ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১ জনের মৃত্যু সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ফারুক আহমেদ তালায় নারী সমাবেশে নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংসদীয় আসনের এমপি’র সতর্ক বার্তা! ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ, সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি যুক্তরাষ্ট্রকে বিধ্বস্ত করে শেষ আটে বেলজিয়াম এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতকাল মঙ্গলবার থমকে আছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, ওয়াশিংটন আর তাদের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরান বলেছে, দুই মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক অভিযানের পর থেকে তারা এই প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করেছে।
এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএন ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সেই প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি জানাননি, যেখানে বলা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান।

যুদ্ধের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের ওপরে পৌঁছায়, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি কোনো চূড়ান্ত সমাধান না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ‘সংঘাতে’ পরিণত হতে পারে। কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘এই অঞ্চলে আবারও যুদ্ধ ফিরে আসুক, আমরা তা চাই না এবং এমন কোনো পরিস্থিতিও চাই না, যেখানে রাজনৈতিক কারণে সংঘাত বারবার ফিরে আসে।’

ইরানের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায় এবং গত সোমবার এক বৈঠকে তা পর্যালোচনা করা হয়।
এতে পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান  হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ শিথিল করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর আরোপিত পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার করবে, পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই প্রস্তাবটি ‘তারা যা দেবে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম, তার চেয়ে ভালো।’
তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইসরাইলের হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর, এই প্রস্তাবের পেছনে থাকা ইরানি কর্মকর্তাদের আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না— এ বিষয় নিয়ে তিনি সন্দিহান।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হলো, হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া ও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে এবং তারা কোনো দেশের ওপর শর্ত চাপাতে পারে না।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ মাদক উদ্ধারকারী অফিসার এসআই নাছিম উদ্দিন পেলেন বিশেষ পুরস্কার

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট টাইম : ০১:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা গতকাল মঙ্গলবার থমকে আছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, ওয়াশিংটন আর তাদের ওপর শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরান বলেছে, দুই মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সামরিক অভিযানের পর থেকে তারা এই প্রণালীতে অবরোধ আরোপ করেছে।
এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএন ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সেই প্রতিবেদনের বিষয়ে আপত্তি জানাননি, যেখানে বলা হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান।

যুদ্ধের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের ওপরে পৌঁছায়, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার সতর্ক করে বলেছে, ‘যদি কোনো চূড়ান্ত সমাধান না হয়, তাহলে পরিস্থিতি ‘সংঘাতে’ পরিণত হতে পারে। কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, ‘এই অঞ্চলে আবারও যুদ্ধ ফিরে আসুক, আমরা তা চাই না এবং এমন কোনো পরিস্থিতিও চাই না, যেখানে রাজনৈতিক কারণে সংঘাত বারবার ফিরে আসে।’

ইরানের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায় এবং গত সোমবার এক বৈঠকে তা পর্যালোচনা করা হয়।
এতে পারমাণবিক ইস্যু ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে কিছু শর্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান  হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ শিথিল করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরের ওপর আরোপিত পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার করবে, পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এই প্রস্তাবটি ‘তারা যা দেবে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম, তার চেয়ে ভালো।’
তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইসরাইলের হামলায় ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর, এই প্রস্তাবের পেছনে থাকা ইরানি কর্মকর্তাদের আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না— এ বিষয় নিয়ে তিনি সন্দিহান।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি হলো, হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া ও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়া থেকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবি’ থেকে সরে আসতে হবে এবং তারা কোনো দেশের ওপর শর্ত চাপাতে পারে না।


প্রিন্ট