ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাঙ্গায় মহাসড়কে গু/লিবর্ষণ, এসআরবির হাতে আ/টক ২ ‎পিরোজপুরে যুবদলের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পালন ধামইরহাটকে আদর্শ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অংগিকার তথ্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ভেনেজুয়েলার স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম যুক্তরাষ্ট্রে হামে আরও একজনের মৃ/ত্যু, বাড়ছে প্রাদুর্ভাব উচ্চতর ডিগ্রির স্বপ্নে কানাডার পথে মেধাবী তাহমিদ ধামইরহাটে নানা আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ডে দুর্নীতি; শাস্তির মুখোমুখি কেডিএ’র কর্মকর্তা দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা

ভেনেজুয়েলার স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার বেশিরভাগ স্কুল ছিল প্রায় ফাঁকা। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আবারও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হতে পারে— এই আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাননি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা একই নামের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত।
গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

ক্যারিবীয় দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই দুর্যোগে শত শত ভবন ধসে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু স্কুল।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় দিতে আরও ৬০টি স্কুল ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
ফলে অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে অস্থায়ী তাবুর নিচে।

মঙ্গলবার এমনই একটি তাঁবুতে পরিচালিত স্কুলে এক শিক্ষিকা ১৪ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মানসিক চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকেন।

৪৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা মারিয়া হেরেরা এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর শিশুরা এখনও মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও সংবেদনশীল অবস্থায় আছে। তাদের সঙ্গে যে বিষয়েই কথা বলুন না কেন, তারা শেষ পর্যন্ত ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলবেই। তাদের কথা শোনা খুব জরুরি, যাতে ভেতরে জমে থাকা আবেগগুলো তারা প্রকাশ ও সামলে নিতে পারে।’
অনেক অভিভাবক এখনো নতুন করে ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় সন্তানদের পাকা ভবনের শ্রেণিকক্ষে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

লা গুয়াইরা বন্দরনগরীর হাতে গোনা যে কয়েকটি স্কুল খোলা হয়েছে, তার একটি জন পল টু ডায়োসেসান এডুকেশনাল ইউনিট। নতুন শিক্ষাবর্ষে এই স্কুলে মাত্র ৩০০ জনের কিছু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অথচ স্কুলটির ধারণক্ষমতা এর দ্বিগুণেরও বেশি।

মঙ্গলবার স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মার্কো আন্তোনিও এসপিনোজা বলেন, ‘ক্লাসে ফেরার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ও নিরাপদভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মীদের মানসিক সুস্থতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ইয়ানেত দোমিঙ্গেস জানান, স্কুল ভবনটি কাঠামোগতভাবে কতটা নিরাপদ— এ নিয়ে অভিভাবকেরা তাকে বারবার প্রশ্ন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে জানিয়েছি, ভবনটিতে এ বছর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। তাই আপনাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।’

৪০ বছর বয়সী শিল্প প্রকৌশলী আমনি নুনেস তার দুই ছোট সন্তানকে আবার স্কুলে পাঠিয়েছেন।
তার মতে, ভয় থাকলেও জীবনকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে নিতে হবে।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তাদেরকে বুঝতে হবে যে পৃথিবী তার নিজের গতিতে ঘুরছে। এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে।’

 


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাঙ্গায় মহাসড়কে গু/লিবর্ষণ, এসআরবির হাতে আ/টক ২

ভেনেজুয়েলার স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম

আপডেট টাইম : ০২:০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার একদিন পর মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার বেশিরভাগ স্কুল ছিল প্রায় ফাঁকা। শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আবারও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হতে পারে— এই আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে পাঠাননি।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা একই নামের একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের জন্য পরিচিত।
গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

ক্যারিবীয় দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই দুর্যোগে শত শত ভবন ধসে পড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহু স্কুল।

৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারানো হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয় দিতে আরও ৬০টি স্কুল ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
ফলে অনেক এলাকায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে অস্থায়ী তাবুর নিচে।

মঙ্গলবার এমনই একটি তাঁবুতে পরিচালিত স্কুলে এক শিক্ষিকা ১৪ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে মানসিক চাপ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার অংশ হিসেবে তিনি ব্ল্যাকবোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকেন।

৪৩ বছর বয়সী শিক্ষিকা মারিয়া হেরেরা এএফপিকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর শিশুরা এখনও মানসিকভাবে আতঙ্কিত ও সংবেদনশীল অবস্থায় আছে। তাদের সঙ্গে যে বিষয়েই কথা বলুন না কেন, তারা শেষ পর্যন্ত ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলবেই। তাদের কথা শোনা খুব জরুরি, যাতে ভেতরে জমে থাকা আবেগগুলো তারা প্রকাশ ও সামলে নিতে পারে।’
অনেক অভিভাবক এখনো নতুন করে ভূমিকম্প হওয়ার আশঙ্কায় সন্তানদের পাকা ভবনের শ্রেণিকক্ষে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

লা গুয়াইরা বন্দরনগরীর হাতে গোনা যে কয়েকটি স্কুল খোলা হয়েছে, তার একটি জন পল টু ডায়োসেসান এডুকেশনাল ইউনিট। নতুন শিক্ষাবর্ষে এই স্কুলে মাত্র ৩০০ জনের কিছু বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। অথচ স্কুলটির ধারণক্ষমতা এর দ্বিগুণেরও বেশি।

মঙ্গলবার স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক মার্কো আন্তোনিও এসপিনোজা বলেন, ‘ক্লাসে ফেরার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ও নিরাপদভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মীদের মানসিক সুস্থতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষক ইয়ানেত দোমিঙ্গেস জানান, স্কুল ভবনটি কাঠামোগতভাবে কতটা নিরাপদ— এ নিয়ে অভিভাবকেরা তাকে বারবার প্রশ্ন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদেরকে জানিয়েছি, ভবনটিতে এ বছর প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও সংস্কার করা হয়েছে। তাই আপনাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই।’

৪০ বছর বয়সী শিল্প প্রকৌশলী আমনি নুনেস তার দুই ছোট সন্তানকে আবার স্কুলে পাঠিয়েছেন।
তার মতে, ভয় থাকলেও জীবনকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে নিতে হবে।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘তাদেরকে বুঝতে হবে যে পৃথিবী তার নিজের গতিতে ঘুরছে। এই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিয়ে বাঁচতে শিখতে হবে।’

 


প্রিন্ট