আমির হোসেন স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের শনির হাওরের পাড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের বীরনগর, জয়নগর, লক্ষীপুর ও ধুতমা গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে বিভিন্ন গ্রামের লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে দুপুরের দিকে শনির হাওরের পাড়ে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় সচেতন ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
তাহিরপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “এত বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। এরপরও কেন ১৪৪ ধারা জারি করা হলো না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। তাহিরপুরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
কাশ্মীর রাজা নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, “সংঘর্ষের বিষয়ে অন্তত ১২ ঘণ্টা আগে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অথচ সেই ঘোষণা বন্ধ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার মতো কেউ ছিল না কেন—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।”
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী জানান, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গত রাত থেকেই তাহিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। বর্তমানে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, প্রয়োজন মনে হলে এবং থানার ওসি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিলে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে। তবে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট কতজন আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।২০টি সম্ভাব্য হেডলাইন
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 


















