ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

যশোরে আম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ৯৯৯-এ কল করেও সহযোগিতা পাননি ভুক্তভোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যশোরের শার্শা উপজেলায় এক আম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, চাঁদা না দেওয়ায় তার আমবোঝাই দুটি লড়ি আটকে রাখা হয় এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চেয়েও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী আম ব্যবসায়ী মনা গাজীর অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি একটি আমবাগান ক্রয় করে সেখান থেকে আম সংগ্রহ করেন। পরে দুটি লড়িতে করে মোট ৩৬ ক্যারেট আম বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় শার্শা উপজেলার একটি এলাকায় শহিদুল ইসলাম শহিদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি লড়ি দুটি আটকায়।
অভিযোগে বলা হয়, লড়ির চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমবোঝাই গাড়ি আটকে রাখা হয়। পরে শহিদুল ইসলাম শহিদ ব্যবসায়ী মনা গাজীর কাছে আম ছাড়িয়ে নেওয়া এবং এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মনা গাজী জানান, জীবন ও ব্যবসার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি তিন ধাপে মোট ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি অর্থ পরে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে সাময়িকভাবে ছাড় দেওয়া হয়।
ঘটনার পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান। তার অভিযোগ, শার্শা থানা থেকে এসআই চিরঞ্জিত ও এসআই শরিফ ঘটনাস্থলে গেলেও আম উদ্ধার বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে আমসহ লড়িগুলো সেখানেই রেখে চলে যান এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে মনা গাজী তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শার্শা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগটি গ্রহণ না করে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, থানার ভেতরে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনা গাজী ও তার স্ত্রী বলেন, “আমরা আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে উল্টো অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের অভিযোগ শোনার পরিবর্তে আমাদেরই দোষারোপ করা হয়েছে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, এলাকার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে এসআই চিরঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেখছেন, তাই তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।
তবে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। পরে এসআই চিরঞ্জিতের বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, “এসআই কেন আমার নাম উল্লেখ করেছেন তা আমি জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।এলাকাবাসীরা বলেন শহিদুল ইসলাম শহিদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্ত এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন এই শহিদ এলাকা তথা দেশবাসীর কাছে গোল্ড শহিদ নামে পরিচিত তাই তার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

কেউ প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও তারা দাবি করেন। তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য হাজী শহিদের হোয়াটসএ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে বলেন ব্যাস্ত আছেন কিন্তু পরবর্তিতে আর যোগাযোগ করেন নাই


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

যশোরে আম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, ৯৯৯-এ কল করেও সহযোগিতা পাননি ভুক্তভোগী

আপডেট টাইম : ০৬:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

যশোরের শার্শা উপজেলায় এক আম ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, চাঁদা না দেওয়ায় তার আমবোঝাই দুটি লড়ি আটকে রাখা হয় এবং পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হয়। এমনকি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চেয়েও তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী আম ব্যবসায়ী মনা গাজীর অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি একটি আমবাগান ক্রয় করে সেখান থেকে আম সংগ্রহ করেন। পরে দুটি লড়িতে করে মোট ৩৬ ক্যারেট আম বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় শার্শা উপজেলার একটি এলাকায় শহিদুল ইসলাম শহিদের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তার নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি লড়ি দুটি আটকায়।
অভিযোগে বলা হয়, লড়ির চালকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আমবোঝাই গাড়ি আটকে রাখা হয়। পরে শহিদুল ইসলাম শহিদ ব্যবসায়ী মনা গাজীর কাছে আম ছাড়িয়ে নেওয়া এবং এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
মনা গাজী জানান, জীবন ও ব্যবসার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তিনি তিন ধাপে মোট ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। বাকি অর্থ পরে দেওয়ার আশ্বাস দিলে তাকে সাময়িকভাবে ছাড় দেওয়া হয়।
ঘটনার পর তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশি সহায়তা চান। তার অভিযোগ, শার্শা থানা থেকে এসআই চিরঞ্জিত ও এসআই শরিফ ঘটনাস্থলে গেলেও আম উদ্ধার বা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। বরং তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে আমসহ লড়িগুলো সেখানেই রেখে চলে যান এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে মনা গাজী তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শার্শা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগটি গ্রহণ না করে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, থানার ভেতরে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মনা গাজী ও তার স্ত্রী বলেন, “আমরা আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে উল্টো অপমান ও নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের অভিযোগ শোনার পরিবর্তে আমাদেরই দোষারোপ করা হয়েছে।”
তারা আরও অভিযোগ করেন, এলাকার প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে এসআই চিরঞ্জিতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেখছেন, তাই তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।
তবে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। পরে এসআই চিরঞ্জিতের বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, “এসআই কেন আমার নাম উল্লেখ করেছেন তা আমি জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ থাকলেও ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।এলাকাবাসীরা বলেন শহিদুল ইসলাম শহিদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন।

তাদের অভিযোগ, তিনি বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং সীমান্ত এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন এই শহিদ এলাকা তথা দেশবাসীর কাছে গোল্ড শহিদ নামে পরিচিত তাই তার ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

কেউ প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেও তারা দাবি করেন। তারা দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য হাজী শহিদের হোয়াটসএ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে বলেন ব্যাস্ত আছেন কিন্তু পরবর্তিতে আর যোগাযোগ করেন নাই


প্রিন্ট