ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক এবং ওষুধ জব্দ এআইয়ের ফাঁদে সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও হয়রানির শিকার নয় সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে আজ থেকে ট্রেন চলাচল শুরু যুক্তরাষ্ট্র শর্ত না মানা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না : ইরান সৌদি আরবের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক জনসেবার অঙ্গীকার নিয়ে বলড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান-মৃধা মোঃ গোলাম রসূল (শাহিন) রূপগঞ্জে পরিবেশ উন্নয়নে অভিযান, গাছের চারা রোপন, বিতরণ ও আলোচনা সভা নরসিংদী আমদিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক যুবককে নির্যাতন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলো যুবদল নেতা জুলাইয়ে চীনে মূল্যস্ফীতি কমে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, পূর্বাভাসের নিচে

এসএসসি ২০২৬,পাসের হার ৬২.২৫%, শীর্ষে রাজউক মডেল কলেজ

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর সারাদেশে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ের এই ফলাফলের মাঝেও বরাবরের মতো নিজেদের অনন্য ও ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। শতভাগ পাসের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সিংহভাগ শিক্ষার্থী অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সারাদেশ জুড়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। সার্বিক ফলাফলে সারাদেশে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ—এই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি উভয় দিক থেকেই শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ।

জাতীয় পর্যায়ের এই সমীকরণের মধ্যেও নিজেদের শীর্ষ অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সর্বমোট ৯০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সবাই সাফল্য অর্জন করায় পাসের হার ১০০% বজায় রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বমোট ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ৬১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা বিজ্ঞান বিভাগে শতকরা ৮৯.২১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৬২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ২৮.০৫ শতাংশ। দুটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ৯০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৭৪ জন সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বমোট জিপিএ-৫ পাওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩১ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির এমন অসামান্য অর্জনে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে ওঠেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। এই গৌরবময় সাফল্য নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মনিষ্ঠ অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আধুনিক ও আন্তরিক পাঠদান পদ্ধতি এবং অভিভাবকদের ধারাবাহিক সচেতনতা ও সহযোগিতার বলেই প্রতি বছর এমন উজ্জ্বল ফল লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে এই সাফল্য ধরে রাখার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক এবং ওষুধ জব্দ

এসএসসি ২০২৬,পাসের হার ৬২.২৫%, শীর্ষে রাজউক মডেল কলেজ

আপডেট টাইম : ০২:৩৮:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর সারাদেশে গড় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ। জাতীয় পর্যায়ের এই ফলাফলের মাঝেও বরাবরের মতো নিজেদের অনন্য ও ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। শতভাগ পাসের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সিংহভাগ শিক্ষার্থী অর্জন করেছে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডসমূহ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সারাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সারাদেশ জুড়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পরীক্ষার্থী। সার্বিক ফলাফলে সারাদেশে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ—এই ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি উভয় দিক থেকেই শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ভোকেশনাল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ।

জাতীয় পর্যায়ের এই সমীকরণের মধ্যেও নিজেদের শীর্ষ অবস্থান সুদৃঢ় রেখেছে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সর্বমোট ৯০৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সবাই সাফল্য অর্জন করায় পাসের হার ১০০% বজায় রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বমোট ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এদের মধ্যে ৬১২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা বিজ্ঞান বিভাগে শতকরা ৮৯.২১ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২২১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৬২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ২৮.০৫ শতাংশ। দুটি বিভাগ মিলিয়ে মোট ৯০৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৭৪ জন সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বমোট জিপিএ-৫ পাওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৭৪.৩১ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির এমন অসামান্য অর্জনে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে ওঠেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ। এই গৌরবময় সাফল্য নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মনিষ্ঠ অধ্যবসায়, শিক্ষকদের আধুনিক ও আন্তরিক পাঠদান পদ্ধতি এবং অভিভাবকদের ধারাবাহিক সচেতনতা ও সহযোগিতার বলেই প্রতি বছর এমন উজ্জ্বল ফল লাভ করা সম্ভব হচ্ছে। মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে এই সাফল্য ধরে রাখার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


প্রিন্ট