শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ::
সিটিজেন নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে। যারা আগ্রহী আমাদের ই-মেইলে সিভি পাঠান
সংবাদ শিরোনাম ::
জীবন্ত মানুষকে খাচ্ছে পোকা, খবর পেয়ে ছুটে গেলেন সাংসদ এসএম জাহাঙ্গীর গোদাগাড়ীতে অভিনব কায়দায় রাখা ১৮৮ গ্রাম হেরোইনসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার শিবপুরে খাবারের নামে প্যাকেজ গ্রামীণ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের হাতিয়ার ঢালচরে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন তাহিরপুরে ইয়াবা ব্যবসায়ীর বাপ-চাচার নাম প্রকাশ, সংবাদকর্মীকে হুমকির অভিযোগ রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন: জাতিসংঘে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে টুম্পার নির্দেশনায় মামুনুর রশীদের নাটক ‘অমানুষ’ বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিশ্চিত হাইতির অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম এইচ৫এন১ শনাক্ত, বার্ড ফ্লু এখন সব মহাদেশে এক ভিসাতেই ২২ দেশ

খাগড়াছড়ির ক্যজয় মারমার ৩০তম শহীদ বার্ষিকী আজ

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

এস চাঙমা সত্যজিৎ
ভ্রাম্যমান প্রতিনিধিঃ
“স্বায়ত্তশাসনের জন্য রক্তের প্রয়োজন। আমি দিয়ে গেলাম। জয় আমাদের অনিবার্য”- ক্যজয় মারমার শেষ উচ্চারণ

আজ মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ ক্যজয় মারমার ৩০তম শহীদ বার্ষিকী। ১৯৯৬ সালের এই দিনে খাগড়াছড়ির পানখিয়া পাড়া এলাকায় এপি ব্যাটালিয়ন-এর সদস্যদের গুলিতে শহীদ হন ক্যজয় মারমা।

সেদিন (৩১ মার্চ ‘৯৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় ক্যজয় মারমাসহ পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মী, সমর্থকরা অন্যায়ভাবে আটক চাথোয়াই প্রু মারমার মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচী সফল করার জন্য প্রচারণায় নামেন। প্রচারণার মাঝপথে পানখিয়া পাড়া স্কুলের নিকটস্থ এপি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা অত্যন্ত রূঢ়ভাবে বাধা দেয়। এ সময় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রচার-প্রচারণা চালানো মৌলিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারের কথা যুক্তির সাথে তুলে ধরতে গেলে এপি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। যুক্তি তর্কে কুলিয়ে উঠতে না পেরে এক পর্যায়ে তারা গুলি বর্ষণ করে। এতে ক্যজয় মারমা বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এছাড়া গুলিতে আরো অনেকেও আহত হন।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও ক্যজয় মারমা অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে কিছুদূর দৌঁড়ে যেতে সক্ষম হন। পরে তার বুক থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে দেখে সহযোদ্ধারা তাকে জড়িয়ে ধরে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে শেষ বারের মতো বলেন, “স্বায়ত্তশাসনের জন্য রক্তের প্রয়োজন। আমি দিয়ে গেলাম। জয় আমাদের অনিবার্য”।

এরপর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদের তালিকায় যুক্ত হয় আরো একটি নাম ক্যজয় মারমা।

এ ঘটনার পর সেদিন গভীর রাতে ঘাতকরা পানখিয়া পাড়ার ঘরে ঘরে তল্লাশি চালায়। শহীদ ক্যজয় মারমার মরদেহ ছিনিয়ে নেয়ার জন্য তন্ন তন্ন করে খোঁজতে থাকে।

পরদিন (১লা এপ্রিল ’৯৬) শহীদ ক্যজয় মারমার মরদেহ নিয়ে হাজার হাজার শোকার্ত প্রতিবাদী জনতা রাজপথে নেমে পড়ে। পানখিয়া পাড়ার ঐতিহ্যবাহী শত বছরের প্যাগোডা সংলগ্ন বটতলা থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি খাগড়াছড়ি বাজার, চেঙ্গী স্কোয়ার ঘুরে আবার শাপলা চত্বরে পৌঁছলে পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা পুলিশ ঝাঁপিয়ে পড়ে। বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে। মিছিলকারীসহ পথচারীদের জখম করে। রাবার বুলেটসহ সীসা গুলি বর্ষণ করে। এতে শ’ খানেক লোক আহত হয়। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নেতা-কর্মীসহ অনেককে ধরে নিয়ে যায়। পুলিশ মিছিলের মধ্য থেকে জোরপূর্বক শহীদের মরদেহও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

উক্ত হত্যাকাণ্ড ও পুলিশী বর্বরতার প্রতিবাদে ঢাকাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে তিন সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, পাহাড়ি গণ পরিষদ ও হিল উইমেন্স ফেডারেশন বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করে। তারা ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানায়। কিন্তু দীর্ঘ ৩০ বছরেও ক্যজয় মারমা হত্যার তদন্ত, বিচার ও ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved  2019 CitizenNews24
Theme Developed BY ThemesBazar.Com