নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের জামাতের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করবেন।
জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, এবারের ঈদগাহ ময়দানের ঈদের নামাজটা স্বাভাবিক কারণে একটু ঐতিহাসিক হবে। কারণটা হচ্ছে এজন্য যে, এখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং দীর্ঘদিন পর সারা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম ঈদুল ফিতর উদযাপন হচ্ছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এই ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায়ের সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
‘দীর্ঘদিন পর জাতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এই ঈদে একসঙ্গে দুইজন ভিভিআইপি কে নামাজ পড়ার জন্য দেখবেন।’
ঢাকা সিটি করপোরেশনের আয়োজনে জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান জামাতের প্রস্তুতির অবস্থা দেখতে সকালে জাতীয় ঈদগাহে আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহে আলম, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম। এ সময়ে স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, প্রধান মন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার ছিলেন। তারা পুরো ঈদগাহ ঘুরে দেখেন।
প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
সংবাদ ব্রিফিঙে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সকাল সাড়ে ৮ টায় জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবার আমি সানন্দের সাথে ঘোষণা করছি যে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান আমাদের সাথে একসাথে জামাতে নামাজ পড়বেন। আমরা আশা করি আমাদের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যারা আছেন তারাও এখানে নামাজ পড়বেন।
জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজের ব্যবস্থা আছে। পাশাপাশি মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা আছে। এইখানে ওযুর ব্যবস্থাও করা আছে। মহিলাদের জন্য একই ব্যবস্থা করা আছে।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাতে অংশ নিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রশাসক।
নীলসাগর দুর্ঘটনায় স্টেশন মাস্টার ও ২ চালক বরখাস্ত
এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় মন্ত্রী জানান, পুরুষ ও মহিলা মিলে প্রায় ৪০ হাজার এখানে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবে। মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে তা ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বৈঠক করে পরে গণমাধ্যমকে জানাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ঈদগাহে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে বলে জানান সিটি প্রশাসক।
তিনি বলেন, ভিভিআইপির নিরাপত্তার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফের সদস্যরা কাজ করছেন।
ভিন্ন সাজে জাতীয় ঈদগাহ
জাতীয় ঈদগাহের চারপাশ পরিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে তোরণ যেখানে লেখা রয়েছে, ওহ মন রমজানে ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। ঈদ মোবারক।
পুরো ঈদগাহ মাঠ পুরোটাই ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। বিছানো হয়েছে কার্পেট। পর্যাপ্ত ফ্যান এবং লাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মুসল্লিদের অজুর জন্য রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। অজুর জন্য সারি সারি পানির ট্যাপগুলো নতুনভাবে লাগানো হয়েছে। রাখা হয়েছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
জাতীয় ঈদগাহে পুলিশ ও র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ফায়ার ব্রিগেড়ের একটি টিমও জাতীয় ঈদগাহের কাছে থাকবে বলে জানান প্রশাসক।
জাতীয় ঈদগাহের প্রবেশ পথ দুইটি। ভিভিআইপিদের প্রবেশের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গন দিয়ে আলাদা একটি গেইট করা হয়েছে।