ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গায় মহাসড়কে গু/লিবর্ষণ, এসআরবির হাতে আ/টক ২ ‎পিরোজপুরে যুবদলের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পালন ধামইরহাটকে আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অংগিকার তথ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ভেনেজুয়েলার স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম যুক্তরাষ্ট্রে হামে আরও একজনের মৃ/ত্যু, বাড়ছে প্রাদুর্ভাব উচ্চতর ডিগ্রির স্বপ্নে কানাডার পথে মেধাবী তাহমিদ ধামইরহাটে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ডে দুর্নীতি; শাস্তির মুখোমুখি কেডিএ’র কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা

খুলনা শিপইয়ার্ডে দুর্নীতি; শাস্তির মুখোমুখি কেডিএ’র কর্মকর্তা

 খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেডিএ’র চেয়ারম্যানকে এবং কেডিএতে প্রেষণে আসা তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত চিঠি কেডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে।

অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা হলেন কেডিএ’র সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামান ও বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

কেডিএ’র কর্মকর্তারা হলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী) কাজী সাবিরুল আলম, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুল হক এবং অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার এম এম হোসেন আলী।

কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৩ সালের ৭ মে। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। উল্টো খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়। গত ৯ জুন একনেকে প্রকল্পটির তৃতীয় দফা সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গাফিলতি ও দেরির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। ওই দিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে ওই ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও আর্থিক অনিয়ম, সমীক্ষা ছাড়া ডিপিপি প্রণয়ন এবং প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা দীর্ঘ দুই বছর কেডিএ’র নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেডিএ’র চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বাসস’কে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় মহাসড়কে গু/লিবর্ষণ, এসআরবির হাতে আ/টক ২

খুলনা শিপইয়ার্ডে দুর্নীতি; শাস্তির মুখোমুখি কেডিএ’র কর্মকর্তা

আপডেট টাইম : ১২:৩৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেডিএ’র চেয়ারম্যানকে এবং কেডিএতে প্রেষণে আসা তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্তির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত চিঠি কেডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে।

অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা হলেন কেডিএ’র সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামান ও বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

কেডিএ’র কর্মকর্তারা হলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার, তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলী) কাজী সাবিরুল আলম, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুল হক এবং অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার এম এম হোসেন আলী।

কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায় ২০১৩ সালের ৭ মে। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটির কাজ শেষ হয়নি। উল্টো খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়। গত ৯ জুন একনেকে প্রকল্পটির তৃতীয় দফা সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গাফিলতি ও দেরির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন। ওই দিনই মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে ওই ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও আর্থিক অনিয়ম, সমীক্ষা ছাড়া ডিপিপি প্রণয়ন এবং প্রকল্পে বরাদ্দ হওয়া ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা দীর্ঘ দুই বছর কেডিএ’র নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তর করে আর্থিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেডিএ’র চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বাসস’কে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রিন্ট