ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

নতুন ৮ হাজার চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্যসেবায় গতি বাড়াতে নতুন করে আরও দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জ জেলার কর্মকর্তারা যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়া হবে তাদের করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হলেও এখন এই সংখ্যাটা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া মৃতের সংখ্যাও শতাধিক ছাড়িয়েছে। প্রাণসংহারি ভাইরাসটিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট থাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে চিকিৎসকসহ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৭৮ হাজার ৩০০ জন। এরমধ্যে চিকিৎসক পদে রয়েছেন ২৭ হাজার ৪০৯ জন। বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল, বিডিএমসির হিসাবে দেশে রেজিস্টার্ড নার্সের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন।

বাংলাদেশের ১ হাজার ৫৮১ জন মানুষের জন্য ১ জন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক। প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৬ দশমিক ৩৩ জন। প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় চিকিৎসকের সংখ্যা ১ দশমিক ২৮ জন। এমন অবস্থায় চিকিৎসা সেবায় গতি আনতে আরও দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সরকারপ্রধান বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক জেলায় আইসিইউর ব্যবস্থা করা হবে।

চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের চিকিৎসা করার জন্য আমরা প্রায় দুই হাজার ডাক্তার নতুন নিয়োগ দেবো। ইতিমধ্যে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যারা রয়ে গেছে (উত্তীর্ণ কিন্তু সুপারিশপ্রাপ্ত নয়) তাদের থেকে আমরা নিচ্ছি। ছয় হাজার নার্সও আমরা নিয়োগ দেবো। যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমি নিজেই মিটিং করে এটা সব ঠিকঠাক করে দিয়েছি- যে আর অতিরিক্ত দুই হাজার ডাক্তার আর ছয় হাজার নার্স আমরা খুব শিগগিরই নিয়োগ দিচ্ছি।

নতুন করে যাদের নিয়োগ দেয়া হবে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশ থেকে লোক এনেও আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাবো। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা চিকিৎসা সেবা দিবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। আমরা প্রত্যেক জেলাতেই কিন্তু যেট ভালো হাসপাতাল, সেখানে আইসিইউর ব্যবস্থা করব। এটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে সব জেলাতেই এটা করে দেবো।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

নতুন ৮ হাজার চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০২:৩৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্বাস্থ্যসেবায় গতি বাড়াতে নতুন করে আরও দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার সকাল ১০টায় সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিও কনফারেন্সে বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী এবং সিরাজগঞ্জ জেলার কর্মকর্তারা যুক্ত হন।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেয়া হবে তাদের করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া প্রাণঘাতী ভাইরাস করোনা বাংলাদেশে শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। সেদিন তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হলেও এখন এই সংখ্যাটা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। এছাড়া মৃতের সংখ্যাও শতাধিক ছাড়িয়েছে। প্রাণসংহারি ভাইরাসটিতে প্রতিদিন শত শত মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট থাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবা দিতে বেগ পোহাতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে দেশে চিকিৎসকসহ প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন ৭৮ হাজার ৩০০ জন। এরমধ্যে চিকিৎসক পদে রয়েছেন ২৭ হাজার ৪০৯ জন। বাংলাদেশ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কাউন্সিল, বিডিএমসির হিসাবে দেশে রেজিস্টার্ড নার্সের সংখ্যা ৫৬ হাজার ৭৩৪ জন।

বাংলাদেশের ১ হাজার ৫৮১ জন মানুষের জন্য ১ জন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক। প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক ৬ দশমিক ৩৩ জন। প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় চিকিৎসকের সংখ্যা ১ দশমিক ২৮ জন। এমন অবস্থায় চিকিৎসা সেবায় গতি আনতে আরও দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সরকারপ্রধান বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক জেলায় আইসিইউর ব্যবস্থা করা হবে।

চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের কথা উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের চিকিৎসা করার জন্য আমরা প্রায় দুই হাজার ডাক্তার নতুন নিয়োগ দেবো। ইতিমধ্যে বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে যারা রয়ে গেছে (উত্তীর্ণ কিন্তু সুপারিশপ্রাপ্ত নয়) তাদের থেকে আমরা নিচ্ছি। ছয় হাজার নার্সও আমরা নিয়োগ দেবো। যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমি নিজেই মিটিং করে এটা সব ঠিকঠাক করে দিয়েছি- যে আর অতিরিক্ত দুই হাজার ডাক্তার আর ছয় হাজার নার্স আমরা খুব শিগগিরই নিয়োগ দিচ্ছি।

নতুন করে যাদের নিয়োগ দেয়া হবে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশ থেকে লোক এনেও আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাবো। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা চিকিৎসা সেবা দিবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি। আমরা প্রত্যেক জেলাতেই কিন্তু যেট ভালো হাসপাতাল, সেখানে আইসিইউর ব্যবস্থা করব। এটা আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে সব জেলাতেই এটা করে দেবো।


প্রিন্ট