ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বিশ্বম্ভরপুরের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু গাজা পরিচালনাকারী প্রশাসনিক পর্ষদ বিলুপ্তির ঘোষণা হামাসের দুর্বৃত্তদের ছিটানো বিষে মারা গেছে সাড়ে ৪ লাখ টাকার পোনা কাপ্তাই লেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশ্বের জন্য লজ্জার: মিশরের কোচ হোসাম হাসান ন্যাটো সম্মেলনের আগে মস্কোর দিকে ৪০০-র বেশি ড্রোন নিক্ষেপ ইউক্রেনের “ময়মনসিংহে মায়ের শ্লীলতাহানির ক্ষোভে রুবেল হত্যা, গ্রেপ্তার ৪” মিথ্যা অপপ্রচার দিয়ে ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করা হয় মনোয়ার হোসেন জীবন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে শুরু হলো ‘গ্র্যান্ড আমেরিকান ফুড ফেস্টিভ্যাল

দরিদ্রদের স্বাবলম্বী হওয়ার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখে ছিলেন তা পূরণ করতে পারেননি। আমরা সে স্বপ্ন পূরণ করছি। বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে দরিদ্র অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি। তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) দু’দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশের উন্নয়নের পেছনে কোনো ম্যাজিক নেই। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কমিটমেন্ট অনুযায়ী কাজ করার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু শহর নয় বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। তাদের ভাগ্যের যাতে পরিবর্তন হয়, তারা যাতে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, এ জন্য বর্তমান সরকার নানাবিধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আমার বাড়ি আমার খামারের মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ট্রেনিং করে কম্পিউটারের মাধ্যমে আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবকরা ঘরে বসে ভালো পয়সা ইনকাম করছে।

‘দরিদ্রদের ছেলেমেয়েরা যাতে স্কুলগামী হয়, সেজন্য তাদের বৃত্তি প্রদান করছি। বর্তমানে দুই কোটি তিন লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। সে টাকা ছাত্র-ছাত্রীর মায়েদের মোবাইল ফোনে চলে যায়। আমার বাড়ি আমার খামারের মাধ্যমে আমরা মাইক্রো সেভিংস প্রকল্প চালু করেছি। কেউ ১০০ টাকা জমাতে পারলে সরকার তাকে আরও ১০০ টাকা দিচ্ছে। দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা এসব প্রকল্প গ্রহণ করেছি।’

‘আমরা কর্মসংস্থান ব্যাংক করেছি। যে ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা লোন নিয়ে একজন বেকার যুবক ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছি, এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন পেয়েছিলাম ১৬০০ মেগাওয়াট। আজ আমরা ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। ৯৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আমাদের জিডিপি এখন ৮ দশমিক ৫ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি আমরা পাঁচ ভাগে নামিয়ে রাখতে পেরেছি। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষ পাচ্ছে। আমাদের অর্জিত সাফল্য ধরে রেখে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ’৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি উন্নত দেশ পায়, তারা যেন মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে পারে, সেভাবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি। এ জন্য আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টাপ্ল্যান গ্রহণ করেছি। অদম্য বাংলাদেশ এখন থেকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাবে। এর এগিয়ে যাওয়ার গতি আর কেউ থামাতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গান এবং নৃত্যের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হয়।

আজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ। এ ছাড়া এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক ও জাইকার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা দু’দিনব্যাপী আয়োজিত এ সেমিনারে আটটি সেশনে অংশগ্রহণ করবেন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি সংশোধনে ৬ ক্যাটাগরির সেবা সাময়িক বন্ধ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন

দরিদ্রদের স্বাবলম্বী হওয়ার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০১:৪৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখে ছিলেন তা পূরণ করতে পারেননি। আমরা সে স্বপ্ন পূরণ করছি। বাংলাদেশের গ্রাম পর্যায়ে দরিদ্র অবহেলিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছি। তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দেয়ার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (বিডিএফ) দু’দিনব্যাপী সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশের উন্নয়নের পেছনে কোনো ম্যাজিক নেই। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কমিটমেন্ট অনুযায়ী কাজ করার ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু শহর নয় বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। তাদের ভাগ্যের যাতে পরিবর্তন হয়, তারা যাতে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, এ জন্য বর্তমান সরকার নানাবিধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আমার বাড়ি আমার খামারের মাধ্যমে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ট্রেনিং করে কম্পিউটারের মাধ্যমে আজ প্রত্যন্ত অঞ্চলের যুবকরা ঘরে বসে ভালো পয়সা ইনকাম করছে।

‘দরিদ্রদের ছেলেমেয়েরা যাতে স্কুলগামী হয়, সেজন্য তাদের বৃত্তি প্রদান করছি। বর্তমানে দুই কোটি তিন লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে আমরা বৃত্তি দিচ্ছি। সে টাকা ছাত্র-ছাত্রীর মায়েদের মোবাইল ফোনে চলে যায়। আমার বাড়ি আমার খামারের মাধ্যমে আমরা মাইক্রো সেভিংস প্রকল্প চালু করেছি। কেউ ১০০ টাকা জমাতে পারলে সরকার তাকে আরও ১০০ টাকা দিচ্ছে। দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা এসব প্রকল্প গ্রহণ করেছি।’

‘আমরা কর্মসংস্থান ব্যাংক করেছি। যে ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে দুই লাখ টাকা লোন নিয়ে একজন বেকার যুবক ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছি, এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন পেয়েছিলাম ১৬০০ মেগাওয়াট। আজ আমরা ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। ৯৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আমাদের জিডিপি এখন ৮ দশমিক ৫ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি আমরা পাঁচ ভাগে নামিয়ে রাখতে পেরেছি। এর সুফল বাংলাদেশের মানুষ পাচ্ছে। আমাদের অর্জিত সাফল্য ধরে রেখে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ’৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন একটি উন্নত দেশ পায়, তারা যেন মাথা উঁচু করে বাংলাদেশের পরিচয় দিতে পারে, সেভাবে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলছি। এ জন্য আমরা ২১০০ সাল পর্যন্ত ডেল্টাপ্ল্যান গ্রহণ করেছি। অদম্য বাংলাদেশ এখন থেকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাবে। এর এগিয়ে যাওয়ার গতি আর কেউ থামাতে পারবে না।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে ‘ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা’ গান এবং নৃত্যের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হয়।

আজ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ। এ ছাড়া এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক, বিশ্বব্যাংক ও জাইকার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ওপর একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিনিধিরা দু’দিনব্যাপী আয়োজিত এ সেমিনারে আটটি সেশনে অংশগ্রহণ করবেন।


প্রিন্ট