিক্ষণ বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে অবশ্যই তার বৈধতা যাচাই করা উচিত এবং আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকতে হবে।


প্রিন্ট