ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১ মিষ্টি আপেল চিনে কিনবেন যেভাবে রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীন ভাষা ব্যবহারের আহ্বান রিজভীর সম্পদ কমলেও ভারতের ধনী অভিনেতার শীর্ষে শাহরুখ বাইকের ক্লাচ প্লেট দীর্ঘদিন ভালো রাখার সহজ উপায় অস্ত্র মামলায় আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল লাকসামে ২,৫০০ ভোটারের সুবিধা উপেক্ষা করে কেন্দ্র পরিবর্তনের অভিযোগ: জুলকারনাইন মাদ্রাসায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবি ‎পিরোজপুরে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশে চীনের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ : মইন খান দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় কৃষি গ্র্যাজুয়েটদের ভূমিকা রয়েছে: বাকৃবি উপাচার্য

রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীন ভাষা ব্যবহারের আহ্বান রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করা গেলেও ভাষা হতে হবে মার্জিত ও শালীন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে আপসহীন ছিলেন। নানা নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। গাজীর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে জীবদ্দশায় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতন দেখে যেতে পেরেছেন—এটি তার কাছে কিছুটা সান্ত্বনার বিষয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় রুহুল আমিন গাজীর ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও হয়রানি হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে আমিও উপস্থিত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সময় প্রেস ক্লাব অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী মতপ্রকাশ ও কর্মসূচি পালনের একটি পরিসর তৈরি করেছিল। তবে একপর্যায়ে প্রেস ক্লাবও সরকারি চাপের বাইরে থাকতে পারেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকতে হবে। বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাদের কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা উচিত।

সাম্প্রতিক লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া না হয়। গণতন্ত্র যদি আমরা বিশ্বাস করি, তাহলে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি করবে, কথা বলবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের ‘পেছনের উঠান’ হিসেবে পরিণত করা উচিত নয়। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিজেদের সক্ষমতায় মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। তবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো মৌলিক প্রশ্নে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের কর্তৃত্ববাদী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

আলোচনা সভায় এসময় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

হাম উপসর্গে আরও ৫ জন সহ মোট মৃত্যু ১০৮১

রাজনৈতিক সমালোচনায় শালীন ভাষা ব্যবহারের আহ্বান রিজভীর

আপডেট টাইম : ০৯:২৭:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করতে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, রাজনৈতিক বক্তব্যে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করা গেলেও ভাষা হতে হবে মার্জিত ও শালীন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজী গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানে আপসহীন ছিলেন। নানা নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। গাজীর মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ও তার রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে। তবে জীবদ্দশায় তিনি শেখ হাসিনা সরকারের পতন দেখে যেতে পেরেছেন—এটি তার কাছে কিছুটা সান্ত্বনার বিষয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংকটের সময় রুহুল আমিন গাজীর ওপর নানা ধরনের নিপীড়ন ও হয়রানি হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে আমিও উপস্থিত ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সংকটের সময় প্রেস ক্লাব অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী মতপ্রকাশ ও কর্মসূচি পালনের একটি পরিসর তৈরি করেছিল। তবে একপর্যায়ে প্রেস ক্লাবও সরকারি চাপের বাইরে থাকতে পারেনি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার থাকতে হবে। বিরোধী দলের কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তাদের কর্মসূচি পালনের অধিকারকে সম্মান করা উচিত।

সাম্প্রতিক লংমার্চের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন বিরোধী দলের কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া না হয়। গণতন্ত্র যদি আমরা বিশ্বাস করি, তাহলে বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি করবে, কথা বলবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের বিষয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের ‘পেছনের উঠান’ হিসেবে পরিণত করা উচিত নয়। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাংলাদেশকেই নির্ধারণ করতে হবে এবং অর্থনৈতিক সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিজেদের সক্ষমতায় মোকাবিলা করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। তবে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো মৌলিক প্রশ্নে ন্যূনতম ঐকমত্য থাকা জরুরি। ভবিষ্যতে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অতীতের কর্তৃত্ববাদী পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

আলোচনা সভায় এসময় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও কবি আবদুল হাই শিকদার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


প্রিন্ট