ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে বিজিএমইএ কাপের ট্রফি উন্মোচন, উত্তরা মাঠ বরাদ্দের আশ্বাস সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকে ‘স্বর্ণের গুপ্তভাণ্ডার অল টাইম ক্লিন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান মতবিনিময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান নওগাঁয় দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি আদায়ে সমাবেশ অল টাইম ক্লিন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান ৩০০ ফিটের পিংক সিটিতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, আ/টক ১ দিনাজপুর-৬ আসনে কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

৩০০ ফিটের পিংক সিটিতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, আ/টক ১

বিশেষ প্রতিবেদক :

রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিটসংলগ্ন পিংক সিটি আবাসিক এলাকায় একটি বাসার ভেতর ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। আবাসিক ভবনের একটি বাসায় ইয়াবা তৈরি ও মজুতের এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিংক সিটি আবাসিক এলাকার রোড-২-এর ১২ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় খিলক্ষেত থানা পুলিশ।

অভিযানে ৩ হাজার ৫০০টি ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ফেনসিডিলের ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে ইয়াসিন আরাফাত (৩৭) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ইয়াসিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কত দিন ধরে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, কীভাবে কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আনা হতো এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে ব্যবহার করে কেউ মাদক তৈরির কারখানা চালাবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গোপন তথ্য পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করি এবং নিশ্চিত হয়েই অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে শুধু তৈরি মাদক নয়, ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামালও উদ্ধার হয়েছে। এর অর্থ, বিষয়টি শুধু মাদক মজুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”

তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার—খিলক্ষেতের মাটিতে মাদক তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবসা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। একটি বাসার আড়ালে কী হচ্ছে, সেটিও পুলিশের নজরদারির বাইরে থাকবে না। এই ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে তাদের নাম-পরিচয় বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

ওসি বলেন, “অভিযানের সময় একজন পালিয়ে গেলেও সে পুলিশের নজরের বাইরে নেই। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই মাদক কারখানার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, কোথা থেকে কাঁচামাল এসেছে এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে আপসের প্রশ্নই আসে না। খিলক্ষেতকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ অভিযান আরও জোরদার করবে।”

আবাসিক এলাকার একটি বাসার ভেতর মাদক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়—এই আস্তানার নেপথ্যে কারা এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে

৩০০ ফিটের পিংক সিটিতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, আ/টক ১

আপডেট টাইম : ০৭:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক :

রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিটসংলগ্ন পিংক সিটি আবাসিক এলাকায় একটি বাসার ভেতর ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। আবাসিক ভবনের একটি বাসায় ইয়াবা তৈরি ও মজুতের এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পিংক সিটি আবাসিক এলাকার রোড-২-এর ১২ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় খিলক্ষেত থানা পুলিশ।

অভিযানে ৩ হাজার ৫০০টি ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ফেনসিডিলের ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়।
অভিযানকালে ইয়াসিন আরাফাত (৩৭) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ইয়াসিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কত দিন ধরে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, কীভাবে কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আনা হতো এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, “আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে ব্যবহার করে কেউ মাদক তৈরির কারখানা চালাবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গোপন তথ্য পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করি এবং নিশ্চিত হয়েই অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে শুধু তৈরি মাদক নয়, ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামালও উদ্ধার হয়েছে। এর অর্থ, বিষয়টি শুধু মাদক মজুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”

তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার—খিলক্ষেতের মাটিতে মাদক তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবসা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। একটি বাসার আড়ালে কী হচ্ছে, সেটিও পুলিশের নজরদারির বাইরে থাকবে না। এই ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তে তাদের নাম-পরিচয় বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

ওসি বলেন, “অভিযানের সময় একজন পালিয়ে গেলেও সে পুলিশের নজরের বাইরে নেই। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এই মাদক কারখানার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত আছে কি না, কোথা থেকে কাঁচামাল এসেছে এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে আপসের প্রশ্নই আসে না। খিলক্ষেতকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ অভিযান আরও জোরদার করবে।”

আবাসিক এলাকার একটি বাসার ভেতর মাদক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশের তদন্তে এখন বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়—এই আস্তানার নেপথ্যে কারা এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত।


প্রিন্ট