ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা অনলাইন সাংবাদিকতার অনেক ‘প্রথম’-এর পুরোধা তৌফিক ইমরোজ খালিদী তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হলেন কোয়েল মল্লিক তিন মাসের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দেওয়ার ঘোষণা বিএসইসি চেয়ারম্যানের জামায়াতের লং মার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত নিয়মিত চর্চার মাধ্যমেই গড়ে ওঠে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি: রাষ্ট্রপতি আইপিইউ সম্মেলনে যোগ দিতে তাঞ্জানিয়া গেলেন স্পিকার রিমান্ড শেষে কারাগারে আখতারুজ্জামান বাস্তব সমস্যা সমাধানে গবেষণায় জোর দেওয়ার আহ্বান ইউজিসি চেয়ারম্যানের মনোহরদীতে ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত যৌতুক মা/মলার আ/সামি গ্রে/ফতার

তিন মাসের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দেওয়ার ঘোষণা বিএসইসি চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের সময় কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে আমরা আইপিও অনুমোদন দেব। আইপিও আবেদনের পর অনুমোদন পেতে যে দীর্ঘ সময় লাগে, নতুন প্রক্রিয়ায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দুই বছরের খরা—আইপিও নিয়ে খরা বেশিদিন চলতে দেওয়া যায় না।

দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আইপিও-সংক্রান্ত নিয়মের জটিলতা চিহ্নিত করে তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন আইপিও বিধিমালায় আবেদনের পর প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালনার মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনা হবে। আমাদের টাইম হচ্ছে তিন মাস। তিন মাসের মধ্যে আমরা আইপিও অনুমোদন করবই।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) সুযোগও রাখা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড অনেক কঠোর করা হয়েছে। কেবল এলিট বা অত্যন্ত যোগ্য কোম্পানিগুলোই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে।

বহুজাতিক ও বড় স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির পাশাপাশি নতুন হাইব্রিড পদ্ধতির সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় একটি অংশ জনগণের কাছে শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এবং অন্য অংশ বিদ্যমান মালিকদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে বাজারে আসতে পারবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া। ২০২৩ সালে ফ্লোর প্রাইস চালুর পর আন্তর্জাতিক সূচক প্রদানকারী এমএসসিআইয়ের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুঁজিবাজারে সংস্কারের অংশ হিসেবে বেক্সিমকো-সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বোর্ড পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বাজারের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা বাড়াতে ডিজিটাইজেশনের দিকে আরও জোর দিতে হবে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় এনে তা রিয়েল টাইমে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্রোকারদের হিসাব ও ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের তথ্য দেখতে পারবে।

এ ছাড়া অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু এবং ফিজিক্যাল স্লিপের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, পুঁজিবাজারে ডিজিটাইজেশন এখন নতুন কারেন্সি।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে কমিশন নিজস্ব সময়ের মধ্যে সরাসরি মামলা করার সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করা হয়েছে। তবে এসব বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে স্টক মার্কেটের সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন। বন্ডের পাশাপাশি গ্রিন বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ডের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাসুদ খান আরও বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পেনশন ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থের একটি অংশ যাতে পুঁজিবাজারের করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিমা খাতকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকা এ খাতকে পুঁজিবাজারে আরও সক্রিয় করতে হবে।

একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের বর্তমান আকারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বাজার মূলধন অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় এখনও কম। তবে বাজার মূলধন বাড়াতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেনের পরিমাণও বাড়বে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে ডেরিভেটিভস মার্কেট, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কাজ চলছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের কর্মসূচি শুধু এক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না কমিশন। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বাজারের আস্থা পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাজারের কাঠামোগত উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় একাধিক নেতা

তিন মাসের মধ্যে আইপিও অনুমোদন দেওয়ার ঘোষণা বিএসইসি চেয়ারম্যানের

আপডেট টাইম : ০৬:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন নিয়ম ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের সময় কমিয়ে তিন মাসে নামিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে আমরা আইপিও অনুমোদন দেব। আইপিও আবেদনের পর অনুমোদন পেতে যে দীর্ঘ সময় লাগে, নতুন প্রক্রিয়ায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দুই বছরের খরা—আইপিও নিয়ে খরা বেশিদিন চলতে দেওয়া যায় না।

দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আইপিও-সংক্রান্ত নিয়মের জটিলতা চিহ্নিত করে তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন আইপিও বিধিমালায় আবেদনের পর প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এবং কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালনার মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনা হবে। আমাদের টাইম হচ্ছে তিন মাস। তিন মাসের মধ্যে আমরা আইপিও অনুমোদন করবই।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি আনার ক্ষেত্রে সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডাইরেক্ট লিস্টিং) সুযোগও রাখা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড অনেক কঠোর করা হয়েছে। কেবল এলিট বা অত্যন্ত যোগ্য কোম্পানিগুলোই সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ পাবে।

বহুজাতিক ও বড় স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির পাশাপাশি নতুন হাইব্রিড পদ্ধতির সুযোগ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। এ ব্যবস্থায় একটি অংশ জনগণের কাছে শেয়ার ছাড়ার মাধ্যমে এবং অন্য অংশ বিদ্যমান মালিকদের শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে বাজারে আসতে পারবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের প্রথম দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়া। ২০২৩ সালে ফ্লোর প্রাইস চালুর পর আন্তর্জাতিক সূচক প্রদানকারী এমএসসিআইয়ের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুঁজিবাজারে সংস্কারের অংশ হিসেবে বেক্সিমকো-সংক্রান্ত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বোর্ড পুনর্গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বাজারের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।

মাসুদ খান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা বাড়াতে ডিজিটাইজেশনের দিকে আরও জোর দিতে হবে। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় এনে তা রিয়েল টাইমে সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্রোকারদের হিসাব ও ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের তথ্য দেখতে পারবে।

এ ছাড়া অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু এবং ফিজিক্যাল স্লিপের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তার ভাষায়, পুঁজিবাজারে ডিজিটাইজেশন এখন নতুন কারেন্সি।

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ ও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে কমিশন নিজস্ব সময়ের মধ্যে সরাসরি মামলা করার সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটের উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন করা হয়েছে। তবে এসব বন্ড ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানকে মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে স্টক মার্কেটের সঙ্গে এর কার্যকর সংযোগ প্রয়োজন। বন্ডের পাশাপাশি গ্রিন বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ডের বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মাসুদ খান আরও বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পেনশন ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড ও বীমা কোম্পানিগুলোর অর্থের একটি অংশ যাতে পুঁজিবাজারের করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে ভবিষ্যতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিমা খাতকে দেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকা এ খাতকে পুঁজিবাজারে আরও সক্রিয় করতে হবে।

একইসঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

পুঁজিবাজারের বর্তমান আকারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের বাজার মূলধন অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় এখনও কম। তবে বাজার মূলধন বাড়াতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেনের পরিমাণও বাড়বে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের অংশ হিসেবে ডেরিভেটিভস মার্কেট, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সিগুলোর কার্যকারিতা পর্যালোচনা এবং ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কাজ চলছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের কর্মসূচি শুধু এক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না কমিশন। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি, বাজারের আস্থা পুনর্গঠন এবং পুঁজিবাজারের কাঠামোগত উন্নয়নের কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।


প্রিন্ট