ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুর পিবিআইয়ের এসআই মো: আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আইজিপির দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ সময় থাকতে সতর্ক হোন, না হলে বিপদে পড়বেন : অলি আহমেদ মজুরি বোর্ড গঠন কাল, শ্রমিকদের আন্দোলনে থাকার কোনো কারণ নেই: শ্রমমন্ত্রী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব জোরদার হয়েছে : হুমায়ুন থানার টেবিল থেকে কোর্টের বারান্দা- সুবিচারের নামে আর কত আইনি চাঁদাবাজি? নওগাঁর পত্নীতলায় ফসলের সাথে শত্রুতা: ৭ বিঘা জমির আমন ধান আগাছানাশক প্রয়োগে নষ্টের অভিযোগ মানব কল্যাণে নিবেদিত শীতলাই গ্রামের শারমিন মাহবুব ইউপি মেম্বার প্রার্থী ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়ন কেশতলা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল গাইবান্ধা সদর জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ, সিট না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা

নওগাঁর পত্নীতলায় ফসলের সাথে শত্রুতা: ৭ বিঘা জমির আমন ধান আগাছানাশক প্রয়োগে নষ্টের অভিযোগ

মোহাম্মদ সুমন হোসাইন:
নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় চরম শত্রুতার জেরে সাত বিঘা জমির আমন ধানে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে তা পুড়িয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ করেছেন জমির মালিক। এতে কৃষকদের প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৩ অক্টোবর রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাঠে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা উপজেলার মল্লিকপুর মাঠের ওই জমিতে কৃষক ও জমির মালিক বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীব আমন ধানের চাষ করেছিলেন। ধানগুলোতে সবেমাত্র ফুল আসা শুরু করেছিল এবং সবুজ আবহে মাঠজুড়ে এক অপরূপ দৃশ্য বিরাজ করছিল। ঠিক এমন সময় রাতের আঁধারে চাচা আব্দুর রাজ্জাক এবং তার দুই ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ ও ইয়াছির আরাফাত শ্যামল জমিতে ক্ষতিকর আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেন। পরদিন সকালে কৃষকরা মাঠে গিয়ে দেখতে পান, পুরো ৭ বিঘা জমির ধান বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে ও পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে কৃষকদের কয়েক মাসের সোনালী স্বপ্ন ও পরিশ্রম নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

এলাকাবাসী শাহিনুর আলম বলেন, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। তারই জেরে রাতের আঁধারে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। এই ক্ষতি শুধু জমির মালিকের একাই নয়, এটি পুরো দেশের খাদ্যশস্যের অপূরণীয় ক্ষতি। এই কাজের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ভুক্তভোগী জমির মালিক আহসান হাবীব বলেন, এই জমিটি তিনি তার চাচা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন। ক্রয় করার পর কিছুদিন তার চাচা বর্গা চাষি হিসেবে জমিটি চাষাবাদ করেন। পরবর্তীতে তারা জমিটি নিজেরা চাষ করতে শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার আমাদের ক্ষতি করেছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে পাকা ধান লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কাদা-পানির সাথে মিশিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও অনেক কষ্টে ধান চাষাবাদ করেছিলাম। ধানগুলো সবেমাত্র ফুলে ওঠার সময় আমার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান পলাশ তার দলীয় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে চাচা আব্দুর রাজ্জাক এবং অপর ভাই ইয়াছির আরাফাত শ্যামল তাদের কিছু অজ্ঞাত সহযোগী নিয়ে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে ধানগুলো পুড়িয়ে নষ্ট করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আর এক ভুক্তভোগী বেলাল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে মেহেদী হাসান পলাশ পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি দলীয় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তার বাবা ও ভাইয়ের সাথে মিলে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এর আগেও তারাই এখানে একইভাবে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন।
প্রশাসনের নিকট এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পত্নীতলা উপজেলার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল রহমান বলেন, “আমি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। প্রায় ৭ বিঘা জমিতে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে কৃষক মো. বেলাল হোসেন ও আবু আহসান হাবীবের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলে বাড়িটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুর পিবিআইয়ের এসআই মো: আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে আইজিপির দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ

নওগাঁর পত্নীতলায় ফসলের সাথে শত্রুতা: ৭ বিঘা জমির আমন ধান আগাছানাশক প্রয়োগে নষ্টের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০১:২৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মোহাম্মদ সুমন হোসাইন:
নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় চরম শত্রুতার জেরে সাত বিঘা জমির আমন ধানে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে তা পুড়িয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে আপন চাচা ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ করেছেন জমির মালিক। এতে কৃষকদের প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ২৩ অক্টোবর রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের মল্লিকপুর মাঠে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পত্নীতলা উপজেলার মল্লিকপুর মাঠের ওই জমিতে কৃষক ও জমির মালিক বেলাল ইসলাম ও আবু আহসান হাবীব আমন ধানের চাষ করেছিলেন। ধানগুলোতে সবেমাত্র ফুল আসা শুরু করেছিল এবং সবুজ আবহে মাঠজুড়ে এক অপরূপ দৃশ্য বিরাজ করছিল। ঠিক এমন সময় রাতের আঁধারে চাচা আব্দুর রাজ্জাক এবং তার দুই ছেলে মেহেদী হাসান পলাশ ও ইয়াছির আরাফাত শ্যামল জমিতে ক্ষতিকর আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করেন। পরদিন সকালে কৃষকরা মাঠে গিয়ে দেখতে পান, পুরো ৭ বিঘা জমির ধান বিবর্ণ হয়ে শুকিয়ে ও পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে কৃষকদের কয়েক মাসের সোনালী স্বপ্ন ও পরিশ্রম নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

এলাকাবাসী শাহিনুর আলম বলেন, জমি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। তারই জেরে রাতের আঁধারে কে বা কারা বিষ প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ ধানক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। এই ক্ষতি শুধু জমির মালিকের একাই নয়, এটি পুরো দেশের খাদ্যশস্যের অপূরণীয় ক্ষতি। এই কাজের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

ভুক্তভোগী জমির মালিক আহসান হাবীব বলেন, এই জমিটি তিনি তার চাচা আব্দুর রাজ্জাকের কাছ থেকে ক্রয় করেছিলেন। ক্রয় করার পর কিছুদিন তার চাচা বর্গা চাষি হিসেবে জমিটি চাষাবাদ করেন। পরবর্তীতে তারা জমিটি নিজেরা চাষ করতে শুরু করলে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার আমাদের ক্ষতি করেছে। গত ইরি-বোরো মৌসুমে পাকা ধান লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কাদা-পানির সাথে মিশিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও অনেক কষ্টে ধান চাষাবাদ করেছিলাম। ধানগুলো সবেমাত্র ফুলে ওঠার সময় আমার চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান পলাশ তার দলীয় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে চাচা আব্দুর রাজ্জাক এবং অপর ভাই ইয়াছির আরাফাত শ্যামল তাদের কিছু অজ্ঞাত সহযোগী নিয়ে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে ধানগুলো পুড়িয়ে নষ্ট করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

আর এক ভুক্তভোগী বেলাল ইসলাম বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে মেহেদী হাসান পলাশ পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। তিনি দলীয় ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তার বাবা ও ভাইয়ের সাথে মিলে এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এর আগেও তারাই এখানে একইভাবে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন।
প্রশাসনের নিকট এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পত্নীতলা উপজেলার কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শরিফুল রহমান বলেন, “আমি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। প্রায় ৭ বিঘা জমিতে আগাছানাশক কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে কৃষক মো. বেলাল হোসেন ও আবু আহসান হাবীবের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাটিচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে গেলে বাড়িটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক জানান, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


প্রিন্ট