ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটের কারনে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত বিপাকে কারখানার মালিক নির্ধারিত এলাকার সমস্ত প্ল্যান পাস করবে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: মউক চেয়ারম্যান ছয় মাসে রেলওয়ের আয় বেড়েছে ২২৫ কোটি টাকা : রেলমন্ত্রী ‎মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন : পানিসম্পদ মন্ত্রী বাগেরহাটে সড়ক দু/র্ঘ/টনায় নি/হ/ত ও আ/হতদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর শেরপুরে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সিইপিএ’র পথে এগোতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : হুমায়ুন কবির সুনামগঞ্জে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতির জমি রক্ষায় এক দিন মুজুরের মানববন্ধন মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর টাঙ্গাইলে জেলা পরিষদের ডাকবাংলা নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটের কারনে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত বিপাকে কারখানার মালিক

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাসসংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্পকারখানা। টানা ১০-১৫ দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় ভাড়া কৃত সিলেন্ডার গ্যাস দিয়ে চালাই গার্মেন্টস, ডাইং, সিরামিক, স্টিলসহ বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ। ফলে হাজারো জমি বেকার, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ কারখানায় মেশিন নীরব। যেসব কারখানা টেনেটুনে চালু আছে সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান কমে গেছে। ডাইং কারখানায় কাপড়ের রং ঠিকমতো আসছে না, সিরামিকে পণ্য ফেটে যাচ্ছে।একজন গার্মেন্টস মালিক বলেন, গ্যাস না থাকায় বয়লার চলছে না। যে ৪০% উৎপাদন করছি তার মানও খারাপ। বিদেশি বায়ার অর্ডার বাতিল করছে। এই পণ্য ধ্বংস করা ছাড়া উপায় নেই।
গ্যাসসংকটের কারণে ছোট-বড় কারখানা বন্ধ থাকায় হাজারো কারখানার জমি এখন বেকার পড়ে আছে। কারখানা না চলায় মালিকরা ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা করা উদ্যোক্তারা কিস্তির চাপে আত্মহত্যার মতো অবস্থা।

মো.রফিকুল ইসলাম কারখানা মালিকবলেন,ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা লোন নিয়ে ফ্যাক্টরি করেছি। ২ মাস ধরে গ্যাস নাই। প্রোডাকশন নাই, ইনকাম নাই। ব্যাংক প্রতিদিন ফোন দেয়। ছেলেমেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না।
কারখানা বন্ধ থাকায় কয়েক হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা। অনেক কারখানা অর্ধেক বেতনে ছুটি দিয়েছে।

একজন শ্রমিক বলেন,১৫ দিন ধরে কাজ নাই। বাসা ভাড়া, বাজারের টাকা কই পাব? মালিকও বলছে গ্যাস নাই, কী করব?

তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, কালিয়াকৈরে শিল্প ও আবাসিক মিলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ৪০-৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে রেশনিং করে এই সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুর চেম্পার অফ কমার্সের নেতৃবৃন্দরা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তা অপূরণীয়। সরকারের কাছে দাবি, আগামী ৩ মাসের ব্যাংক কিস্তি, সুদ ও জরিমানা মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ফখরুল হোসেন বলেন,বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কালিয়াকৈর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটের কারনে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত বিপাকে কারখানার মালিক

কালিয়াকৈরে গ্যাস সংকটের কারনে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত বিপাকে কারখানার মালিক

আপডেট টাইম : ০৭:৫৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ

 

শিল্পাঞ্চল গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাসসংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্পকারখানা। টানা ১০-১৫ দিন ধরে গ্যাসের চাপ না থাকায় ভাড়া কৃত সিলেন্ডার গ্যাস দিয়ে চালাই গার্মেন্টস, ডাইং, সিরামিক, স্টিলসহ বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ। ফলে হাজারো জমি বেকার, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের শঙ্কা এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা শিল্পাঞ্চলের বেশিরভাগ কারখানায় মেশিন নীরব। যেসব কারখানা টেনেটুনে চালু আছে সেখানেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান কমে গেছে। ডাইং কারখানায় কাপড়ের রং ঠিকমতো আসছে না, সিরামিকে পণ্য ফেটে যাচ্ছে।একজন গার্মেন্টস মালিক বলেন, গ্যাস না থাকায় বয়লার চলছে না। যে ৪০% উৎপাদন করছি তার মানও খারাপ। বিদেশি বায়ার অর্ডার বাতিল করছে। এই পণ্য ধ্বংস করা ছাড়া উপায় নেই।
গ্যাসসংকটের কারণে ছোট-বড় কারখানা বন্ধ থাকায় হাজারো কারখানার জমি এখন বেকার পড়ে আছে। কারখানা না চলায় মালিকরা ঘর ভাড়া দিতে পারছেন না। অন্যদিকে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কারখানা করা উদ্যোক্তারা কিস্তির চাপে আত্মহত্যার মতো অবস্থা।

মো.রফিকুল ইসলাম কারখানা মালিকবলেন,ব্যাংক থেকে ৫ কোটি টাকা লোন নিয়ে ফ্যাক্টরি করেছি। ২ মাস ধরে গ্যাস নাই। প্রোডাকশন নাই, ইনকাম নাই। ব্যাংক প্রতিদিন ফোন দেয়। ছেলেমেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না।
কারখানা বন্ধ থাকায় কয়েক হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার আশঙ্কা। অনেক কারখানা অর্ধেক বেতনে ছুটি দিয়েছে।

একজন শ্রমিক বলেন,১৫ দিন ধরে কাজ নাই। বাসা ভাড়া, বাজারের টাকা কই পাব? মালিকও বলছে গ্যাস নাই, কী করব?

তিতাস গ্যাস সূত্র জানায়, কালিয়াকৈরে শিল্প ও আবাসিক মিলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ৪০-৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে রেশনিং করে এই সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুর চেম্পার অফ কমার্সের নেতৃবৃন্দরা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎসংকটের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা যে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তা অপূরণীয়। সরকারের কাছে দাবি, আগামী ৩ মাসের ব্যাংক কিস্তি, সুদ ও জরিমানা মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি শিল্প এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করতে হবে।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএসএম ফখরুল হোসেন বলেন,বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কালিয়াকৈর দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। এখানে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকলে জাতীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।


প্রিন্ট