নিজস্ব প্রতিবেদক : বোয়ালমারী, ফরিদপুরঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার মাঝকান্দি–ভাটিয়াপাড়া সড়কের সাতৈর বাইপাস অংশকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জমি অধিগ্রহণ ও লিজের অর্থ পরিশোধ না হওয়ার জটিলতা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে সড়ক নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের একটি বড় অংশ এখনো তাদের প্রাপ্য লিজের টাকা পাননি। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিজেদের জমির অধিকার বোঝাতে কেউ গাছ রোপণ, কেউ বাঁশের বেড়া নির্মাণ, আবার কেউ কলাগাছ ফেলে জমির সীমানা চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন।

এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ উঠেছে, ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা খন্দকার নাসীরুল ইসলাম একটি দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের ওপর প্রভাব খাটান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ করেন, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভুক্তভোগীদের তৈরি করা বেড়া, গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনা জোরপূর্বক অপসারণ করান। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের কারণে পরিস্থিতি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে আইন যেন দিন দিন দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, সড়ক ও জনপদ বিভাগের বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে অন্তত ২১টি পরিবারকে বঞ্চিত করে তা আত্মসাতের একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে এমন কথাও প্রচলিত রয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কিছু অসাধু কর্মকর্তা যোগসাজশের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবে এলাকাজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানিয়েছেন, তারা বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। উল্টো দাবি আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, এমনকি মিথ্যা মামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















