সিটিজেন নিউজ ডেস্ক: সকালবেলার অভ্যাসগুলোই আমাদের সারাদিনটা কেমন কাটবে তা ঠিক করে দেয়। অথচ আমাদের মধ্যে বেশিরভাগই ঘুম থেকে ওঠার ঠিক পরেই কী খাচ্ছি তা নিয়ে খুব কম ভাবি। সারারাত পেট খালি থাকার পর শরীর খাবার গ্রহণ করার জন্য আরও বেশি প্রস্তুত থাকে। এই অল্প সময়টুকু শরীরের পানির ভারসাম্য, হজম এবং এমনকী শক্তির মাত্রাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এই সময়ে ডাবের পানি পান করলে কী হতে পারে? ডাবের পানি দিয়ে দিন শুরু করলে শরীরে কী ঘটে তা জেনে নিন-
১.হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে
ডাবের পানিতে ক্যালসিয়াম থাকে। যেটি হাড়কে শক্ত-পোক্ত করে তোলার পাশাপাশি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও ডাবে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়ামও এক্ষেত্রে নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।
২.শরীরকে বিষমুক্ত করে
দেহের প্রতিটি কোণায় উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দিতে এই প্রকৃতিক উপাদানটির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস ডাবের পানি পান করলে নানাবিধ রোগ যেমন শরীরের ধারে কাঁছে ঘেঁষতে পারে না, ঠিক তেমনি সার্বিকভাবেও শরীরিক ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।
৩.ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে
ডাবের পানিতে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং ডায়াটারি ফাইবার ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এই কারণেই রোজের ডায়েটে ডাবকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।
৪.কিডনির ক্ষমতা বাড়ে
প্রচুর মাত্রায় পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার কারণে ডাবের পানি কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেইসঙ্গে শরীরে উপস্থিত টক্সিন উপাদানদের ইউরিনের সঙ্গে বের করে দিয়ে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমায়।
৪.পানির ঘাটতি মেটে
ডাবের পানি শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গেই দেহে পানির ঘাটতি মিটতে শুরু করে। একইসঙ্গে এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট কম্পোজিশান ডায়ারিয়া, বমি এবং অতিরিক্ত ঘামের পর শরীরের ভিতরে খনিজের ঘাটতি মেটাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৫.শরীর এবং ত্বকের বয়স কমে
ডাবের পানিতে রয়েছে সাইটোকিনিস নামে একটি অ্যান্টি-এজিং উপাদান, যা শরীরের ওপর বয়সের ছাপ পরতে দেয় না। সেইসঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৬.ওজন হ্রাস পায়
ডাবের পানিতে বেশ কিছু উপকারি এনজাইম আছে। যেটি হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মেটাবলিজমের উন্নতিতেও সাহায্য করে থাকে। ফলে খাবার খাওয়া মাত্র তা এত ভালো ভাবে হজম হয়ে যায় যে শরীরে হজম না হওয়া খাবার মেদ হিসেবে জমার সুযোগই পায় না। ফলে ওজন কমতে শুরু করে।
৭.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
রাইবোফ্লবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন এবং পাইরিডোক্সিনের মতো উপকারি উপদানে ভরপুর ডাবের পানি প্রতিদিন পান করলে শরীরের শক্তি এতটা বৃদ্ধি পায় যে জীবাণুরা কোনওভাবেই ক্ষতি করার সুযোগ পায় না। সেইসঙ্গে ডাবের পানিতে অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল প্রপাটিজ নানাবিধ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৮.হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে
শরীরে বাজে কোলেস্টেরল বা এল ডি এল-এর পরিমাণ কমিয়ে হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডাবের পানির কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। দেহে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়িয়ে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমাতেও ডাবের পানি বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।
৯. মানসিক চাপ কমাতে পারে
ডাবের পানি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে সাইটোকিনিন নামক একটি যৌগ রয়েছে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। এই যৌগটিতে মানুষের মধ্যে বার্ধক্য বিরোধী এবং মানসিক চাপ বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। সকালে ডাবের পানি পান করলে তা মানসিক চাপের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
প্রিন্ট
সিটিজেন নিউজ ডেস্ক 

























