ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

১৭ বছর ধরে শ্রমিকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ: পতনের পরও খুলনায় ‘শেখ বাড়ির’ দোসরদের দাপট!

খুলনা প্রতিনিধি:

টানা ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ‘শেখ পরিবারের’ নাম ভাঙিয়ে এবং শীর্ষ নেতাদের সাথে লিয়াজোঁ করে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে সাধারণ শ্রমিকদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও ইউনিয়নের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব বহাল তবিয়তে থাকায় সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আরো অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে মূলত দলটির একটি অঙ্গসংগঠনে পরিণত করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী শ্রমিকদের মিছিল-মিটিং এবং নানামুখী নির্যাতনের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে বিতাড়িত করা হয়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সরকার পতনের পরও সেই একই চক্র, বিশেষ করে , মতিউর রহমান মতি (কার্যকরী সভাপতি ) মোঃ মাসুদ (সাংগঠনিক সম্পাদক) ও আব্দুল হালিম (ক্যাশিয়ার ) গ্যাং, এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণ শ্রমিকদের প্রশ্ন ,শেখ হাসিনার চেয়েও কি এদের ক্ষমতা বেশি? নাকি এদের পেছনে অন্য কোনো অদৃশ্য অপশক্তি রয়েছে, যার কারণে এত এত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তারা এখনো বহাল তবিয়তে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ শ্রমিকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ শ্রমিকদের এক প্রকার জিম্মি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে এখনো জোরপূর্বক এর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে একটি নির্দিষ্ট মহল।

প্রতিদিন শ্রমিকদের কল্যাণের নামে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ফান্ডে জমা হলেও, সাধারণ শ্রমিকরা এর কোনো সুফল বা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। এই বিপুল পরিমাণ টাকা শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যয় না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভোগদখল করছে বর্তমান পরিচালনা কমিটি।

মুখ খুললেই মারধর ও বহিষ্কারের হুমকি
সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কেউ যদি কোনো প্রতিবাদ বা প্রশ্ন তুলতে যায়, তবে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হয়।

এমনকি প্রতিবাদী শ্রমিকদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না এবং কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে ইউনিয়ন থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

ভুক্তভোগী ও সাধারণ শ্রমিকরা বর্তমানে এই চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচারের দোসরদের হাত থেকে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে মুক্ত করতে এবং ফান্ডের টাকার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

১৭ বছর ধরে শ্রমিকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ: পতনের পরও খুলনায় ‘শেখ বাড়ির’ দোসরদের দাপট!

আপডেট টাইম : ০৮:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

খুলনা প্রতিনিধি:

টানা ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ‘শেখ পরিবারের’ নাম ভাঙিয়ে এবং শীর্ষ নেতাদের সাথে লিয়াজোঁ করে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে সাধারণ শ্রমিকদের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পরও ইউনিয়নের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব বহাল তবিয়তে থাকায় সাধারণ শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

আরো অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে মূলত দলটির একটি অঙ্গসংগঠনে পরিণত করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে বিএনপির নেতাকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বী শ্রমিকদের মিছিল-মিটিং এবং নানামুখী নির্যাতনের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে বিতাড়িত করা হয়।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সরকার পতনের পরও সেই একই চক্র, বিশেষ করে , মতিউর রহমান মতি (কার্যকরী সভাপতি ) মোঃ মাসুদ (সাংগঠনিক সম্পাদক) ও আব্দুল হালিম (ক্যাশিয়ার ) গ্যাং, এখনো পর্যন্ত বহাল তবিয়তে মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।

সাধারণ শ্রমিকদের প্রশ্ন ,শেখ হাসিনার চেয়েও কি এদের ক্ষমতা বেশি? নাকি এদের পেছনে অন্য কোনো অদৃশ্য অপশক্তি রয়েছে, যার কারণে এত এত সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকার পরও তারা এখনো বহাল তবিয়তে দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ শ্রমিকদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন?

অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ শ্রমিকদের এক প্রকার জিম্মি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে এখনো জোরপূর্বক এর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে একটি নির্দিষ্ট মহল।

প্রতিদিন শ্রমিকদের কল্যাণের নামে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ফান্ডে জমা হলেও, সাধারণ শ্রমিকরা এর কোনো সুফল বা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। এই বিপুল পরিমাণ টাকা শ্রমিকদের উন্নয়নে ব্যয় না করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভোগদখল করছে বর্তমান পরিচালনা কমিটি।

মুখ খুললেই মারধর ও বহিষ্কারের হুমকি
সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে কেউ যদি কোনো প্রতিবাদ বা প্রশ্ন তুলতে যায়, তবে তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হয়।

এমনকি প্রতিবাদী শ্রমিকদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না এবং কেউ মুখ খুলতে চাইলে তাকে ইউনিয়ন থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

ভুক্তভোগী ও সাধারণ শ্রমিকরা বর্তমানে এই চাঁদাবাজ ও স্বৈরাচারের দোসরদের হাত থেকে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নকে মুক্ত করতে এবং ফান্ডের টাকার সঠিক হিসাব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


প্রিন্ট