হাফসা আক্তারঃ
সহমর্মিতা, আত্মসংযম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার অনন্য শিক্ষা নিয়ে আসে পবিত্র রমজান মাস। এ মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক সহানুভূতির চেতনা গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ অন্যের কষ্ট, অনাহার ও বঞ্চনার অনুভূতি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শেখে।
রমজানের রোজা মানুষকে অন্যায়, অসদাচরণ ও অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃত রোজাদার সমাজের সকল মানুষের সম-অধিকারের বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন। এতে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় হয়।
এ মাসে ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ দায়িত্ব বর্তায় দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যাতে শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষও স্বাচ্ছন্দ্যে রোজা পালন করতে পারেন, সে জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। মালিকপক্ষের উচিত শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রিম বেতন-ভাতা প্রদান এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া। অধীনস্ত কর্মচারী ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দেওয়া মানবিক দায়িত্বের অংশ।
ইসলামী বাণীতেও রমজানে অধীনস্তদের প্রতি সদয় আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা এ মাসে কর্মচারী ও দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে, তাদের প্রতি মহান আল্লাহ দয়া করেন এবং শাস্তি থেকে রক্ষা করেন।
রমজান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি মানুষ রমজানের শিক্ষাকে সারা বছর অনুসরণ করে—জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও মতভেদ ভুলে সহনশীল আচরণ বজায় রাখে—তবে সামাজিক বিশৃঙ্খলা অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
রমজানের মূল শিক্ষা হলো—মানবতার পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা প্রকাশ করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলা।