সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৬ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করছেন ট্রাম্প

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ বার পঠিত

আন্তজাৃতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে যাওয়া—যা “বার্থ ট্যুরিজম” নামে পরিচিত—এখন কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গর্ভবতী নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে এমন চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট আইসিই। নতুন এই উদ্যোগের লক্ষ্য, বিদেশি নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার অপচেষ্টা রোধ করা।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ সীমিত করতে এই বার্থ ট্যুরিজমকে বড় যুক্তি হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই বেআইনি নয়, তবে ভিসা জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে এই সুবিধা নেওয়া আইন লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, এ ধরনের চক্র শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিমালা চালু করে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়, শুধুমাত্র নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পর্যটক ভিসা ব্যবহার করা যাবে না।

তবে জন্ম পর্যটনের সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নেই। একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ সালে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার বিদেশি নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩৬ লাখ শিশু জন্ম নিয়েছে, যার তুলনায় এই সংখ্যা খুবই কম। তবুও রিপাবলিকানদের একটি অংশ বিষয়টিকে বড় ইস্যু হিসেবে দেখছে।

ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বলা হয়, বাবা-মায়ের কেউ মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হলে সন্তানকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। তবে এই আদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

আইসিইর এই নতুন উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী সংগঠিত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেবে।

এর আগে ২০১৯ সালে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম পর্যটন সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি দোষ স্বীকার করেন এবং কারাদণ্ডও দেওয়া হয়।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com