ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝিনাইদহে ইনসানিয়াত লাইভ ব্লাড ফাউন্ডেশন উদ্দোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্যোগ রায়গঞ্জে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ শুরু: অংশ নিলেন দুই শতাধিক ইয়েমেনে প্রাণঘাতী বিমান হা/মলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী : হুতি গণমাধ্যম সাতক্ষীরা সীমান্তে ভারতীয় মালামাল জব্দ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সাবদার হোসেন (সাদ্দাত), চাইলেন জনগণের সমর্থন ও দোয়া ময়মনসিংহ-গাজীপুরে ৪ সাংবাদিক হ/ত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন গো আপ ফাউন্ডেশন ও ফুটস্টেপসের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে বসিলা খাল পুনরুদ্ধার চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু কুড়িগ্রামে মা ইলিশ আহরণ বন্ধে অভিযান, অবৈধ জাল জব্দ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভয়াবহ এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ‘আফটার শক’ বা পরাঘাত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী আফটার শকের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার শহরগুলোতে অনেক বাড়িঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট হয়েছে। সেসবে ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে বলেছেন, “আমাদের শহরে অনেকগুলো বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের সময় লোকজন খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমি নিজের চোখের সামনে বন্দর এলাকার একটি ভবন ভেঙে পড়তে দেখেছি।”

প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। সতর্কতা জারির পর প্রায় দুই হাজার মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যান। মোটরসাইকেলে করে অনেক মানুষকে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।

তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, প্রবল কম্পনে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দ্রুত সন্তানের ঘরে যান। আতঙ্কে অনেক মানুষ পাহাড়ের দিকে চলে যান।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে ইনসানিয়াত লাইভ ব্লাড ফাউন্ডেশন উদ্দোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্যোগ

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

আপডেট টাইম : ০৩:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ভয়াবহ এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাগরের তলদেশে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।

৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর কয়েকটি ‘আফটার শক’ বা পরাঘাত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী আফটার শকের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার শহরগুলোতে অনেক বাড়িঘর আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও পোস্ট হয়েছে। সেসবে ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংসের পাশাপাশি লোকজনকে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে।

পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে বলেছেন, “আমাদের শহরে অনেকগুলো বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ভূমিকম্পের সময় লোকজন খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আমি নিজের চোখের সামনে বন্দর এলাকার একটি ভবন ভেঙে পড়তে দেখেছি।”

প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। সতর্কতা জারির পর প্রায় দুই হাজার মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যান। মোটরসাইকেলে করে অনেক মানুষকে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।

তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, প্রবল কম্পনে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দ্রুত সন্তানের ঘরে যান। আতঙ্কে অনেক মানুষ পাহাড়ের দিকে চলে যান।


প্রিন্ট