মোঃ নয়ন মিয়া দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
যার যার,রাষ্ট্র সবার এই চেতনায় বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্ভয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করার আহ্বান জানিয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন,ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আপনারা নির্ভয়ে ধর্ম পালন করবেন, রাষ্ট্র আপনাদের পাশে থাকবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় বিষ্ণু মন্দিরসহ বিভিন্ন দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী,পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন,বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।
এ দেশে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবেন এটাই আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অঙ্গীকার। কোনো মানুষ যেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন,সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ,সহনশীলতা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়েই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য ও শক্তি। এই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দুর্গাপূজা সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক মন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়;এটি সামাজিক সম্প্রীতি,সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধেরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। তাই উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন,বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছেন। এই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভেদ,বিদ্বেষ কিংবা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়,সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বিভিন্ন মণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে উৎসবের পরিবেশ সম্পর্কে অবগত হন। এ সময় তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটি,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোথাও কোনো সন্দেহ জনক পরিস্থিতি বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। উৎসবের আনন্দ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতা পূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার প্রত্যাশা নবাবগঞ্জে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা,নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থায় সব ধর্মের মানুষের সমান মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বিশ্বাসের পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সবাই মিলেমিশে দুর্গাপূজার আনন্দ উপভোগ করবেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও সমৃদ্ধ করবেন।
উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আতিকুর রহমান, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর বক্তব্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা,নাগরিক নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 




















