ঢাকা ১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দিনাজপুরের বিরামপুরে উৎসবমুখর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মন্ত্রী, ডা. জাহিদ হোসেন স্বামীর নির্যাতনে ঘরছাড়া এক সন্তানের মা রিমা, স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ রিপোর্টার্স ক্লাবের নতুন কমিটি অনুমোদন সভাপতি নাহিদ সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাথে দেশের জনগণকে একত্রিত করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করেন-এমপি, ফজলুল হক মিলন গাইবান্ধায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবিবার্ষিকী উদযাপিত আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ কালিয়াকৈরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন বিএনপির ৬ মাসের উন্নয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান ‘বিএনপি সরকার ব্যর্থ হয় না’ -পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আজাদ বিপদে পড়লেই মানুষ চেনা যায়,আসল বন্ধু পাশে থাকে, নকল বন্ধু দূরে সরে যায় কেশবপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে প্রেসক্রিপশন, ফার্মেসিকে জরিমানা

তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী পালিত

আজ ২৭ জুন। ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর পক্ষ থেকে আজ বাদ জোহর তার সমাধিস্থল শহরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দোওয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এনামুল্যাহর নেতৃত্বে শিক্ষক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা এ দোওয়া মাহফিলে অংশ নেন।

অধ্যাপক ড. এনামুল্যাহ বলেন, আজ ২৭ জুন এই মহান কৃষক নেতার ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী এবং আগামী কাল ২৮ জুন তার ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই মহান নেতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী দুটিই পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান,আগামীকাল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে দোয়া খায়ের, মিলাদ মাহফিল ও কবর জিয়ারত করা হবে। পরে বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের একজন অন্যতম কৃষক নেতা ছিলেন। যিনি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে তেভাগা আন্দোলনের ‘জনক’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত দিনাজপুরের কৃষি কলেজ ১৯৯৯ সালে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ ১৯০০ সালের ২৭ শে জুন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার সুলতানপুর গ্রামে এক জোতদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেতাবগঞ্জ থেকে প্রবেশিকা, রাজশাহী কলেজ থেকে আই.এ এবং বি.এ পাস করেন। পরবর্তীতে ভারতের উত্তর প্রদেশে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ এবং আইনে বি.এল ডিগ্রী লাভ করেন। ঠাকুরগাঁও আদালতে প্রথম আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

দিনাজপুর এস.এন কলেজে ইতিহাস বিভাগে কিছু দিন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। এক পর্যায়ে দিনাজপুর জেলা জজ আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। কৃষক বর্গা চাষী, ভাগ চাষী এবং প্রান্তিক চাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারের সীমাহীন অত্যাচার দেখে, শিশু বয়সে মোহাম্মদ দানেশ এর চিন্তায় বিপ্লব ঘটে। তিনি ছাত্র জীবনেই কৃষকের উপর অত্যাচারের প্রতিকার কল্পে কৃষক আন্দোলনে আকৃষ্ট হন।

হাজী দানেশ ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গ-সংগঠন কৃষক সমিতির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে দিনাজপুর জেলায় টোল আদায় বন্ধ ও জমিদারি উচ্ছেদের দাবিতে কৃষক আন্দোলন জোরদার হয় এবং আন্দোলনকালে তিনি কারাভোগ করেন। নীলফামারী জেলার ডোমারে ১৯৪২ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় কৃষক সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুরের বিরামপুরে উৎসবমুখর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মন্ত্রী, ডা. জাহিদ হোসেন

তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী পালিত

আপডেট টাইম : ০৩:৪৬:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আজ ২৭ জুন। ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের নেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) এর পক্ষ থেকে আজ বাদ জোহর তার সমাধিস্থল শহরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে দোওয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এনামুল্যাহর নেতৃত্বে শিক্ষক কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা এ দোওয়া মাহফিলে অংশ নেন।

অধ্যাপক ড. এনামুল্যাহ বলেন, আজ ২৭ জুন এই মহান কৃষক নেতার ১২৬ তম জন্মবার্ষিকী এবং আগামী কাল ২৮ জুন তার ৪০ তম মৃত্যুবার্ষিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই মহান নেতার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী দুটিই পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান,আগামীকাল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে দোয়া খায়ের, মিলাদ মাহফিল ও কবর জিয়ারত করা হবে। পরে বেলা আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর জীবন নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের একজন অন্যতম কৃষক নেতা ছিলেন। যিনি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে তেভাগা আন্দোলনের ‘জনক’ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রবক্তা। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট আন্দোলনে সক্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত দিনাজপুরের কৃষি কলেজ ১৯৯৯ সালে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ ১৯০০ সালের ২৭ শে জুন দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার সুলতানপুর গ্রামে এক জোতদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেতাবগঞ্জ থেকে প্রবেশিকা, রাজশাহী কলেজ থেকে আই.এ এবং বি.এ পাস করেন। পরবর্তীতে ভারতের উত্তর প্রদেশে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এম.এ এবং আইনে বি.এল ডিগ্রী লাভ করেন। ঠাকুরগাঁও আদালতে প্রথম আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

দিনাজপুর এস.এন কলেজে ইতিহাস বিভাগে কিছু দিন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। এক পর্যায়ে দিনাজপুর জেলা জজ আদালতে আইন ব্যবসা শুরু করেন। কৃষক বর্গা চাষী, ভাগ চাষী এবং প্রান্তিক চাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারের সীমাহীন অত্যাচার দেখে, শিশু বয়সে মোহাম্মদ দানেশ এর চিন্তায় বিপ্লব ঘটে। তিনি ছাত্র জীবনেই কৃষকের উপর অত্যাচারের প্রতিকার কল্পে কৃষক আন্দোলনে আকৃষ্ট হন।

হাজী দানেশ ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গ-সংগঠন কৃষক সমিতির সাথে সম্পৃক্ত হন এবং কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। তাঁর নেতৃত্বে দিনাজপুর জেলায় টোল আদায় বন্ধ ও জমিদারি উচ্ছেদের দাবিতে কৃষক আন্দোলন জোরদার হয় এবং আন্দোলনকালে তিনি কারাভোগ করেন। নীলফামারী জেলার ডোমারে ১৯৪২ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় কৃষক সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ।


প্রিন্ট