ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

প্রধানমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল ৩ হাজারের বেশি গাছ

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় গাছ না কেটে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তাঁর নির্দেশনায় কক্সবাজারে তিন হাজারেরও বেশি গাছ না কেটেই নির্মাণ করা হচ্ছে মেরিন ড্রাইভের চার লেনের সড়কটি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের বৃহত্তর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় মেরিন ড্রাইভের কলাতলী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। কাজ শুরুর পরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন হাজারেরও বেশি গাছ কাটার আশঙ্কার খবর প্রকাশিত হয়।

খবরটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং একটি গাছও না কেটে সড়ক সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা পেয়ে সেতুমন্ত্রী গাছ না কেটে সংশ্লিষ্টদের সড়ক সম্প্রসারণের কথা বলেন।

এরপর গত ২১ এপ্রিল সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব সেখানে গিয়ে গাছ না কেটে মেরিন ড্রাইভের সড়ক সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সঙ্গে সঙ্গেই গাছ না কাটার কথা বলেছি। পরে আমরা সরেজমিনে গিয়েছি এবং প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজের এলাইনমেন্ট সামান্য পরিবর্তন করে গাছগুলোকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে শুধু গাছ কাটা রোধ করা হয়নি, বরং পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও সৌন্দর্যবান্ধব, পরিবেশবান্ধব এবং পর্যটকবান্ধব করার জন্য রাস্তার দুই পাশে নতুনভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে আমাদের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, একই সাথে পরিবেশ সংরক্ষণের দৃষ্টিভঙ্গিও অনুসরণ করা।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি শুধু গাছ সংরক্ষণের বিষয় নয়, আমরা মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। এর ফলে শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য জায়গাতেও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য নতুন উদাহরণ সৃষ্টি হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের মধ্যে সড়ক প্রশস্তকরণ, সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকৃতি রক্ষার এমন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্যও নতুন বার্তা দিচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

প্রধানমন্ত্রীর এক সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল ৩ হাজারের বেশি গাছ

আপডেট টাইম : ০১:০০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় গাছ না কেটে সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তাঁর নির্দেশনায় কক্সবাজারে তিন হাজারেরও বেশি গাছ না কেটেই নির্মাণ করা হচ্ছে মেরিন ড্রাইভের চার লেনের সড়কটি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরাং জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের বৃহত্তর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় মেরিন ড্রাইভের কলাতলী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ৩২ কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। কাজ শুরুর পরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে তিন হাজারেরও বেশি গাছ কাটার আশঙ্কার খবর প্রকাশিত হয়।

খবরটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং একটি গাছও না কেটে সড়ক সম্প্রসারণের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশনা পেয়ে সেতুমন্ত্রী গাছ না কেটে সংশ্লিষ্টদের সড়ক সম্প্রসারণের কথা বলেন।

এরপর গত ২১ এপ্রিল সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব সেখানে গিয়ে গাছ না কেটে মেরিন ড্রাইভের সড়ক সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সঙ্গে সঙ্গেই গাছ না কাটার কথা বলেছি। পরে আমরা সরেজমিনে গিয়েছি এবং প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজের এলাইনমেন্ট সামান্য পরিবর্তন করে গাছগুলোকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পে শুধু গাছ কাটা রোধ করা হয়নি, বরং পুরো মেরিন ড্রাইভকে আরও সৌন্দর্যবান্ধব, পরিবেশবান্ধব এবং পর্যটকবান্ধব করার জন্য রাস্তার দুই পাশে নতুনভাবে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে আমাদের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, একই সাথে পরিবেশ সংরক্ষণের দৃষ্টিভঙ্গিও অনুসরণ করা।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এটি শুধু গাছ সংরক্ষণের বিষয় নয়, আমরা মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে চাই। এর ফলে শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অন্যান্য জায়গাতেও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের জন্য নতুন উদাহরণ সৃষ্টি হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ প্রকল্পের মধ্যে সড়ক প্রশস্তকরণ, সেতু নির্মাণ, আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল, সিসি ব্লক স্থাপন এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেতু নির্মাণের জন্য রেজু খালের ওপর ৩০৫ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের সেতু নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ মূলত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৬ ও ১৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকৃতি রক্ষার এমন দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের জন্যও নতুন বার্তা দিচ্ছে।


প্রিন্ট