ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু ময়মনসিংহ-গাজীপুরে ৪ সাংবাদিক হ/ত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান রুহুল কবির রিজভীর ভুয়া নিউজ প্রচারের দায়ে সৌদি প্রবাসী সেলিম রানা সহ সম্পাদক আবুল হাসেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান এবং পুশইন প্রতিরোধে পৃথক দুটি জন সচেতনতা মূলক সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৪ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ভারত গেল বাংলাদেশ হকি দল ইরানের হুমকি বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ৪ মার্কিন দূতাবাসে কর্মী কমাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ইইউর ডেনিম বাজারে শীর্ষে বাংলাদেশ

ময়মনসিংহ-গাজীপুরে ৪ সাংবাদিক হ/ত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হয়রানি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এসব দাবিতে আন্দোলন জোরদার ও কর্মসূচি সমন্বয়ের লক্ষ্যে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ইউনিটের উদ্যোগে একটি আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের প্রধান সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলম রফিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরের মধ্যে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাঁরা হলেন বাংলানিউজের জামালপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম, জামালপুরের সাংবাদিক শেলু আকন্দ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার কৃতী সন্তান ও গাজীপুরে কর্মরত দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার শহীদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুরের রূপসী বাংলা টেলিভিশনের নেত্রকোনা প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ।

এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, নানা জটিলতা ও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। অন্যদিকে, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জামালপুরের সাংবাদিক শেলু আকন্দ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পরও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাংবাদিক সমাজে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একের পর এক সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় পেশাগত নিরাপত্তা, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নেতাদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েও হয়রানি ও নানা জটিলতার সম্মুখীন হন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।

আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্যরা হলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক (আইন) মোহাম্মদ আলী আবির, দৈনিক চৌকস পত্রিকার সহ-সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি মোঃ রফিকুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি ও নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, আগামী দিনের সম্পাদক ও গাজীপুরের সিনিয়র সাংবাদিক আখতার হোসেন, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন মানিক, আরটিভির জামালপুর প্রতিনিধি ও দৈনিক যায়যায়দিনের সাংবাদিক জি এম ফাতিউল হাফিজ বাবু, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন খান এবং দৈনিক সমকালের কেন্দুয়া প্রতিনিধি ও চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা।

গঠিত কমিটি ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলে সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা, প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দাবিতে সমন্বিত ভূমিকা পালন করবে।
আন্দোলন সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে চলতি অক্টোবর মাসেই ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম ও শেলু আকন্দ এবং নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিটির সভাপতি মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, ‘সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করা শুধু নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নেতারা জানান, চার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে নিহত সাংবাদিকদের পরিবার, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

তাঁরা আরও জানান, সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সাংবাদিক নেতাদের দাবি, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু

ময়মনসিংহ-গাজীপুরে ৪ সাংবাদিক হ/ত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন

আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হয়রানি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

এসব দাবিতে আন্দোলন জোরদার ও কর্মসূচি সমন্বয়ের লক্ষ্যে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ইউনিটের উদ্যোগে একটি আন্দোলন সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের প্রধান সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলম রফিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরের মধ্যে ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাঁরা হলেন বাংলানিউজের জামালপুর প্রতিনিধি সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম, জামালপুরের সাংবাদিক শেলু আকন্দ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার কৃতী সন্তান ও গাজীপুরে কর্মরত দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার শহীদ সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন এবং নেত্রকোনার দুর্গাপুরের রূপসী বাংলা টেলিভিশনের নেত্রকোনা প্রতিনিধি সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ।

এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, নানা জটিলতা ও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলায় বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। অন্যদিকে, সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। জামালপুরের সাংবাদিক শেলু আকন্দ হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পরও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি মাসে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাংবাদিক সমাজে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একের পর এক সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় পেশাগত নিরাপত্তা, বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নেতাদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েও হয়রানি ও নানা জটিলতার সম্মুখীন হন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।

আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্যরা হলেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের পরিচালক (আইন) মোহাম্মদ আলী আবির, দৈনিক চৌকস পত্রিকার সহ-সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি মোঃ রফিকুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি ও নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল হক বাবুল, আগামী দিনের সম্পাদক ও গাজীপুরের সিনিয়র সাংবাদিক আখতার হোসেন, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন মানিক, আরটিভির জামালপুর প্রতিনিধি ও দৈনিক যায়যায়দিনের সাংবাদিক জি এম ফাতিউল হাফিজ বাবু, সাংবাদিক জামাল উদ্দিন খান এবং দৈনিক সমকালের কেন্দুয়া প্রতিনিধি ও চারণ সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা।

গঠিত কমিটি ময়মনসিংহ ও গাজীপুর অঞ্চলে সাংবাদিক হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন পরিচালনা, প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির দাবিতে সমন্বিত ভূমিকা পালন করবে।
আন্দোলন সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে চলতি অক্টোবর মাসেই ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় জামালপুরের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম ও শেলু আকন্দ এবং নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়া, সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কমিটির সভাপতি মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, ‘সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করা শুধু নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্ন। আমরা প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই।’

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের নেতারা জানান, চার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে নিহত সাংবাদিকদের পরিবার, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

তাঁরা আরও জানান, সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সাংবাদিক নেতাদের দাবি, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখতে রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।


প্রিন্ট