ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রুবিও

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলো সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বুধবার তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের অংশ হিসেবে রুবিও মঙ্গলবার রাতে আবুধাবি পৌঁছান। তিনি শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

এরপর রুবিওর কুয়েত ও বাহরাইন যাওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠকে অংশ নেবেন। আবুধাবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া এই তিন দেশের প্রতি সংহতি জানাতেই রুবিওর এ সফর বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রুবিও বলেন, তিনি উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে ওই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই, যা দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ।

ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ‘খরচ’ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানানোর পর রুবিও বলেন, কোনো দেশকে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে টোল আরোপের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে পৌঁছে তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল বা ফি নিতে পারে না। এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইন।’

গত সপ্তাহে চুক্তি সই হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এটাই প্রথম সফর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় মিত্রদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এ চুক্তি। এ নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র তার ধনী উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।

জ্বালানি সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে শুরু হওয়া যুদ্ধের সময় ইরানের পাল্টা হামলার বড় ধাক্কা সামলেছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

ওই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা এ অঞ্চলের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি।

কুয়েত ও বাহরাইনও বড় ধরণের হামলার শিকার হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট আরও শক্তিশালী করেছে।

আঞ্চলিক নেতারা দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রেখেছিল বলে তারা এখন অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ওয়াশিংটনকে নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চল সফরে রুবিও

আপডেট টাইম : ০৫:০৫:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চলার মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলো সফর শুরু করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

বুধবার তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইরানের হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের অংশ হিসেবে রুবিও মঙ্গলবার রাতে আবুধাবি পৌঁছান। তিনি শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

এরপর রুবিওর কুয়েত ও বাহরাইন যাওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে তিনি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) বৈঠকে অংশ নেবেন। আবুধাবি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া এই তিন দেশের প্রতি সংহতি জানাতেই রুবিওর এ সফর বলে মনে করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রুবিও বলেন, তিনি উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে ওই সমঝোতায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত নেই, যা দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগের কারণ।

ওমান ও ইরান হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ‘খরচ’ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানানোর পর রুবিও বলেন, কোনো দেশকে এ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে টোল আরোপের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীতে পৌঁছে তিনি বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ। কোনো দেশ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল বা ফি নিতে পারে না। এটি বিদ্যমান আন্তর্জাতিক আইন।’

গত সপ্তাহে চুক্তি সই হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার এটাই প্রথম সফর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় মিত্রদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি এ চুক্তি। এ নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে যুক্তরাষ্ট্র তার ধনী উপসাগরীয় মিত্রদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে।

জ্বালানি সমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে শুরু হওয়া যুদ্ধের সময় ইরানের পাল্টা হামলার বড় ধাক্কা সামলেছে। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

ওই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২ হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, যা এ অঞ্চলের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি।

কুয়েত ও বাহরাইনও বড় ধরণের হামলার শিকার হয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট আরও শক্তিশালী করেছে।

আঞ্চলিক নেতারা দীর্ঘদিন ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রেখেছিল বলে তারা এখন অবিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ওয়াশিংটনকে নিয়ে সতর্ক হয়ে উঠেছে।


প্রিন্ট