মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার-সংক্রান্ত পদক্ষেপে ব্যস্ত একটি সপ্তাহের শেষে শুক্রবার বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। ব্যাংক অব জাপান সুদহার বাড়ালেও ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দর কমেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে দিনভর ওঠানামা ছিল। দিন শেষে ডাও জোন্স সামান্য কমেছে, অন্যদিকে নাসডাক কিছুটা বেড়েছে। এর আগে ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন দেখা যায়।
বিশ্লেষকেরা বলেন, সাধারণত সুদহার বাড়ানো শেয়ারবাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বুধবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের দৃঢ় অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন।
এডওয়ার্ড জোন্সের বিশ্লেষক অ্যাঞ্জেলো কুরকাফাস বলেন, ‘ফেডের বিশ্বাসযোগ্যতা এখনো রয়েছে—এতে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। তবে এর অর্থ এই নয় যে উচ্চ পর্যায়ে থাকা বন্ডের সুদহার আর বাড়বে না। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তাও অনেক।’
উচ্চ সুদহার বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি অর্থ বন্ডে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করছে বলে জানান ক্রিসেট ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের জ্যাক অ্যাবলিন।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি, কারণ বন্ডের মুনাফা শেয়ারের তুলনায় একটি প্রতিযোগিতামূলক হার দিচ্ছে।’
অ্যাবলিনের মতে, ফেডের অবস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মোটামুটি স্পষ্ট ধারণা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আর এক বা দুই দফা সুদহার বাড়তে পারে—এমন ধারণা রয়েছে। এরপর তা শেষ হবে বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন। তারা স্বল্পমেয়াদি সুদহার বৃদ্ধির পরের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।’
তবে ইউরোপের শেয়ারবাজারে পরিস্থিতি ছিল আরও নেতিবাচক। ফ্রাঙ্কফুর্ট, লন্ডন ও প্যারিসের প্রধান সূচকগুলো প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে।
এদিকে ব্যাংক অব জাপান সুদহার বাড়িয়ে তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেলেও প্রত্যাশার তুলনায় ভবিষ্যতে সুদহার বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে—এমন আশঙ্কায় ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর পড়ে গেছে।
ব্যাংক অব জাপান সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক সুদহার বৃদ্ধির পর বাজারে এমন সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ছিল।
তবে সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মত ছিল না। ৭-২ ভোটে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়ছে। সংকটটি শিগগির শেষ হওয়ার লক্ষণ না থাকায় ব্যাংক অব জাপানের ওপর আরও কঠোর মুদ্রানীতি নেওয়ার চাপ বাড়ছে।
কুইনটেক্স ইন্টেলের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘বাজার এমন প্রমাণ খুঁজছিল যে ব্যাংক অব জাপান সুদহার বৃদ্ধির মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান কমাতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভিন্নমত দেওয়া সদস্যদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
সৌদি আরব কয়েক দিনের মধ্যে তাদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় অর্ধেক পুনরায় চালু করতে পারে—এমন আশায় তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছিল।
পরে অবশ্য তেলের দরপতন কিছুটা কমে আসে। তবে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান বেঞ্চমার্কের দামই এখনো প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
কোম্পানিভিত্তিক লেনদেনে নাইকির শেয়ার ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়া পোশাক ব্র্যান্ড অন-এর সঙ্গে চুক্তি করায় নাইকির সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের অবসান হয়েছে। তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নাইকির সঙ্গে এই সম্পর্ক ছিল।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 




















