স্পোর্টস ডেস্ক: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের একাদশে তিন স্পিনার খেলানোর টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদ।
ম্যাচের শেষ দিকে উইকেট স্পিনারদের সহায়তা করবে–এমন বিশ্বাস থেকেই এই কৌশল সঠিক ছিল বলে মনে করেন তিনি।
প্রথম দিনের খেলায় পেসারদের সাফল্য দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, আরও একজন পেসার থাকলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা যেত। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথম ঘন্টায় ক্যারিবীয় ব্যাটাররা বেশ চাপে ছিলেন।
ওই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারায়। তবে আমির জাঙ্গুর সেঞ্চুরির ওপর ভর করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ হয়। দিনশেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৩৫ রান।
তাসকিন ও তাঁর পেস সতীর্থ হাসান মাহমুদ দুটি করে উইকেট নেন।
দিনের খেলা শেষে তাসকিন বলেন, “দল নির্বাচন পুরোপুরি টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব। তারা উইকেট ও কন্ডিশন বিবেচনা করে দলের জন্য যেটা ভাল হয় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাচ তো মাত্র শুরু হয়েছে। ফল পাওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসতে পারে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে, যখন স্পিনাররা সহায়তা পেতে পারে।
“ব্যক্তিগতভাবে আমারও মনে হয়েছে, আরও একজন পেসার থাকলে বিশেষ করে সকালে আমাদের বোলিং ইউনিট আরও শক্তিশালী হতে পারত। তবে ম্যানেজমেন্ট যে সমন্বয় বেছে নিয়েছে, তা নিয়েই আমাদের লড়াই করতে হবে।
“তবে এটি ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভালো উইকেট। পরে সবাই বুঝতে পেরেছে, ব্যাটিং করা সহজ হয়ে উঠেছে।”
প্রথম দিনে দীর্ঘ সময় বোলিং করা দুই পেসারের ওপর কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়ে তাসকিন বলেন, “আগের তুলনায় এখন কাজের চাপ অনেক ভালোভাবে সামলানো হচ্ছে। তবে পেসার কিংবা স্পিনার-দলীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করার জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হয়। কত ওভার বোলিং করতে হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
তাঁর মতে, এই উইকেটে বোলারদের ভুল করার সুযোগ খুবই কম। লাইন ও লেংথে সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেই ব্যাটারদের পক্ষে সহজে রান করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “এখানে পেসার ও স্পিনার- উভয়েরই ভুল করার সুযোগ খুব কম। সামান্য ভুল করলেই ব্যাটারদের রান করা সহজ হয়ে যায়। ফিল্ডিং সাজানোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে বোলিং করতে হবে। দীর্ঘ সময় এভাবে বোলিং করতে পারলে ব্যাটারদের ভুল করার সম্ভাবনা বাড়বে।
“এখানে কোনো জাদুকরি বল নেই। জোর করে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করলে শুধু রানই খরচ হবে।”
বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি ক্যাচ ফেলেছে এবং সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ঢাকায় প্রথম টেস্টেও একই সমস্যা দেখা গিয়েছিল। এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, “চাপের মুখে আমরা প্রায়ই ভেঙে পড়ি। নিজেদের সেরাটা ধরে রাখতে খেলা সম্পর্কে সচেতনতা ও শারীরিক ভাষা- এই দুটি জায়গায় আমাদের উন্নতি করতে হবে।
“আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং সব ক্ষেত্রেই চাপ থাকবে। কারও কাছ থেকে সহানুভূতি আশা না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং তা মোকাবিলা করতে শিখতে হবে।”
তবে অতীতের তুলনায় বিশেষ করে স্লিপ ও গালিতে ক্যাচ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে বলে মনে করেন তাসকিন। তিনি জানান, ফিল্ডিংয়ের এই জায়গায় উন্নতির জন্য দল কঠোর পরিশ্রম করছে। বাকি চার দিনে আরও ভালো পারফরম্যান্সের প্রত্যাশাও তাঁর।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম তাঁর দলের ৪০০ রান করার এবং বাংলাদেশকে দুইবার অলআউট করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে তাসকিন বলেন, এমন মন্তব্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সিলেটে টেস্টে অভিষেক হওয়া উইকহ্যাম প্রথম দিনেই অর্ধশতক করেছেন।
তাসকিন বলেন, “সে মাত্রই অভিষেক করেছে এবং রানও পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সে রোমাঞ্চিত। সে অনেক কিছু বলতে পারে, এতে সমস্যা নেই। টেস্ট ক্রিকেট অনিশ্চয়তায় ভরা। তারা কাল ৪৫০ রানও করতে পারে, আবার এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ রানে সব উইকেট হারাতে পারে। টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই এটি।
“ঐতিহাসিকভাবে সিলেটের উইকেট প্রথম দুই বা তিন দিন ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো থাকে। তবে আগামীকাল সকালে প্রথম ঘণ্টায় আমরা অসাধারণ কিছু করতে পারলে এবং উইকেটের আর্দ্রতা কাজে লাগাতে পারলে দ্রুত উইকেট তুলে নেয়া সম্ভব।”
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















