ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার, বাড়ছে খামারিদের আগ্রহ হিসাবে গড়মিলের অভিযোগে আলোচনায় বাদাঘাট পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়

হিলিতে সাংবাদিকদের উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা

হিলি প্রতিনিধিঃ

 

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদের সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।

 

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

জানা গেছে, একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফ তথ্য ও সাক্ষাৎকার নিতে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিককে দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জানান, সাক্ষাৎকার বা তথ্য নিতে এলে তাকে ‘স্যার’ অথবা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একই গ্রেডের কর্মকর্তা। ইউএনওকে যেহেতু সবাই ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, তাই পেশাগত সৌজন্যের অংশ হিসেবে তাকেও একইভাবে সম্বোধন করা উচিত।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ জানান, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা সাধারণত পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ বজায় রাখেন। অতীতে এ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও কখনো ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকের কাজ হলো জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করা। সম্বোধনের বিষয়টি পারস্পরিক সৌজন্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু তথ্য দেওয়ার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধনের দাবি করা অযৌক্তিক নয় বরং অপেশাদারিত্ব।

 

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীরা একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

দিনাজপুর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: মোঃ গোলাম রসুল রাখি বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে স্যার বা মহোদয় বলে সম্বোধন করার কোন বাধ্য বাধকতা নেই। কে কিভাবে সম্বোধন করবে সেটা একান্তই তাদের ব্যাপার।

 

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উভয়েই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট সম্বোধনকে বাধ্যতামূলক করার দাবি প্রশাসনিক শিষ্টাচারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে প্রশ্ন উঠেছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের

হিলিতে সাংবাদিকদের উপজেলা সাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে ‘মহোদয়’ বা ‘স্যার’ বলার বাধ্যবাধকতা

আপডেট টাইম : ০৭:০২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

হিলি প্রতিনিধিঃ

 

 

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংবাদের সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিককে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে বলে মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে।

 

রবিবার (৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

 

জানা গেছে, একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি ছামিউল ইসলাম আরিফ তথ্য ও সাক্ষাৎকার নিতে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিককে দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জানান, সাক্ষাৎকার বা তথ্য নিতে এলে তাকে ‘স্যার’ অথবা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করতে হবে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা একই গ্রেডের কর্মকর্তা। ইউএনওকে যেহেতু সবাই ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেন, তাই পেশাগত সৌজন্যের অংশ হিসেবে তাকেও একইভাবে সম্বোধন করা উচিত।

 

এ বিষয়ে সাংবাদিক ছামিউল ইসলাম আরিফ জানান, মফস্বলে কর্মরত সাংবাদিকরা সাধারণত পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিকতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত যোগাযোগ বজায় রাখেন। অতীতে এ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকারী একাধিক কর্মকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও কখনো ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকের কাজ হলো জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ করা। সম্বোধনের বিষয়টি পারস্পরিক সৌজন্যের অংশ হতে পারে, কিন্তু তথ্য দেওয়ার শর্ত হিসেবে নির্দিষ্ট সম্বোধনের দাবি করা অযৌক্তিক নয় বরং অপেশাদারিত্ব।

 

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের মুঠোফোনে গণমাধ্যম কর্মীরা একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

দিনাজপুর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: মোঃ গোলাম রসুল রাখি বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, সরকারি কর্মকর্তাকে স্যার বা মহোদয় বলে সম্বোধন করার কোন বাধ্য বাধকতা নেই। কে কিভাবে সম্বোধন করবে সেটা একান্তই তাদের ব্যাপার।

 

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক উভয়েই নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্দিষ্ট সম্বোধনকে বাধ্যতামূলক করার দাবি প্রশাসনিক শিষ্টাচারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে প্রশ্ন উঠেছে।


প্রিন্ট