ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংস্কৃতির বিকাশেই গড়ে উঠবে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম : ত্রাণমন্ত্রী জুমার নামাজ শেষে দোয়া-মোনাজাত মাধ্যমে পিরোজপুরে আল্লামা সাঈদীর তৃতীয় শাহাদাত বার্ষিকী পালিত সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে কাভারভ্যানসহ ২২ লাখ টাকার অবৈধ তানজিদ-মোমিনুলের সেঞ্চুরির জুটিতে লিডের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানিক প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তালাকদিয়ে বিয়ে না করে সংসার করছে নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ বেড, কাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আগামীকাল : দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটে ৩৫ টি পোশাক কারখানা বন্ধ উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে এফটিএ নিয়ে আলোচনা খেলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

দেশে গ্যাসের খনি রয়েছে, তবুও সংকট কেন ?

রিপোর্টার শাফায়েত হোসেনঃ

দেশের বিভিন্ন জেলায় সিএনজি (গ্যাস) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবহন চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এতে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

প্রায় ২৬ বছর ধরে পেশাগতভাবে গাড়ি চালানো মো. বিল্লাল হোসেন বলেন,
আমার দীর্ঘ ড্রাইভিং জীবনে এমন গ্যাস সংকট আগে দেখিনি। অতীতে যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে জ্বালানি তেলের সংকট হয়েছে, কিন্তু এখন দেশে গ্যাসের খনি ও মজুদের কথা শোনা যায়। তারপরও কেন এমন সংকট, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতায় তিনি আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। আগে একবারে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত, অথচ এখন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে একটি গাড়ি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ডিউটি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্য চালক মো. শহীদ বলেন,
আমাদেরও পরিবার আছে, সংসার আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এরপর আবার ডিউটি করতে হয়। এই কষ্ট শুধু চালকরাই বোঝেন। যদি কোথাও কোনো সিন্ডিকেট থেকে থাকে, তাহলে সেটি ভেঙে দ্রুত সংকটের সমাধান করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বাণিজ্যিক স্বার্থেও বিভিন্ন ধরনের প্রভাব থাকতে পারে ও এটি তার ব্যক্তিগত ধারণা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চালকদের ভাষ্য, গ্যাস না পেলে সময়মতো ডিউটি করা যায় না। আর ডিউটি করতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে একজন প্রাইভেট গাড়িচালকের মাসিক প্রায় ৩০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। এর সঙ্গে গ্যাস সংকট যুক্ত হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

চালকরা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
আমাদের সন্তানরা বড় হয়েছে। এখনও ড্রাইভিং করেই পরিবার চালাতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা দিয়ে ভালো চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত করব। আমাদেরও অনেক স্বপ্ন আছে। কিন্তু গরিব হওয়ায় সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের দায়িত্বের কারণে আজও স্টিয়ারিং ধরেই জীবন চালাতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক চালকের প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স বা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও তারা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ ১৫ থেকে ২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকদের সেই মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রে আর নেই। তারপরও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে কাজ করে যেতে হচ্ছে। না হলে স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে থাকবে।

শেষে চালকদের একটাই প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম হন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কৃতির বিকাশেই গড়ে উঠবে মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম : ত্রাণমন্ত্রী

দেশে গ্যাসের খনি রয়েছে, তবুও সংকট কেন ?

আপডেট টাইম : ১০:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

রিপোর্টার শাফায়েত হোসেনঃ

দেশের বিভিন্ন জেলায় সিএনজি (গ্যাস) সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবহন চালকরা। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় তারা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। এতে তাদের আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা।

প্রায় ২৬ বছর ধরে পেশাগতভাবে গাড়ি চালানো মো. বিল্লাল হোসেন বলেন,
আমার দীর্ঘ ড্রাইভিং জীবনে এমন গ্যাস সংকট আগে দেখিনি। অতীতে যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে জ্বালানি তেলের সংকট হয়েছে, কিন্তু এখন দেশে গ্যাসের খনি ও মজুদের কথা শোনা যায়। তারপরও কেন এমন সংকট, সেটাই আমাদের প্রশ্ন।

তিনি আরও বলেন, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতায় তিনি আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি। আগে একবারে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত, অথচ এখন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে একটি গাড়ি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ডিউটি করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্য চালক মো. শহীদ বলেন,
আমাদেরও পরিবার আছে, সংসার আছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এরপর আবার ডিউটি করতে হয়। এই কষ্ট শুধু চালকরাই বোঝেন। যদি কোথাও কোনো সিন্ডিকেট থেকে থাকে, তাহলে সেটি ভেঙে দ্রুত সংকটের সমাধান করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি বাণিজ্যিক স্বার্থেও বিভিন্ন ধরনের প্রভাব থাকতে পারে ও এটি তার ব্যক্তিগত ধারণা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চালকদের ভাষ্য, গ্যাস না পেলে সময়মতো ডিউটি করা যায় না। আর ডিউটি করতে না পারলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। বর্তমানে একজন প্রাইভেট গাড়িচালকের মাসিক প্রায় ৩০ হাজার টাকা বেতনে সংসার চালানোই কঠিন। এর সঙ্গে গ্যাস সংকট যুক্ত হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

চালকরা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
আমাদের সন্তানরা বড় হয়েছে। এখনও ড্রাইভিং করেই পরিবার চালাতে হচ্ছে। ইচ্ছা ছিল ছেলে-মেয়েদের উচ্চশিক্ষা দিয়ে ভালো চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত করব। আমাদেরও অনেক স্বপ্ন আছে। কিন্তু গরিব হওয়ায় সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসারের দায়িত্বের কারণে আজও স্টিয়ারিং ধরেই জীবন চালাতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক চালকের প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স বা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও তারা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ ১৫ থেকে ২০ বছরের অভিজ্ঞ চালকদের সেই মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রে আর নেই। তারপরও পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে বাধ্য হয়ে কাজ করে যেতে হচ্ছে। না হলে স্ত্রী-সন্তান না খেয়ে থাকবে।

শেষে চালকদের একটাই প্রত্যাশা—সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান করবে, যাতে তারা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম হন।


প্রিন্ট