ঢাকা ০৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী কয়ড়া ইউনিয়নে আধা কিলোমিটার রাস্তা অস্থায়ীভাবে সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সন্তোষ সরকার চাপা কষ্টের গল্প ,একজন পুরুষের নীরব জীবন এই গল্প শাফায়াত ডিমলায় তিস্তার সেচ ক্যানেলে পানিতে ডুবে খালা-ভাগ্নির মৃত্যু সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে: মাহদী আমিন আবারও পর্দায় ফিরছেন কোয়েল-পরমব্রত জুটি প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাথে কানাডার হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বাংলাদেশের কাছে হারের পর এবার বড় শাস্তির শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া! সরকারি দপ্তর-সংস্থায় পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালু করা হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী খুবিতে ‘এমপাওয়ারিং ইয়ুথ’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত

সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে: মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার অন্তহীন পথ চলছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে জনগণের ক্ষমতা সুনিশ্চিত হয়েছে। জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক এই সরকার গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে। সরকারের এই ১৮০ দিনের পথচলা জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহাদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দেড় দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ব্যবস্থার আজ ১৮০ দিন পার হয়েছে। যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, স্বচ্ছতা থাকবে, দায়বদ্ধতা থাকবে। আমরা এই ছয় মাসে পরিপূর্ণভাবে দেখতে পেয়েছি, নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের রয়েছে অভূতপূর্ব জনসমর্থন। কারণ ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন, ১৮ সালের নিশি রাতের নির্বাচন এবং ২৪ সালের ডামি ভোটে নির্বাচনের পর এই প্রথমবারের মতো জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে, নিজেদের পছন্দ দলকে ভোট দিতে পেরেছে। আর সেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। যার ক্ষমতার উৎস একমাত্র দেশের মানুষ।

মাহাদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে জনগণের ঢল নেমেছিল। বিশ্ব ইতিহাসের সবচাইতে বড় সেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যখন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল করেন তখন আমরা দেখেছিলাম উনার জানাজাতে আরেকবার কীভাবে জনসমুদ্র সৃষ্টি করেছে সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এই দলটির প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি আজকে যারা সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের প্রতি জনগণের এই অফুরন্ত ভালোবাসা আমরা দেখেছি। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী যেখানেই গিয়েছিলেন দেশ জুড়ে সেখানে জনস্রোত নেমে এসেছিল। গত ছয় মাসে অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশ জুড়ে যেখানেই গিয়েছেন ঠিক একইভাবে জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটা রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণ-অভুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাক্ স্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে। আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের এই কার্যক্রমে। গত ছয় মাসে বাক্ স্বাধীনতার, আইনের অনুশাসনের এবং মানবাধিকারের সর্বোচ্চ স্থাপন আমরা দেখেছি। যেখানে একবারের জন্যও কখনো কোনো রাজনৈতিক বিপদন হয়নি। আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক্ স্বাধীনতা অনেক সময় সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। অসভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদূলীয় গণতন্ত্র এস্টাবলিশ করেছিলেন সেভাবে সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সরকারের সংসদ গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সংসদে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। জাতির বীরশ্রেষ্ঠ যে সন্তানেরা রয়েছে তাদের নামে সংসদের গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।

ভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ পাহাড় সমতলের প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে নিয়ে এসে আমাদের এই সরকার নিশ্চিত করেছে সকলের স্বাধীনতা, সকলের অধিকার এবং সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। যার লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাম্য মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিধা সুনিশ্চিত করা।

ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে। এর কারণ এই ইশতেহারের ভিত্তির ভেতরে রয়েছে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন।

