ঢাকা ০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,, কুড়িগ্রাম সদরে ঘোগাদাহে ১০ বছরে ব্রীজ নির্মাণের অভাবে ১০ হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পটুয়াখালী পায়রা সেতু এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৬৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে ওয়াকফের ১৩.০৮ শতক জমি উদ্ধার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ অর্থমন্ত্রীর জেট ফুয়েলের দাম কমলো লিটার প্রতি ১৯ টাকা পর্তুগালের কোচের পদ ছাড়ছেন রবার্তো মার্টিনেজ গ্রাম আদালতে কম খরচে, স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়-এটিএম কামরুল ইসলাম দেশে বছরে তরল দুধ উৎপাদন সক্ষমতা ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার টন : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ড্রাগন চাষে চমক দেখালেন শিক্ষক নাঈম

সংবাদপত্র শিল্প এবারও কিছু পেল না বাজেটে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবাদপত্র শিল্পের জন্য আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো সুখবর নেই। করপোরেট কর কমানো, নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক কমানো, অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারসহ নানা দাবি থাকলেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসবের কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে সংবাদপত্র শিল্প রক্ষায় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেগুলো হলো সংবাদপত্রের করপোরেট ট্যাক্স ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাদ দেওয়া, বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর উৎস কর (টিডিএস) ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, উৎসস্থলে কাঁচামালের ওপর ৫ শতাংশের বদলে অগ্রিম কর (এআইটি) শূন্য শতাংশ করা এবং কর্মীর আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্ত করা ও তাঁর বাড়িভাড়ার পুরোটাই করমুক্ত করা।

গত বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্পের জন্য এই বাজেটে কোনো ঘোষণা নেই।

প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অন্যান্য শিল্পে যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সংবাদপত্র শিল্পে তা দেওয়া হচ্ছে না। এর অর্থ হলো এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করানো। এটা মোটেই কাম্য নয়। আশা করি, সরকার এই শিল্পকে বাঁচাতে, মিডিয়াকে বাঁচাতে সব জায়গায় যে ধরনের প্রণোদনা দিয়েছেন, সংবাদপত্র শিল্পকেও এর আওতায় নিয়ে আসবেন।’

নোয়াব বলছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছে সংবাদপত্র শিল্প। বিজ্ঞাপন শূন্যের কোঠায় নেমেছে। গ্রাহকও কমেছে। এ অবস্থায় সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখাই কঠিন। কিন্তু সংবাদপত্র সেবা শিল্প হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। করোনা সংকটে সব খাতই প্রণোদনা, সহায়তা বা ছাড় পেয়েছে। সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম এসবের বাইরে আছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া নোয়াবের চিঠিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে পত্রিকাগুলোর বিজ্ঞাপন শূন্যের কোঠায় নেমেছে, পত্রিকার গ্রাহক ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে প্রচুর আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। পত্রিকাগুলোর মাসিক বেতন ব্যয়, অফিসভাড়া, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, পত্রিকা পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য সব ব্যয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পত্রিকা প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

নোয়াব বলছে, বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে ছাপা সংবাদপত্র এমনিতেই রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। আর করোনাভাইরাসের মহামারি সংবাদপত্র শিল্পের জন্য আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানের এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সংবাদপত্র শিল্পের টিকে থাকা কঠিন।


প্রিন্ট
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেয়াতে এক কলেজ ছাত্রী আ/ত্মহত্যা,,,

সংবাদপত্র শিল্প এবারও কিছু পেল না বাজেটে

আপডেট টাইম : ১০:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবাদপত্র শিল্পের জন্য আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো সুখবর নেই। করপোরেট কর কমানো, নিউজপ্রিন্ট আমদানিতে শুল্ক কমানো, অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারসহ নানা দাবি থাকলেও অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এসবের কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি।

২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে সংবাদপত্র শিল্প রক্ষায় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেগুলো হলো সংবাদপত্রের করপোরেট ট্যাক্স ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, নিউজপ্রিন্ট আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাদ দেওয়া, বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর উৎস কর (টিডিএস) ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা, উৎসস্থলে কাঁচামালের ওপর ৫ শতাংশের বদলে অগ্রিম কর (এআইটি) শূন্য শতাংশ করা এবং কর্মীর আয়কর থেকে প্রতিষ্ঠানকে দায়মুক্ত করা ও তাঁর বাড়িভাড়ার পুরোটাই করমুক্ত করা।

গত বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু সংবাদপত্র শিল্পের জন্য এই বাজেটে কোনো ঘোষণা নেই।

প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অন্যান্য শিল্পে যে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সংবাদপত্র শিল্পে তা দেওয়া হচ্ছে না। এর অর্থ হলো এই শিল্পকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করানো। এটা মোটেই কাম্য নয়। আশা করি, সরকার এই শিল্পকে বাঁচাতে, মিডিয়াকে বাঁচাতে সব জায়গায় যে ধরনের প্রণোদনা দিয়েছেন, সংবাদপত্র শিল্পকেও এর আওতায় নিয়ে আসবেন।’

নোয়াব বলছে, করোনার প্রাদুর্ভাবে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়েছে সংবাদপত্র শিল্প। বিজ্ঞাপন শূন্যের কোঠায় নেমেছে। গ্রাহকও কমেছে। এ অবস্থায় সংবাদপত্র টিকিয়ে রাখাই কঠিন। কিন্তু সংবাদপত্র সেবা শিল্প হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। করোনা সংকটে সব খাতই প্রণোদনা, সহায়তা বা ছাড় পেয়েছে। সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম এসবের বাইরে আছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এ শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া নোয়াবের চিঠিতে বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে পত্রিকাগুলোর বিজ্ঞাপন শূন্যের কোঠায় নেমেছে, পত্রিকার গ্রাহক ব্যাপকভাবে কমেছে। ফলে প্রচুর আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। পত্রিকাগুলোর মাসিক বেতন ব্যয়, অফিসভাড়া, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, পত্রিকা পরিবহন ব্যয়সহ অন্যান্য সব ব্যয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি পত্রিকা প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

নোয়াব বলছে, বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল মিডিয়ার যুগে ছাপা সংবাদপত্র এমনিতেই রুগ্ণ শিল্পে পরিণত হয়েছে। আর করোনাভাইরাসের মহামারি সংবাদপত্র শিল্পের জন্য আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানের এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারের সহযোগিতা ছাড়া সংবাদপত্র শিল্পের টিকে থাকা কঠিন।


প্রিন্ট