ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে বিজিএমইএ কাপের ট্রফি উন্মোচন, উত্তরা মাঠ বরাদ্দের আশ্বাস সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকে ‘স্বর্ণের গুপ্তভাণ্ডার অল টাইম ক্লিন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান মতবিনিময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান নওগাঁয় দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি আদায়ে সমাবেশ অল টাইম ক্লিন সামাজিক সংগঠন এর উদ্যোগে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংবর্ধনা প্রদান ৩০০ ফিটের পিংক সিটিতে ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান, আ/টক ১ দিনাজপুর-৬ আসনে কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তাও এখন নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এআইয়ের কোনো প্রভাব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।

মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ফেইক নিউজের মাধ্যমে আজ ব্যক্তিত্বকে বদলে ফেলা হচ্ছে। সত্যকে কে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করা হচ্ছে। এআইয়ের অপব্যবহারে দুনিয়াটা অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এ যেন একটা যুদ্ধ। তবে এআইয়ের ওপর জ্ঞানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেটা হলো ‘কমনসেন্স’। এআইয়ের অনেক সেন্স রয়েছে, কিন্তু মানুষের মতো কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিশ্বসংস্থার মাধ্যমে বিশ্ব সমঝোতা সৃষ্টি করতে হবে। বৈশ্বিক আইনি বিধান প্রয়োজন। এআই আজ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। এমন কি যারা এটা বানিয়েছে তারাও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। বর্তমান অর্থনীতি এআইয়ের নয়, এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। বিশ্বে বহু মানুষের কাজ চলে যাবে। এআই বিকল্প কাজ সৃষ্টি করতে আসেনি। তবে এআই নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রাহক সেবাসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। মানুষ সংবাদের বিশ্বাস যোগ্যতা হারাবে। অপসাংবাদিকতা গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাড় করাবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে

এআইয়ের প্রভাবে রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে

আপডেট টাইম : ০৯:০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তাও এখন নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এআইয়ের কোনো প্রভাব ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এসব কথা বলেন তিনি।

মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ফেইক নিউজের মাধ্যমে আজ ব্যক্তিত্বকে বদলে ফেলা হচ্ছে। সত্যকে কে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করা হচ্ছে। এআইয়ের অপব্যবহারে দুনিয়াটা অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এ যেন একটা যুদ্ধ। তবে এআইয়ের ওপর জ্ঞানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেটা হলো ‘কমনসেন্স’। এআইয়ের অনেক সেন্স রয়েছে, কিন্তু মানুষের মতো কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিশ্বসংস্থার মাধ্যমে বিশ্ব সমঝোতা সৃষ্টি করতে হবে। বৈশ্বিক আইনি বিধান প্রয়োজন। এআই আজ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। এমন কি যারা এটা বানিয়েছে তারাও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। বর্তমান অর্থনীতি এআইয়ের নয়, এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। বিশ্বে বহু মানুষের কাজ চলে যাবে। এআই বিকল্প কাজ সৃষ্টি করতে আসেনি। তবে এআই নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশীর্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা-বাণিজ্য, গ্রাহক সেবাসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে ভুয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। মানুষ সংবাদের বিশ্বাস যোগ্যতা হারাবে। অপসাংবাদিকতা গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাড় করাবে।

ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।


প্রিন্ট