দেলোয়ার হোসেন :
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন কমিটি গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমীকরণ। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্তির পর থেকেই সংগঠনের নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় থাকলেও সাধারণ সম্পাদক পদে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন মিরপুর জোনের সাবেক টিম প্রধান শিমুল আহমেদ। তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী তাকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে দেখতে প্রত্যাশা করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো সময় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ অথবা আংশিক কমিটি ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছেন সংগঠনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতারা। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় নানা আলোচনা। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের পাশাপাশি ছাত্রদলের সাবেক নেতারাও সম্ভাব্য নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন।
সভাপতি পদে আলোচনায় যারা
সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রাজ, আইয়ুব আলী, তসলিম আহসান মাছুম, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন এবং আদাবর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফী উদ্দিন ফয়সালসহ আরও কয়েকজন নেতা।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনার কেন্দ্রে শিমুল আহমেদ
সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মিরপুর জোনের সাবেক টিম প্রধান শিমুল আহমেদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান টিটু, তানভীর আহমেদ ইকরাম, মাসুম, আবু সালেহ চৌধুরী মানিক, সাবেক সদস্য ফরহাদ আলী সজীব, আরিফ হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা মেহেদী হাসান রুয়েল, কামরুল ইসলাম ও রফী উদ্দিন ফয়সালসহ আরও কয়েকজন।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিমুল আহমেদ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং প্রতিকূল সময়ে সংগঠনের পাশে থাকার বিষয়গুলো সামনে এনে তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তার অনুসারী নেতাকর্মীরা।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, শিমুল আহমেদ একজন পরিশ্রমী, স্পষ্টবাদী ও নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মী। রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। বিশেষ করে মিরপুর জোনের সাবেক টিম প্রধান হিসেবে তার সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা নতুন নেতৃত্বে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় কিংবা বলয়ের বাইরে গিয়ে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের আস্থাভাজন নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, শিমুল আহমেদের মতো ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে অভিজ্ঞ নেতাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হলে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হতে পারে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের ঐক্য ও কর্মতৎপরতা বাড়াতেও তার ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর। এখন নেতাকর্মীদের অপেক্ষা কেন্দ্রের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 























