ঢাকা ০৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের চাপে মার্কিন উৎপাদন খাত, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষ বাংলাদেশে মারুবেনির বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও দ্বিতীয় কাফকো স্থাপন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা সুনামগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা ভারতে গুগলের ডেটা সেন্টার নির্মাণকে ঘিরে তীব্র বিরোধিতা সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ সুনামগঞ্জে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি হচ্ছে : নৌপরিবহনমন্ত্রী সাজেকে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ ভারতের প্রযুক্তি খাতে অগ্রযাত্রা: জানার মতো ৫টি বিষয় রাজশাহী রেঞ্জ পু/লিশের অভিযানে ১৫৭ জন গ্রে/ফতার

আইসিইয়ের গুলিতে ডোমিনিকান নাগরিক আহত, নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)’র কর্মকর্তাদের গুলিতে এক ডোমিনিকান নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় আইসিইয়ের একটি অভিযানের সময় ২৮ বছর বয়সী অস্কার বার্গাল গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে। ঘটনার সময় তার গাড়িতে থাকা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে।

গুলির ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আইসিই বিলুপ্ত করো’।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরোধিতাকারী বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এই স্লোগানটি বহুল প্রচলিত।

মামদানির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেয়রের এ ধরনের বক্তব্য ‘বিপজ্জনক ও শত্রুতা উসকে দেয়’।

মুলিন বলেন, ‘মেয়র, আপনি যদি আইসিই বিলুপ্ত করে দেন, তাহলে আপনার শহরের অপরাধীদের রাস্তায় থেকে কে সরাবে? খুনি, চোর ও গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কে ব্যবস্থা নেবে?’

শুক্রবার এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ম্যানহাটনে কয়েক ব্লকজুড়ে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। এ সময় তারা ‘ঘৃণা নয়, ভয় নয়, অভিবাসীদের স্বাগত জানাই’ ও ‘আইসিই চাই না’— এমন স্লোগান দেন।

ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের সেই শহরগুলোর একটি, যেখানে স্থানীয় পুলিশকে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসনবিষয়ক আইন প্রয়োগে সহায়তা করতে দেওয়া হয় না।

বৃহস্পতিবার মামদানি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানাবেন বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক এ ঘটনা ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে গড়ে ওঠা তুলনামূলকভাবে উষ্ণ সম্পর্কের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে থাকা এক কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একটি রুপালি রঙের গাড়ির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে তাকে গাড়িটির চালকের পাশের জানালায় ঘুষি মারতেও দেখা যায়।

এরপর গাড়িটি অল্প সময়ের জন্য পেছনের দিকে যায়। এ সময় দ্বিতীয় এক সাদা পোশাকের কর্মকর্তা অস্ত্র বের করেন। গাড়িটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি চালকের দিকে অস্ত্র তাক করেন। পরে গাড়িটি ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে চলে যায়। এ সময় সেটি পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থাকতে পারে বলে ভিডিওতে মনে হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের চাপে মার্কিন উৎপাদন খাত, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বাড়ছে অসন্তোষ

আইসিইয়ের গুলিতে ডোমিনিকান নাগরিক আহত, নিউইয়র্কে বিক্ষোভ

আপডেট টাইম : ১১:৪৯:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)’র কর্মকর্তাদের গুলিতে এক ডোমিনিকান নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বিক্ষোভ করেছেন শত শত মানুষ।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকায় আইসিইয়ের একটি অভিযানের সময় ২৮ বছর বয়সী অস্কার বার্গাল গুলিবিদ্ধ হন। তার ঘাড়ে গুলি লাগে। ঘটনার সময় তার গাড়িতে থাকা পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে।

গুলির ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘আইসিই বিলুপ্ত করো’।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরোধিতাকারী বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এই স্লোগানটি বহুল প্রচলিত।

মামদানির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মেয়রের এ ধরনের বক্তব্য ‘বিপজ্জনক ও শত্রুতা উসকে দেয়’।

মুলিন বলেন, ‘মেয়র, আপনি যদি আইসিই বিলুপ্ত করে দেন, তাহলে আপনার শহরের অপরাধীদের রাস্তায় থেকে কে সরাবে? খুনি, চোর ও গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কে ব্যবস্থা নেবে?’

শুক্রবার এএফপির এক সাংবাদিক জানান, ম্যানহাটনে কয়েক ব্লকজুড়ে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হন। এ সময় তারা ‘ঘৃণা নয়, ভয় নয়, অভিবাসীদের স্বাগত জানাই’ ও ‘আইসিই চাই না’— এমন স্লোগান দেন।

ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের সেই শহরগুলোর একটি, যেখানে স্থানীয় পুলিশকে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসনবিষয়ক আইন প্রয়োগে সহায়তা করতে দেওয়া হয় না।

বৃহস্পতিবার মামদানি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানাবেন বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক এ ঘটনা ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে গড়ে ওঠা তুলনামূলকভাবে উষ্ণ সম্পর্কের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা পোশাকে থাকা এক কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একটি রুপালি রঙের গাড়ির দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে তাকে গাড়িটির চালকের পাশের জানালায় ঘুষি মারতেও দেখা যায়।

এরপর গাড়িটি অল্প সময়ের জন্য পেছনের দিকে যায়। এ সময় দ্বিতীয় এক সাদা পোশাকের কর্মকর্তা অস্ত্র বের করেন। গাড়িটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি চালকের দিকে অস্ত্র তাক করেন। পরে গাড়িটি ক্যামেরার দৃশ্যসীমার বাইরে চলে যায়। এ সময় সেটি পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থাকতে পারে বলে ভিডিওতে মনে হয়।


প্রিন্ট