ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ আকাশপথ নিশ্চিতে দক্ষ জনবল গড়তে এটিসি বেসিক কোর্স শুরু উল্লাপাড়ায় তাঁত বোর্ড চেয়ারম্যানকে ইউসুফ সরকারের ফুলেল শুভেচ্ছা উল্লাপাড়ায় বালুবাহী ট্রাকের চাপায় শিক্ষক নিহত কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে দক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল রহমান সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাংবিধানিক নিয়মেই হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বঙ্গভবনে নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু কোরবান নগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। বিশ্বজুড়ে প্রবাসীদের জন্য নতুন পরিকল্পনা ‘প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিমের’ টিচার্স ট্রেনিং কলেজে মাস্টার অব এডুকেশন-২০২৫ এর গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন সেমিনার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে

লক্ষ্মীপুরে কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নামে ওএমএস কার্ড!

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর সভার গরিবের ওএমএস কার্ডে ভাগ বসিয়েছেন পৌর ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আ,লীগ নেতা গোলাম হায়দার চৌধুরী। নিজের ছেলে তানবির হায়দার ও মেয়ে ফারজানা আক্তারের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিশেষ ওএমএস এর কার্ড পেয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সচেতন মহলসহ সোশ্যাল মিডিয়ায়। বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল ১০ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে এই কার্ড তাদের নামে পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্র এবং নিম্নআয়ের মানুষ, যারা কোনও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত নয়; তাদের জন্য বিশেষ ওএমএস সুবিধা চালু করা হয়েছে। এই সুবিধায় একজন ওএমএস কার্ডধারী প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। সেজন্য রায়পুর পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার ৪০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ওএমএস কার্ড। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি ও কার্ড বিতরণ করা হয়। বিতরণের শুরুতেই পৌর ৯নং ওয়ার্ডের তালিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল সাবেক কাউন্সিলর গোলাম হায়দারের এক ছেলে ও এক মেয়ের পেশা একজন বেকার উল্লেখ করে ১০৯ ও ৩১৯ নম্বর দু’টি কার্ড বিতরণ করেন। ৯নং ওয়ার্ডের এক গরিব বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া বলেন, আমাদের মত গরিবের নাম বাদ দিয়ে ওএমএস কার্ডে সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নাম তোলা হয়েছে। যে দু’জনের নাম দিয়েছেন তারাইতো হাজার হাজার লোককে ত্রাণ দিতে পারবে। কাউন্সিরর নাছির উদ্দিন রাসেল বলেন, তাদের অবস্থা আগে ভালো ছিলো। এখন নেই। এছাড়াও তারা কার্ড নিতে ইচ্ছা পোষণ করায় আমি দিয়েছে।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও মেয়েকে এরকম সুবিধা পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে বিষয়টি আমি জেনেছি। বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও মেয়েকে বিশেষ ওএমএসের কার্ড করে দিয়েছেন। বিষয়টি দুঃখজনক! আরও অনেকেই হয়ত এ রকম করেছেন। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, সরকারের এই বিশেষ ওএমএস এর কার্ড দুস্থ ও অসহায় মানুষদের পাওয়ার কথা। কিন্তু পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডে ওএমএস কার্ডের তালিকায় সামর্থ্যবানদের নাম ওঠার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ওই দু’টি কার্ড ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

লক্ষ্মীপুরে কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নামে ওএমএস কার্ড!

আপডেট টাইম : ১২:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২০

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর সভার গরিবের ওএমএস কার্ডে ভাগ বসিয়েছেন পৌর ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আ,লীগ নেতা গোলাম হায়দার চৌধুরী। নিজের ছেলে তানবির হায়দার ও মেয়ে ফারজানা আক্তারের নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিশেষ ওএমএস এর কার্ড পেয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে সচেতন মহলসহ সোশ্যাল মিডিয়ায়। বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল ১০ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে এই কার্ড তাদের নামে পাইয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ভিক্ষুক ও ভবঘুরেসহ হতদরিদ্র এবং নিম্নআয়ের মানুষ, যারা কোনও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অন্তর্ভুক্ত নয়; তাদের জন্য বিশেষ ওএমএস সুবিধা চালু করা হয়েছে। এই সুবিধায় একজন ওএমএস কার্ডধারী প্রতি মাসে ১০ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি করে চাল পাবেন। সেজন্য রায়পুর পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার ৪০০ জনকে দেয়া হচ্ছে ওএমএস কার্ড। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি ও কার্ড বিতরণ করা হয়। বিতরণের শুরুতেই পৌর ৯নং ওয়ার্ডের তালিকা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল সাবেক কাউন্সিলর গোলাম হায়দারের এক ছেলে ও এক মেয়ের পেশা একজন বেকার উল্লেখ করে ১০৯ ও ৩১৯ নম্বর দু’টি কার্ড বিতরণ করেন। ৯নং ওয়ার্ডের এক গরিব বাসিন্দা আনোয়ার মিয়া বলেন, আমাদের মত গরিবের নাম বাদ দিয়ে ওএমএস কার্ডে সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে-মেয়ের নাম তোলা হয়েছে। যে দু’জনের নাম দিয়েছেন তারাইতো হাজার হাজার লোককে ত্রাণ দিতে পারবে। কাউন্সিরর নাছির উদ্দিন রাসেল বলেন, তাদের অবস্থা আগে ভালো ছিলো। এখন নেই। এছাড়াও তারা কার্ড নিতে ইচ্ছা পোষণ করায় আমি দিয়েছে।

রায়পুর পৌরসভার মেয়র ইসমাইল খোকন বলেন, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও মেয়েকে এরকম সুবিধা পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে বিষয়টি আমি জেনেছি। বর্তমান কাউন্সিলর নাছির উদ্দিন রাসেল সাবেক কাউন্সিলরের ছেলে ও মেয়েকে বিশেষ ওএমএসের কার্ড করে দিয়েছেন। বিষয়টি দুঃখজনক! আরও অনেকেই হয়ত এ রকম করেছেন। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, সরকারের এই বিশেষ ওএমএস এর কার্ড দুস্থ ও অসহায় মানুষদের পাওয়ার কথা। কিন্তু পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ডে ওএমএস কার্ডের তালিকায় সামর্থ্যবানদের নাম ওঠার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। ওই দু’টি কার্ড ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।


প্রিন্ট