মাহাদী আমিন আরও বলেন, ভোট দেওয়ার পর হাতের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচন ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম যে বৈঠকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতর সবার আগে যে নীতি কার্যকর করা হয়েছিল, সেটি হচ্ছে কৃষক ভাইদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ। ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে যে চিকিৎসা ব্যয় রয়েছে সেটি কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে এক লক্ষ টাকা করে সহযোগিতা করা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে ক্লাস ফোর দুইটি এবং ক্লাস সিক্সে দুইটি নতুন সাবজেক্ট আগামী বছর থেকে শুরু হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই, বাচ্চাদের জন্য স্কুল ড্রেস এবং ব্যাগ ক্লাস ওয়ান থেকে দেওয়া শুরু হচ্ছে এবং প্রাইমারি গোল্ড কাপে ২২ লক্ষ শিক্ষার্থী, ১১ লক্ষ ছেলে এবং ১১ লক্ষ মেয়ের অংশগ্রহণে ইতোমধ্যে একটা ক্রীড়া বিপ্লব সারাদেশে সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লাস সিক্স থেকে ১২ পর্যন্ত ইনোভেশন আইডিয়া সোর্সিং কম্পিটিশন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। মিডডে মিল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেওয়া শুরু হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ প্রায়রিটাইজ করা হচ্ছে এবং বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের যাদের তৃতীয় ভাষার নলেজ রয়েছে তাদের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে পাঠানোর সুযোগ করা হয়েছে।

এছাড়াও নতুন পে স্কেল যেটা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য করা হচ্ছে সেটি অনেকটাই চূড়ান্তের পথে। ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন করে সম্প্রসারণ করা যার মাঝে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মাঠের সংস্কার করার, সংস্থান করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জুলাই জাদুঘর চালু করা হয়েছে, যার সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। একইসঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, সে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য সরকারি সহযোগিতা খাত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যারা আহত হয়েছেন দেশে এবং বিদেশে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতির বীর সন্তান, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী আরও বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে হজের সুব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে বিমান ভাড়াসহ ব্যয়ের কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশ জুড়ে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও বেশি উদ্যোক্তা কীভাবে তৈরি করা যায়, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম কীভাবে করা যায়, ইনোভেশন ব্র্যান্ড কীভাবে তৈরি করা যায়, কীভাবে আমরা তাদের সহজ শর্তে বিশেষত তরুণ এবং নারীদের ঋণ দিতে পারি, ফ্রিল্যান্সার কার্ডের ব্যবস্থা করতে পারি, ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমি কলাবোরেশন বাড়াতে পারি, প্রত্যেকটা এলাকায় লোকাল ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে লোকাল এডুকেশন ইনস্টিটিউটের একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারি, ওনাদের ট্রেনিং বাড়াতে পারি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে পারি, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করতে পারি। এগুলো নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বহুমুখী কার্যক্রম চালু রয়েছে।

ইতোমধ্যে বন্ধ কল-কারখানা চালুর জন্য আলাদা ফান্ড প্রোভাইড করা হয়েছে এবং শ্রম মানবিক আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাশে থাকা হচ্ছে। চিনিকল, পাটকলসহ যেসম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ধারাকে ধারণ করে বর্তমানে কিভাবে শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা যায়, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ডাইভার্সিফাই করা যায়, কীভাবে বিদেশের ডিমান্ড এবং বাংলাদেশের স্কিলসের সাপ্লাইকে আমরা মার্চ করতে পারি এগুলি নিয়ে নানামুখী কার্যক্রম চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ভেঙে পড়া যে অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছে সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে ধরা হয়েছে। যার কারণে আমরা দেখেছি একটি জনবান্ধব বাজেট যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, প্রয়োজনে কর হ্রাস করে আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং বন্ডেড ডাউনস সুবিধা ১০০% এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে। লাইসেন্সিং রিনিইউয়ালকে সহজতর করা হয়েছে, উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বহুমুখী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেসব ইন্ডাস্ট্রির লোকাল সক্ষমতা রয়েছে সেখানে র মেটেরিয়ালের ইম্পোর্টের প্রাইস কমানো হয়েছে এবং ফাইনাল প্রোডাক্টের ইম্পোর্ট প্রাইস বাড়ানো হয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, হুমায়ূন কবির, জাহিদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকেই।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্র ও মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই সরকারের বড় সাফল্য: সালেহ শিবলী

সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে: মাহদী আমিন

আপডেট টাইম : ০৪:০৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান বিএনপি সরকার অন্তহীন পথ চলছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে জনগণের ক্ষমতা সুনিশ্চিত হয়েছে। জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বমূলক এই সরকার গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে। সরকারের এই ১৮০ দিনের পথচলা জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতারই প্রত্যক্ষ প্রতিফলন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মাহাদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দেড় দশকের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে গুম, খুন, হামলা, মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ব্যবস্থার আজ ১৮০ দিন পার হয়েছে। যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, স্বচ্ছতা থাকবে, দায়বদ্ধতা থাকবে। আমরা এই ছয় মাসে পরিপূর্ণভাবে দেখতে পেয়েছি, নির্বাচিত সরকারের প্রতি জনগণের রয়েছে অভূতপূর্ব জনসমর্থন। কারণ ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন, ১৮ সালের নিশি রাতের নির্বাচন এবং ২৪ সালের ডামি ভোটে নির্বাচনের পর এই প্রথমবারের মতো জনগণ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে, নিজেদের পছন্দ দলকে ভোট দিতে পেরেছে। আর সেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে। যার ক্ষমতার উৎস একমাত্র দেশের মানুষ।

মাহাদী আমিন বলেন, আমরা দেখেছি আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে জনগণের ঢল নেমেছিল। বিশ্ব ইতিহাসের সবচাইতে বড় সেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর যখন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল করেন তখন আমরা দেখেছিলাম উনার জানাজাতে আরেকবার কীভাবে জনসমুদ্র সৃষ্টি করেছে সব শ্রেণিপেশার মানুষ। এই দলটির প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি আজকে যারা সরকারের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের প্রতি জনগণের এই অফুরন্ত ভালোবাসা আমরা দেখেছি। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রী যেখানেই গিয়েছিলেন দেশ জুড়ে সেখানে জনস্রোত নেমে এসেছিল। গত ছয় মাসে অজস্র জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশ জুড়ে যেখানেই গিয়েছেন ঠিক একইভাবে জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটা রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণ-অভুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাক্ স্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে। আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের এই কার্যক্রমে। গত ছয় মাসে বাক্ স্বাধীনতার, আইনের অনুশাসনের এবং মানবাধিকারের সর্বোচ্চ স্থাপন আমরা দেখেছি। যেখানে একবারের জন্যও কখনো কোনো রাজনৈতিক বিপদন হয়নি। আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক্ স্বাধীনতা অনেক সময় সেই সীমা লঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে। অসভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদূলীয় গণতন্ত্র এস্টাবলিশ করেছিলেন সেভাবে সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সরকারের সংসদ গঠনের পর সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যারা ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে সংসদে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। জাতির বীরশ্রেষ্ঠ যে সন্তানেরা রয়েছে তাদের নামে সংসদের গ্যালারিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে।

ভিন্ন মত, পথ, ধর্ম, বর্ণ পাহাড় সমতলের প্রতিটি মানুষকে এক কাতারে নিয়ে এসে আমাদের এই সরকার নিশ্চিত করেছে সকলের স্বাধীনতা, সকলের অধিকার এবং সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন। যার লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাম্য মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিধা সুনিশ্চিত করা।

ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া হচ্ছে। এর কারণ এই ইশতেহারের ভিত্তির ভেতরে রয়েছে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন।

