ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

নিকুঞ্জ থেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা রবিন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকার টানপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রবিন হোসেন রাহাতকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খিলক্ষেত থানার মামলা নম্বর ০৪(০৮)২৪-এর ১০৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে রবিন হোসেন রাহাতের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া রবিন হোসেন রাহাতের পিতার নাম মো. আবুল হোসেন মাতব্বর এবং মাতার নাম মরহুম মনোয়ারা বেগম। তিনি নিকুঞ্জ-২ এর ক/২ টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি নিকুঞ্জ-২ টানপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, রবিন হোসেন রাহাতের পিতা আবুল হোসেন মাতব্বর খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে এবং বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেশ কিছুদিন ধরেই রবিন হোসেন রাহাতকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে খিলক্ষেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “খিলক্ষেত থানার একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মোহাম্মদ রবিন হোসেন রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমনে খিলক্ষেত থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মামলার তথ্য-প্রমাণ ও আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো আসামিকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিন হোসেন রাহাতের গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান থাকবে।

পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গ্রেপ্তার হওয়া রবিন হোসেন রাহাতকে আদালতে সোপর্দ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

নিকুঞ্জ থেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা রবিন আটক

আপডেট টাইম : ০৪:৫৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ-২ এলাকার টানপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রবিন হোসেন রাহাতকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে খিলক্ষেত থানা পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খিলক্ষেত থানার মামলা নম্বর ০৪(০৮)২৪-এর ১০৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে রবিন হোসেন রাহাতের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া রবিন হোসেন রাহাতের পিতার নাম মো. আবুল হোসেন মাতব্বর এবং মাতার নাম মরহুম মনোয়ারা বেগম। তিনি নিকুঞ্জ-২ এর ক/২ টানপাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি নিকুঞ্জ-২ টানপাড়া ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, রবিন হোসেন রাহাতের পিতা আবুল হোসেন মাতব্বর খিলক্ষেত থানা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে এবং বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

পুলিশ জানায়, মামলার তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বেশ কিছুদিন ধরেই রবিন হোসেন রাহাতকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। রোববার সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে খিলক্ষেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “খিলক্ষেত থানার একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে মোহাম্মদ রবিন হোসেন রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে নিকুঞ্জ-২ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমনে খিলক্ষেত থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং মামলার তথ্য-প্রমাণ ও আইনি ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে। আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো আসামিকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিন হোসেন রাহাতের গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান থাকবে।

পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গ্রেপ্তার হওয়া রবিন হোসেন রাহাতকে আদালতে সোপর্দ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


প্রিন্ট