গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তীব্র গ্যাস সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ ৩রা আগস্ট সোমবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উত্তরা অঞ্চলের উদ্যোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উত্তরা এলাকার প্রধান প্রধান সড়কে অনুষ্ঠিত এই মিছিলে সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাধারণ সমর্থকেরা অংশগ্রহণ করেন।
সংগঠনটির সূত্র মতে, সকালে উত্তরা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলকারীরা বিভিন্ন গণমুখী ও প্রতিবাদী স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন। মিছিলটি ঈদগাহ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে উত্তরার প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচি শেষে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভার মাধ্যমে মিছিলটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। মিছিলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সারির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ঢাকা শহরসহ দেশজুড়ে তৈরি হওয়া তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে বাসাবাড়ির রান্নাবান্না থেকে শুরু করে শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বাসাবাড়িতে স্বাভাবিক রান্নাবান্না করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ নাগরিকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অন্যদিকে শিল্প খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বেপরোয়া ঊর্ধ্বগতি রোধ করার দাবি জানায় মিছিলকারীরা। চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে সমাবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বক্তাদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজির কারণেই বাজারে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে বাজার ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান কর্তব্য। গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা অবিলম্বে গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণরায় কার্যকর করার তাগিদ দেন। একই সাথে বলা হয়, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব না হলে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে না দিলে রাজপথের এই আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মিছিল ও পথসভাটি সম্পন্ন হয়।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 






















