ঢাকা ০৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সমন্বিত কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করলেন আশিক চৌধুরী সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির এলিজা জামানের মনোনয়নপত্র জমা জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতে পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে হাইকোর্টে রিট ভারতের টানা ষষ্ঠ সিরিজ জয়ের মিশনে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ নিউজিল্যান্ডের ধামইরহাটে দলীয় করনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন ব্রাজিলের রাজনীতিতে লুলার দাপট বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন আইজিপির

সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতে পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চকবাজারে ‘কমিউনিটি ব্যাংক’-এর ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম ও সুদের কুফল নিয়ে কথা বলেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদুমুক্ত, যেখানে থাকবে অংশীদারিত্ব (পার্টনারশিপ), নৈতিকতা এবং ফেয়ার বিজনেস বা স্বচ্ছ জবাবদিহিতা।

অতীতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও মনিটরিং ঠিক না থাকলে যতই আইন থাকুক না কেন, তা কার্যকর হবে না। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’

বর্তমান ম্যানেজমেন্টের অধীনে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনিয়ম বা বিপর্যয় এখন আর ঘটার সুযোগ নেই। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মনিটরিং আরও জোরদার করার ওপর জোর দেন তিনি।

পুলিশকে অকার্যকর করার চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আইজিপি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করবো। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

আইজিপি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে যারা নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে অকার্যকর করেছে, তাদের আমলেই পাড়ায়-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশেরও কিছু সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। তবে আমরা আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।’

​সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে দেওয়া নাগরিক সমাজের এক বিবৃতির প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘১০১ জন নাগরিক বলছেন গোপনীয়তার কথা। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে এসব আপনার অধিকার? স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন না, আইনের আওতায় থাকতে হবে।’

​পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা বলেন অশিক্ষিত পুলিশ নিয়োগ দেন, কনস্টেবলের আবার কি জ্ঞান লাগে? অথচ এই কনস্টেবলই তৃণমূল পর্যায়ে আপনাকে সেবা দিচ্ছে। ওর সঙ্গে ঝামেলা হলেই বলেন পুলিশ খারাপ। আবার নিয়োগের সময় বলেন শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পুলিশেই সবথেকে বেশি শিক্ষিত লোক দরকার, কারণ তাকে সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে কন্ট্রোল করতে হবে।’

​তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফেল করলে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে বেতন না দিলে শ্রমিকের মারামারি হয় পুলিশের সঙ্গে। পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো যাবে না। সংবিধানে পুলিশের কাজের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ডিউটি করতে ভয় পাওয়ার যে পরিস্থিতি ছিল, সেখান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠনের জন্য পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।’

‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালকরা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শরী’আহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের জন্য আধুনিক বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর এই যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সমন্বিত কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করলেন আশিক চৌধুরী

সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতে পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি

আপডেট টাইম : ০২:২০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চকবাজারে ‘কমিউনিটি ব্যাংক’-এর ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতের নানা অনিয়ম ও সুদের কুফল নিয়ে কথা বলেন আইজিপি।

তিনি বলেন, ইসলামে সুদ ও ঘুষ সম্পূর্ণ হারাম। প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদুমুক্ত, যেখানে থাকবে অংশীদারিত্ব (পার্টনারশিপ), নৈতিকতা এবং ফেয়ার বিজনেস বা স্বচ্ছ জবাবদিহিতা।

অতীতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন অনিয়ম, ব্যাংক দখল এবং উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভিশন ও মনিটরিং ঠিক না থাকলে যতই আইন থাকুক না কেন, তা কার্যকর হবে না। গ্রাহক ও বাস্তবায়নকারী উভয় পক্ষকেই নৈতিকতার জায়গায় থাকতে হবে।’

বর্তমান ম্যানেজমেন্টের অধীনে গ্রাহকদের সম্পূর্ণ আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো অনিয়ম বা বিপর্যয় এখন আর ঘটার সুযোগ নেই। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মনিটরিং আরও জোরদার করার ওপর জোর দেন তিনি।

পুলিশকে অকার্যকর করার চক্রান্ত বরদাস্ত করা হবে না উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আইজিপি বলেন, পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

পুলিশ সদস্যদের কেউ অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। কিন্তু কথায় কথায় পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া বা পুলিশকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হলে সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার যদি অনুমতি দেয় এবং প্রয়োজন হয়, তবে আমরা ক্রসফায়ারও করবো। পুলিশকে এমপাওয়ার না করলে এবং আইন প্রয়োগের সুযোগ না দিলে সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গুজব ও মিথ্যা প্রচারণায় কান না দিয়ে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’

আইজিপি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৭ বছর ধরে যারা নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে অকার্যকর করেছে, তাদের আমলেই পাড়ায়-মহল্লায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তৎকালীন সরকারি দলের নেতারা মাদক থেকে মাসোহারা পেতেন এবং পুলিশেরও কিছু সদস্য এতে জড়িত ছিলেন। তবে আমরা আগে নিজেদের ঘর পরিষ্কার করছি। গত দুই মাসে ২৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে।’

​সম্প্রতি পুলিশের সমালোচনা করে দেওয়া নাগরিক সমাজের এক বিবৃতির প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইজিপি বলেন, ‘১০১ জন নাগরিক বলছেন গোপনীয়তার কথা। আপনি কি পুলিশ হাউজিংয়ের ভেতরে গোপনে গিয়ে মদ খাবেন, মাতলামি করবেন, কোকেন-হিরোইন গ্রহণ করবেন? সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে এসব আপনার অধিকার? স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন না, আইনের আওতায় থাকতে হবে।’

​পুলিশের যোগ্যতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা বলেন অশিক্ষিত পুলিশ নিয়োগ দেন, কনস্টেবলের আবার কি জ্ঞান লাগে? অথচ এই কনস্টেবলই তৃণমূল পর্যায়ে আপনাকে সেবা দিচ্ছে। ওর সঙ্গে ঝামেলা হলেই বলেন পুলিশ খারাপ। আবার নিয়োগের সময় বলেন শিক্ষিত লোকের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পুলিশেই সবথেকে বেশি শিক্ষিত লোক দরকার, কারণ তাকে সমাজের সব শ্রেনির মানুষকে কন্ট্রোল করতে হবে।’

​তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফেল করলে রাস্তায় পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের মারামারি হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে বেতন না দিলে শ্রমিকের মারামারি হয় পুলিশের সঙ্গে। পুলিশকে অকার্যকর করে সব দায় পুলিশের ওপর চাপানো যাবে না। সংবিধানে পুলিশের কাজের চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ডিউটি করতে ভয় পাওয়ার যে পরিস্থিতি ছিল, সেখান থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুখী-সমৃদ্ধময় বাংলাদেশ গঠনের জন্য পুলিশ দিন-রাত কাজ করছে।’

‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালকরা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের শরী’আহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের জন্য আধুনিক বিকল্প ব্যাংকিং সুবিধা চালুর ক্ষেত্রে ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর এই যাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।


প্রিন্ট