দেশে উচ্চশব্দের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪০ জন সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ পেয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের (ঢাকা মহানগর) পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ বাসস-কে জানান, প্রকল্পের শুরু থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, ৭২ হাজার ২০০ জন পরিবহনচালক ও শ্রমিক, ৮ হাজার ১৪০ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১ হাজার ৯২০ জন কারখানা ও নির্মাণশ্রমিক, ১ হাজার ৮০০ জন সাংবাদিক এবং ৫ হাজার ৫৮০ জন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, ইমাম, শিক্ষক ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন।
ফরিদ আহমেদ জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা এখন শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতন এবং তারা তাদের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করছেন এবং ইমামরা মুসল্লিদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করছেন।
শহরাঞ্চলে শব্দের মাত্রা কমাতে পরিবেশ অধিদপ্তর ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের হর্ন ও পরিবেশগত শব্দ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক প্রচার, অংশীজনদের প্রশিক্ষণ, নীরব এলাকা ঘোষণা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
শব্দদূষণ প্রতিরোধ ও কমাতে তাদের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি প্রকল্পের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফরিদ আহমেদ জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরো ৩৬ হাজার ১২০ জনকে শব্দদূষণের ব্যাপারে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে অবহিতকরণ ও দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করতে প্রকল্পের আওতায় ব্যাপক প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রচারণার অংশ হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের পাশাপাশি রেডিওতে নিয়মিত শব্দদূষণবিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।
ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শব্দদূষণবিষয়ক টেলিভিশন বিজ্ঞাপন (টিভিসি), খুদে বার্তা ও বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হচ্ছে।
শারীরিক সচেতনতামূলক উপকরণের মাধ্যমেও প্রকল্পটির জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করেছে। শব্দদূষণ বিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের জন্য মোট ১২৮টি বিলবোর্ড ও ২১০টি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া ৭ লাখ লিফলেট, ৭ লাখ অন্যান্য উপকরণ ও ১ হাজার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ছাপিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।
সচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ৭ হাজার ২৯৭টি মামলার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ ১ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজার ১৫৭ টাকা জরিমানা আদায় করেছে এবং ৬ হাজার ৯৮৬টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করেছে।
প্রকল্পের আওতায় জনসচেতনতামূলক বেশকিছু উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।
শব্দদূষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকায় ‘এক মিনিট নীরবতা’ পালন করা হয়।
নির্ধারিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিত করতে ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ডিওই ‘যুব উৎসব’ উদযাপনের অংশ হিসেবেও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যমে প্রচারণা, জনসম্পৃক্ততা ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি জনসচেতনতা আরো বাড়াতে এবং বাংলাদেশের সর্বত্র শব্দদূষণ কমাতে সহায়ক আচরণ গ্রহণে মানুষকে উৎসাহিত করতে কাজ করছে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 



















