হাফসা আক্তার ঃ গভীর রাতে উত্তরার নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান লাখো মানুষের সামনে ঢাকা১৮ আসনের দলীয় প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়েছেন। এসময় তিনি এস এম জাহাঙ্গীরের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে বলেন, “আমি জাহাঙ্গীরের হাতে ধানের শীষ তুলে দিলাম আপনারা তাকে দেখে রাখবেন। জাহাঙ্গীর আপনাদের হয়ে কাজ করবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান আরো বলেছেন,
বিএনপি রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় গেলে প্রথমেই
ঢাকা-১৮ আসনের জলাবদ্ধতা নিরসন ও গ্যাস সংকট নিয়ে কাজ করবে। তারেক রহমান নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন
বিগত জুলাই ২৪ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে স্বৈরাচারের পতনে উত্তরাবাসীর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা এর প্রতিদান দিবো ইনশাআল্লাহ। আপনাদের অনেক রক্তের বিনিময়ে ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনেছেন। এই ভোটাধিকার গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। ধানের শীষ বিজয়ী করে গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার টেকসই করতে হবে।
৭/৮ ঘন্টা অপেক্ষা করেছেন আমার জন্য। আরো কয়েকটি প্রোগ্রাম শেষ করে আসতে সময় বেশি লেগেছে তাই আপনাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থী। আপনারা যে কষ্ট করেছেন ধৈর্য ধরেছেন এই কষ্টকে ভোটে পরিণত করতে হবে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আর খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণে চিন্তা করতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
উত্তরার ৭ টি সমস্যা চিহ্নিত করে তারেক রহমান বলেন, উত্তরার প্রধান সমস্যা হচ্ছে গ্যাস সংকট। আপনারা প্রতি মাসে সঠিক ভাবে বিল দিয়েও গ্যাস পান না। এজন্য গ্যাস কূপের সন্ধ্যান করতে হবে।
২য় সমস্যা হচ্ছে মধ্যেবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের জন্য ভালো মানের সরকারি হাসপাতাল নাই। ধানের শীষ বিজয়ী হলে উত্তরায় আধুনিক মানের একটি সরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
৩য় সমস্যা পানি সংকট, বিল দিয়েও সঠিকভাবে পানি পান না।
এজন্য খাল খনন করতে হবে।
৪র্থ সমস্যা জলাবদ্ধতা____ জলাবদ্ধতা সমস্যা সারা ঢাকায় রয়েছে। ধানের শীষ বিজয়ী হলে সারা ঢাকার সর্বপ্রথম জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ করবো।
৫ম সমস্যা মাদকের সমস্যা_____ বেকারত্ব দূর করতে পারলে মাদকের সমস্যা কমে যাবে। তাই বেকারত্ব দূর করতে বেকার তরুণ তরুণীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ৬ষ্ঠ সমস্যা যানজটের সমস্যা______তিনি বলেন, এই সমস্যা সারা ঢাকায় রয়েছে, তীব্র যানজটের সমস্যা লাগব করতে হলে দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা করতে হবে।
৭ম সমস্যা কিশোর গ্যাং____ এই সমস্যা সমাধান করতে হলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধান করতে হলে ধানের শীষকে বিজয়ী করা ছাড়া কোন বিকল্প নাই। সবাই ঐক্যবধ্য থেকে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে।
তারেক রহমান আরো বলেন, অনেক আন্দোলন সংগ্রামের ফলে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন হবে। শুধু ভোট দিলে হবে না, ভোট কেন্দ্রে সারাদিন থেকে ভোট গুনে হিসেব বুজে তারপর বাসায় ফিরবেন।
এই নির্বাচন বানচাল করতে এখনো অনেকে ষড়যন্ত্র করতেছে। আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোন ষড়যন্ত্রই নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।
সব শেষে
তারেক রহমান ঢাকা ১৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের হাত ধরে বলেন, জাহাঙ্গীরকে আপনাদের হাতে দিয়ে গেলাম তাকে বিজয়ী করার দায়িত্ব আপনাদের। আজ রাত অনেক হয়েছে নির্বাচনের পর আবার একদিন আসবো অনেক সময় নিয়ে তখন কথা বলবো।
তারেক রহমান সর্বশেষ বলেন, করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। ইনশাআল্লাহ
এসময় তার সহধর্মিণী ডা.জোবাইদা রহমান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার রাত ১ টায় ঢাকা ১৮ আসন এলাকার উত্তরা ৬ নং সেক্টরস্থ ঈদগাহ মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। ১৫ মিনিট বক্তব্য দীর্ঘায়িত করেন তারেক রহমান। এসময় জনসভাস্থল এবং আশেপাশের সড়কে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ মোস্তফা জামানের সভাপতিত্বে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সার্বিক তত্বাবধানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।তিনি তারেক রহমান আসার পর বক্তব্য রাখেন।
জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ আমিনুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক আকতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক এম.কফিল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন, ছাত্র দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মহানগর সদস্য সালাম সরকার, সেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ জামির হোসেন, সেচ্ছাসেবক দল মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল হৃদয়, উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম, উত্তরা পশ্চিম থানা বিএনপির মেজবাহ উদ্দিন খোকন, আজমল হুদা মিঠু, আব্দুস সালাম, মোঃ আলাউদ্দিন, আলমগীর হোসেন শিশির, মোস্তফা সরকার, তুরাগ থানা বিএনপির আমান উল্লাহ, আলমাছ আলী, চান মিয়া বেপারী, আব্দুল হাকিম, দক্ষিনখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন তালুকদার, ৪৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আকবর আলী, উত্তরখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ বকুল, বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মনির হোসেন ভূইয়া, খিলক্ষেত থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস.এম ফজলুল হক, যুবদলের আমিনুল ইসলামসহ ঢাকা ১৮ আসন এলাকার বিভিন্ন থানা বিএনপি এবং অংগসংগঠনের নেতাকর্মীরা।