মাহাদী আমিন আরও বলেন, ভোট দেওয়ার পর হাতের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচন ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম যে বৈঠকে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতর সবার আগে যে নীতি কার্যকর করা হয়েছিল, সেটি হচ্ছে কৃষক ভাইদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ। ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে যে চিকিৎসা ব্যয় রয়েছে সেটি কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে এক লক্ষ টাকা করে সহযোগিতা করা হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে ক্লাস ফোর দুইটি এবং ক্লাস সিক্সে দুইটি নতুন সাবজেক্ট আগামী বছর থেকে শুরু হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই, বাচ্চাদের জন্য স্কুল ড্রেস এবং ব্যাগ ক্লাস ওয়ান থেকে দেওয়া শুরু হচ্ছে এবং প্রাইমারি গোল্ড কাপে ২২ লক্ষ শিক্ষার্থী, ১১ লক্ষ ছেলে এবং ১১ লক্ষ মেয়ের অংশগ্রহণে ইতোমধ্যে একটা ক্রীড়া বিপ্লব সারাদেশে সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্লাস সিক্স থেকে ১২ পর্যন্ত ইনোভেশন আইডিয়া সোর্সিং কম্পিটিশন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। মিডডে মিল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে দেওয়া শুরু হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ প্রায়রিটাইজ করা হচ্ছে এবং বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের যাদের তৃতীয় ভাষার নলেজ রয়েছে তাদের ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে পাঠানোর সুযোগ করা হয়েছে।

এছাড়াও নতুন পে স্কেল যেটা সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য করা হচ্ছে সেটি অনেকটাই চূড়ান্তের পথে। ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, স্পোর্টস ভিলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন করে সম্প্রসারণ করা যার মাঝে ক্রীড়াকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং মাঠের সংস্কার করার, সংস্থান করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জুলাই জাদুঘর চালু করা হয়েছে, যার সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। একইসঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, সে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার জন্য সরকারি সহযোগিতা খাত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যারা আহত হয়েছেন দেশে এবং বিদেশে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জাতির বীর সন্তান, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী আরও বাড়ানো হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে হজের সুব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে বিমান ভাড়াসহ ব্যয়ের কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশ জুড়ে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আরও বেশি উদ্যোক্তা কীভাবে তৈরি করা যায়, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম কীভাবে করা যায়, ইনোভেশন ব্র্যান্ড কীভাবে তৈরি করা যায়, কীভাবে আমরা তাদের সহজ শর্তে বিশেষত তরুণ এবং নারীদের ঋণ দিতে পারি, ফ্রিল্যান্সার কার্ডের ব্যবস্থা করতে পারি, ইন্ডাস্ট্রি অ্যাকাডেমি কলাবোরেশন বাড়াতে পারি, প্রত্যেকটা এলাকায় লোকাল ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে লোকাল এডুকেশন ইনস্টিটিউটের একটি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে পারি, ওনাদের ট্রেনিং বাড়াতে পারি, স্কিল ডেভেলপমেন্ট করতে পারি, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করতে পারি। এগুলো নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বহুমুখী কার্যক্রম চালু রয়েছে।

ইতোমধ্যে বন্ধ কল-কারখানা চালুর জন্য আলাদা ফান্ড প্রোভাইড করা হয়েছে এবং শ্রম মানবিক আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের পাশে থাকা হচ্ছে। চিনিকল, পাটকলসহ যেসম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে খোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপি সরকারের বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ধারাকে ধারণ করে বর্তমানে কিভাবে শ্রমবাজার আরও উন্মুক্ত করা যায়, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি ডাইভার্সিফাই করা যায়, কীভাবে বিদেশের ডিমান্ড এবং বাংলাদেশের স্কিলসের সাপ্লাইকে আমরা মার্চ করতে পারি এগুলি নিয়ে নানামুখী কার্যক্রম চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ভেঙে পড়া যে অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছে সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতোমধ্যে ধরা হয়েছে। যার কারণে আমরা দেখেছি একটি জনবান্ধব বাজেট যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, প্রয়োজনে কর হ্রাস করে আমানতকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং বন্ডেড ডাউনস সুবিধা ১০০% এক্সপোর্ট অরিয়েন্টেড প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে। লাইসেন্সিং রিনিইউয়ালকে সহজতর করা হয়েছে, উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বহুমুখী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যেসব ইন্ডাস্ট্রির লোকাল সক্ষমতা রয়েছে সেখানে র মেটেরিয়ালের ইম্পোর্টের প্রাইস কমানো হয়েছে এবং ফাইনাল প্রোডাক্টের ইম্পোর্ট প্রাইস বাড়ানো হয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, হুমায়ূন কবির, জাহিদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ আরও অনেকেই।


প্রিন্ট