ঢাকা ০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুর পিবিআইয়ের এসআই মো: আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আইজিপির দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ সময় থাকতে সতর্ক হোন, না হলে বিপদে পড়বেন : অলি আহমেদ মজুরি বোর্ড গঠন কাল, শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই: শ্রমমন্ত্রী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন থানার টেবিল থেকে কোর্টের বারান্দা- সুবিচারের নামে আর কত আইনি চাঁদাবাজি? নওগাঁর পত্নীতলায় ফসলের সাথে শত্রুতা: ৭ বিঘা জমির আমন ধান আগাছানাশক প্রয়োগে নষ্টের অভিযোগ মানব কল্যাণে নিবেদিত শীতলাই গ্রামের শারমিন মাহবুব ইউপি মেম্বার প্রার্থী ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন কেশতলা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ, সিট না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা

সময় থাকতে সতর্ক হোন, না হলে বিপদে পড়বেন : অলি আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারকে সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত সরকারের সব সিদ্ধান্তের দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে। বর্তমানে যারা প্রধানমন্ত্রীর পাশে রয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তাঁদের অনেকেই সরে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অলি আহমেদ বলেন, আমরা বারবার কয়েক মাস ধরে আপনাদের কষ্ট দিয়ে আসছি। মিটিং করে আপনাদের ডাকি, আমরা কথা বলি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এ কথাগুলো কিন্তু আমাদের জন্য না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা চাই, এই দেশটা সঠিক পথে চলুক। প্রত্যেকটা অফিসের জন্য, প্রত্যেকটা পদের জন্য একটা নিয়ম তৈরি হোক। সিস্টেম যদি ঠিক না থাকে, কখনো ওই দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। আপনি ইউরোপে যান, আমেরিকায় যান, প্রেসিডেন্ট কে হলো, না হলো, কিছু আসে যায় না। সিস্টেমই তার সবকিছু দেখভাল করে। আমাদের এখানে সিস্টেম নেই। যার কারণে আপনি দেখেছেন, এই সরকার আসার পর সমস্ত জেলা অফিস, জেলা পরিষদ অফিস, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সবকিছু এখন বিএনপি অফিসে পরিণত হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখন তারা ওখান থেকে কী করছে? সরকারের যে টেন্ডার, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। কোথায় কার বিট খালি, সেটা দখল করছে। কোথায় কার সমস্যা, সেখানে গিয়ে নাক গলাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, দিন শেষে সবকিছুর দোষ আপনার ওপর আসবে। যারা এখন আপনার সঙ্গে আছে, তারা তখন পালাবে। তারা তখন বলবে না যে আমরা এর জন্য দায়ী। প্রধানমন্ত্রী, এটা ঠিক করেননি। অনুরোধ করব, সময় থাকতে হাঁটেন, না হলে বিপদে পড়বেন। আমি বারবার আপনাকে সাবধান করে দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আপনি শুনছেন না। আপনি একটার পর একটা ভুল করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাজ হলো সরকারি দলকে সঠিক পথে রাখা। আমরা সেটা করছি। কিন্তু একটা পর্যায়ে আসবে, যেখানে আপনি শুনবেন না। ১৯৯৬ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বিএনপি শোনেনি, তখন যে অবস্থা হয়েছিল, ওই অবস্থা আবার পুনরায় এখানে হবে। রাতে না ঘুমিয়ে আইন পাস করতে হবে আপনাদের। ওই সময়ের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

সরকারকে পরামর্শ দিয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান বলেন, দয়া করে ভালো মানুষদের পরামর্শ নেন। মূর্খদের সঙ্গে বসে কোনো লাভ নেই। অনভিজ্ঞ লোকদের সঙ্গে বসে কোনো লাভ নেই। যারা জানে, তাদের সঙ্গে বসে কাজ করেন। ঠিক পথে চলেন। দেশ শান্তিতে থাকুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক। এটাই আমাদের কাম্য।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুর পিবিআইয়ের এসআই মো: আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আইজিপির দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ

সময় থাকতে সতর্ক হোন, না হলে বিপদে পড়বেন : অলি আহমেদ

আপডেট টাইম : ০২:৩৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারকে সময় থাকতে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত সরকারের সব সিদ্ধান্তের দায় প্রধানমন্ত্রীর ওপরই বর্তাবে। বর্তমানে যারা প্রধানমন্ত্রীর পাশে রয়েছেন, পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে তাঁদের অনেকেই সরে যেতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অলি আহমেদ বলেন, আমরা বারবার কয়েক মাস ধরে আপনাদের কষ্ট দিয়ে আসছি। মিটিং করে আপনাদের ডাকি, আমরা কথা বলি, কিন্তু কাজ হচ্ছে না। এ কথাগুলো কিন্তু আমাদের জন্য না। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা চাই, এই দেশটা সঠিক পথে চলুক। প্রত্যেকটা অফিসের জন্য, প্রত্যেকটা পদের জন্য একটা নিয়ম তৈরি হোক। সিস্টেম যদি ঠিক না থাকে, কখনো ওই দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। আপনি ইউরোপে যান, আমেরিকায় যান, প্রেসিডেন্ট কে হলো, না হলো, কিছু আসে যায় না। সিস্টেমই তার সবকিছু দেখভাল করে। আমাদের এখানে সিস্টেম নেই। যার কারণে আপনি দেখেছেন, এই সরকার আসার পর সমস্ত জেলা অফিস, জেলা পরিষদ অফিস, বিভিন্ন করপোরেশন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সবকিছু এখন বিএনপি অফিসে পরিণত হয়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখন তারা ওখান থেকে কী করছে? সরকারের যে টেন্ডার, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে। কোথায় কার বিট খালি, সেটা দখল করছে। কোথায় কার সমস্যা, সেখানে গিয়ে নাক গলাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অলি আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, দিন শেষে সবকিছুর দোষ আপনার ওপর আসবে। যারা এখন আপনার সঙ্গে আছে, তারা তখন পালাবে। তারা তখন বলবে না যে আমরা এর জন্য দায়ী। প্রধানমন্ত্রী, এটা ঠিক করেননি। অনুরোধ করব, সময় থাকতে হাঁটেন, না হলে বিপদে পড়বেন। আমি বারবার আপনাকে সাবধান করে দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু আপনি শুনছেন না। আপনি একটার পর একটা ভুল করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের কাজ হলো সরকারি দলকে সঠিক পথে রাখা। আমরা সেটা করছি। কিন্তু একটা পর্যায়ে আসবে, যেখানে আপনি শুনবেন না। ১৯৯৬ সালে যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বিএনপি শোনেনি, তখন যে অবস্থা হয়েছিল, ওই অবস্থা আবার পুনরায় এখানে হবে। রাতে না ঘুমিয়ে আইন পাস করতে হবে আপনাদের। ওই সময়ের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

সরকারকে পরামর্শ দিয়ে এলডিপির চেয়ারম্যান বলেন, দয়া করে ভালো মানুষদের পরামর্শ নেন। মূর্খদের সঙ্গে বসে কোনো লাভ নেই। অনভিজ্ঞ লোকদের সঙ্গে বসে কোনো লাভ নেই। যারা জানে, তাদের সঙ্গে বসে কাজ করেন। ঠিক পথে চলেন। দেশ শান্তিতে থাকুক, মানুষ শান্তিতে থাকুক। এটাই আমাদের কাম্য।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; আমার বাংলাদেশ পার্টির সভাপতি জনাব মুজিবুর রহমান মঞ্জু; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।


প্রিন্ট